রাসায়নিক হামলা নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর কিছু নেই: ডা. রুহুল হক এমপি


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: বুধবার রাত ১০টায় বেসরকারি টেলিভিশন ডিবিসি নিউজ রাজকাহনে ১ম অংশের টকশো’তে নবনীতা চৌধুরীর সঞ্চালনায় ‘রাসায়নিক হামলার প্রস্ততি!’ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
টকশো’তে অংশ নেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ম-লীর অন্যতম সদস্য, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন হাড়জোড়া বিশেষজ্ঞ, সাবেক সফল স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপি, নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আব্দুর রশিদ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার।
নবনীতা চৌধুরীর প্রশ্নের উত্তরে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপি বলেন, রাসায়নিক দ্রব্য বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। এগুলো নিয়ে বিশেষ আতঙ্ক ছড়ানোর কোন প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। এসব বিষয়ে চিকিৎসাকরা অভিজ্ঞ।
বর্তমানে আমি যে তথ্যটি সংগ্রহ করেছি সেটি হল ডিজি হেলথ ও মন্ত্রণালয় থেকে জেলা হাসপাতালগুলো যেন সতর্ক ও প্রস্তুত থাকে সে বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে আমরা চিকিৎসাকরা আতঙ্কিত নই এবং জনগণকেও বলতে চাই আপনাদেরকেও কোন আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। আপনারা জানেন, রাসায়নিক দ্রব্য আমাদের দেশে কিংবা আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে ব্যান্ড। এমনকি পৃথিবীর প্রায় সকল দেশে একটি চুক্তি সাক্ষর করে রাসায়নিক অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।’ উল্লেখ্য রাসায়নিক হামলার আশঙ্কা করে দেশের হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। তবে দেশে রাসায়নিক হামলার এই মুহুর্তে কোন আশঙ্কা নেই কিংবা আতঙ্কিত হওয়ারও দরকার নেই বলে সকল বক্তারা সহমত পোষণ করেন।
কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান হত্যার ঘটনায় আরও দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী
নিয়াজ কওছার তুহিন: কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কে.এম মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আরও দুই আসামি হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে আদালতে স্বীকারেক্তি প্রদান করেছে। শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত ইরফান ঢালীর ছেলে মিনারুল ইসলাম খোকন ও কৃষ্ণনগর গ্রামের শৈলেন্দ্রনাথ মন্ডলের ছেলে রণজিৎ মন্ডলকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করলে তারা দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান হাফিজুর রহমান। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া কৃষ্ণনগরের বেনাদোনা গ্রামের মৃত মোক্তার বিশ^াসের ছেলে মোজাফফর বিশ^াস হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়সহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে আদালতে জবানবন্দী প্রদান করে।
থানা সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হত্যা মামলার ৪ নম্বর আসামি কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের বরকত গাজীর ছেলে রেজাউল ইসলাম (৪৫) এর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। এসময় বিদ্যুৎ লাইনের দুই ব্যান্ডেল চোরাই তার, এলইডি টিভি, অবৈধ কারেন্ট জাল ও বিভিন্ন প্রকারের চকলেট উদ্ধার হয়। তবে মোশাররফ হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলার আসামি রেজাউলকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। বৃহস্পতিবার মোশারাফ হত্যার ঘটনায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে কৃষ্ণনগর গ্রামের সুন্দর আলী তরফদারের ছেলে আব্দুল হামিদ তরফদারকে কৃষ্ণনগর বাজার থেকে আটক করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছিলো।
এদিকে চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত পৃথক অভিযান চালিয়ে এক গ্রামপুলিশসহ মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন বেনাদোনা গ্রামের মৃত মোক্তার আলী বিশ^াসের ছেলে মোজাফফর বিশ^াস (৪৫), কৃষ্ণনগর গ্রামের চিত্তরঞ্জন ঘোষের ছেলে মন্টু ঘোষ (৩৫), মামলার প্রধান আসামি ইউপি সদস্য আব্দুল জালিল গাইনের মামা শ্যামনগরের গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত ইরফান ঢালীর ছেলে মিনারুল ইসলাম খোকন (৪৩), কৃষ্ণনগর গ্রামের শৈলেন্দ্রনাথ মন্ডলের ছেলে রণজিৎ মন্ডল (৩৫) ও কালিকাপুর গ্রামের হাজিরউদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের গ্রামপুলিশ রাজগুল বিশ্বাস (৪০)। মিনারুল ইসলাম খোকন ঢালীর বাড়ি থেকে জলিল গাইনের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, দু’টি চায়নিজ কুড়াল ও একটি রাম দা উদ্ধার করা হয়। মামলার এজাহার ও গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকান্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব হোসেন।
এদিকে জাপা’র কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখত, জেলা জাতীয় পাটির সভাপতি আজাহার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান আশু, কালিগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী, শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ মরহুম কেএম মোশাররফ হোসেনের কবর জিয়ারত করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। নেতৃবৃন্দ হত্যাকান্ডে জাড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এবং নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সে লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। আজ শুক্রবার বাদ জুমআ’ কৃষ্ণনগরে কেএম মোশাররফ হোসেনের নিজস্ব বাসভবনে তার রূহের মাগফিরাত কামনা করে দেয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।