তালার কুমিরা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ছাদ ধসে পড়ায় উদ্বিগ্ন অভিভাবক মহল


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: তালা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুমিরা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি এখন পাঠদানের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। ভবনের ছাদ ধসে পড়ায় অজানা দুর্ঘটনার আশঙ্কায় প্রতিনিয়ত শিক্ষাগ্রহণ করে আসছে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। জানা যায়, নারী শিক্ষায় দুরাবস্থা দেখে তাদেরকে শিক্ষিত করার মনমানসিকতা থেকে ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠান তৈরীর উদ্যোগ নেন কাফেলা পত্রিকার সম্পাদক বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মরহুম আব্দুল মোতালেব। তার হাত ধরেই এ এলাকার গুণীজনদের নিয়ে গড়ে ওঠে নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আর শিক্ষকদের পাঠদানের আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় উপজেলার নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেশ সুনামের সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতি বছর এখান থেকে অসংখ্য ছাত্রীরা ভালো ফলাফল অর্জন করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি, বেসরকারি কাজে অংশগ্রহণ করছে। ১৯৯৩ সাল থেকে মাধ্যমিক শিক্ষাস্তর পর্যন্ত সকল পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। শিক্ষক কর্মচারীসহ সবমিলিয়ে ৩০ জন দক্ষ ব্যক্তিত্ব এখানে নিরলস শ্রম দিয়ে আসছেন। দীর্ঘ প্রাচীন প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বিল্ডিংগুলো জরাজীর্ণ হয়ে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে প্রায় এক দশক। বিভিন্ন সময় সংস্কারের ছোয়া লাগালেও বর্তমানে খুটির জোর ধরে রাখা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন স্থান থেকে ছাদ ধসে পড়ছে। রডগুলো একেবারেই বেরিয়ে বাকিটুকু ধসে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন শিক্ষক ও ছাত্রীবৃন্দ। প্রতিষ্ঠানের ৬ শতাধিক ছাত্রী এখানে লেখাপড়া করে। মাস দুয়েক পরেই তাদের পুরো বছরের অর্জিত জ্ঞান দিয়ে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ সময়টিতে পাঠদানে বেশি মনোযোগী হওয়ার কথা থাকলেও অনেক অভিভাবক দুর্ঘটনার আশঙ্কায় তাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীগণ তাদের মেয়েকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। বিষয়টি বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ নতুন ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন বলে জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দাশ। তিনি আরও জানান, আয়ের কোনো উৎস না থাকায় এবং নারী প্রতিষ্ঠান হওয়ায় নিজস্ব অর্থায়নে বিল্ডিং নির্মাণ একেবারেই অসম্ভব। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদ আন্তরিক হওয়ায় এমনকি এই আসনের এমপি এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ সরেজমিনে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন এবং অতিদ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের জোরালো দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার জানান, বিদ্যালয় ভবনের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। নতুন ভবন নির্মাণের জোরালো দাবিটি সকলের সমন্বয়ে অতিদ্রুত বাস্তবায়নে জোর প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রেখেছি। বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের কথা মাথায় রেখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি বলে জানান, তালা-কলারোয়া আসনের সংসদ সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ।