কলারোয়ায় ভয়াবহ অগ্ন্কিান্ড, ৪ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভষ্মীভূত, ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮ ||

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়া বাজারের প্রাণকেন্দ্র বলফিল্ড সড়কে অবস্থিত (শিশু ল্যাবরেটরী স্কুলের বিপরীতে) ৪ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ভোর রাতে ঘটা এই অগ্নিকান্ডে ২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ও ২টি আংশিক ভষ্মীভূত হয়েছে। এই ৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩টি ফার্নিচার ও ১টি তুলার দোকান। ক্ষয়-ক্ষতির প্রকৃত চিত্র ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিরা নির্ণয় করতে না পারলেও তাদের ধারণা অনুযায়ী ২০ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ঘন্টা দেড়েক ধরে আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে দোকানগুলোকে। সকাল ৬ টার দিকে সাতক্ষীরা থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আধাঘন্টার বেশি সময় ধরে প্রচেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তা না হলে পুরো এলাকাটিতে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়তো বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ফার্নিচার ব্যবসায়ী আকরম হোসেন ও আব্দুল খালেক শুক্রবার বিকেলে সাংবাদিকদের জানান, ভোরে আগুন লাগার পরপরই তারা থানায় জানান ও নিজেরা আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভানোয় সহায়তা করে। এরপর ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থলে এসে আগুন পুরোপুরি নেভাতে সক্ষম হন। এরআগে ২টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তুলার দোকানটি স্বল্প সময়ের মধ্যে পুড়ে যায়। তারপর ২টি ফার্নিচারের দোকানও পুড়ে যায়। তুলার দোকানের পার্শ্বে আকরম হোসেনের ফার্নিচারের দোকানের দামি মেশিনারিজসহ আসবাবপত্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ফার্নিচার ব্যবসায়ীদের মধ্যে আকরম হোসেনের ৮ লাখ, আব্দুল খালেকের ৩ লাখ ও বদরুলের ৫ লাখ টাকা এবং তুলা ব্যবসায়ী সাইদুরের ৩ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা যায়, সর্বত্র ভষ্মাবশেষ পড়ে আছে। সেখান থেকে তখনও আগুনের তাপ বিস্তারসহ ধোঁয়া নির্গমন হচ্ছিলো। ২টি দোকান পুরোপুরি পুড়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থল একটি ফাঁকা স্থানে পরিণত হয়েছে। ফার্নিচার ব্যবসায়ী আকরম হোসেন ও আব্দুল খালেক জানান, তুলার দোকানের বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে এ আগুনের সূত্রপাত ঘটতে পারে বলে তাদের ধারণা। কেননা, কিছুদিন আগে এই তুলার দোকানে আগুন লেগেছিলো। স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় সেই আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছিলো। শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল সজেমিনে পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন, কলারোয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আরাফাত হোসেন, বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলিমুর রহমান, নির্বাহী সদস্য সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদ, উপজেলা দুপ্রক’র সাধারণ সম্পাদক প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান প্রমুখ। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আকরম হোসেন জানান, তিনি এ বিষয়ে থানায় জিডি করেছেন। কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মারুফ আহম্মদ সাংবাদিকদের জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যেয়ে আগুন নেভানোর কাজে সহায়তাসহ গোটা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের টিম এসে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে এ আগুনের সূত্রপাত ঘটতে পারে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেছেন।