কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগরে চেয়ারম্যান মোশাররফ হত্যায় জড়িত সন্দেহে ইউপি সদস্য ফজলু গাজী আটক


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮ ||

 

নিয়াজ কওছার তুহিন: কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম মোশাররফ হোসেন হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে পুলিশ কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য ফজলু গাজীকে (৪২) আটক করেছে। শনিবার সকাল ১০ টার দিকে থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ কৃষ্ণনগর বাজার থেকে তাকে আটক করে। ফজলু গাজী কৃষ্ণনগর ইউপি’র ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ফজের আলী গাজীর ছেলে।
পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব হোসেন ইউপি সদস্য ফজলু গাজীকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চেয়ারম্যান মোশাররফ হত্যা মামলার সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার তাকে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে চেয়ারম্যান কেএম মোশাররফ হোসেনের (৫২) হত্যকান্ডে জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শনিবার বেলা ১১ টায় মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও ইজিবাইক নিয়ে একটি র‌্যালি কৃষ্ণনগর থেকে বের হয়ে উপজেলা সদরে এসে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরবর্তীতে বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে মানববন্ধন শেষে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল প্রাঙ্গনে পূণরায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এসময় নিহত চেয়ারম্যানের বড় মেয়ে ও হত্যা মামলার বাদী সাফিয়া পারভীনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড. শেখ মোজাহার হোসেন কান্টু। মুজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডিএম সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি ও কুশুলিয়া ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান খান লতিফুর রহমান বাবলু, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক অনীক মেহেদী, নিহত চেয়ারম্যানের আত্মীয় আব্দুল আজিজ গাইন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন থেকে বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও জেলা জাতীয় পার্টির নেতা মোশাররফ হোসেনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এটা একটা পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। পুলিশ মামলার প্রধান আসামি সন্ত্রাসী জলিল গাইনকে নিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর অস্ত্র উদ্ধারে গেলে তার সহযোগীরা নিজেদের দোষ আড়াল করতে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। হত্যাকান্ডে জড়িত অনেককেই পুলিশ এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি। বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন থেকে সকল আসামি এবং হত্যার পরিকল্পনাকারীদের গ্রেফতারপূর্বক ফাঁসি কার্যকরের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে।