কালিগঞ্জে ৫১মন্ডপে জোরেশোরে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি


প্রকাশিত : September 26, 2018 ||

নিয়াজ কওছার তুহিন: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আর মাত্র দু’সপ্তাহ বাকী। পূজাকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে এখন সাজসাজ রব। ৯ অক্টোবর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। আর মহাপঞ্চমী পূজার মধ্য দিয়ে ১৪ অক্টোবর শুরু হবে মূল উৎসব। ১৯ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে দেবীর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ইতি ঘটবে শারদীয় দূর্গোৎসবের।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক সনৎ কুমার গাইন জানান, এ বছর উপজেলার ১২ ইউনিয়নে মোট ৫১ টি সার্বজনীন মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। বিগত বছরের ন্যায় এবারও সর্বাধিক ৯টি মন্ডপে পূজা হচ্ছে উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে। এছাড়া কৃষ্ণনগর ইউনিয়নে ২টি, চাম্পাফুল ইউনিয়নে ৬টি, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নে ৪টি, কুশলিয়া ইউনিয়নে ৭টি, নলতা ইউনিয়নে ২টি, তারালী ইউনিয়নে ৩টি, ভাড়াশিমলা ইউনিয়নে ৩টি, মথুরেশপুর ইউনিয়নে ৫টি, ধলবাড়িয়া ইউনিয়নে ৪টি, রতনপুর ইউনিয়নে ৩টি এবং মৌতলা ইউনিয়নে ৩টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
কৃষ্ণনগর ইউনিয়নসহ আরও কয়েকটি মন্ডপে পূজা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ^াস পাওয়া গেছে।
এদিকে সরেজমিন বিভিন্ন পূজা মন্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি মন্ডপের সম্মুখে বিশাল আকৃতির গেইট ও মনোরম প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ চলছে বেশ দ্রুত গতিতে। উপজেলার সকল মন্ডপে প্রতিমা তৈরীর কাজ প্রায় শেষ। শেষ মুহূর্তে চলছে রঙ-তুলির আচড় ও প্রতিমার সাজসজ্জার কাজ।
দূর্গা পূজা পাঁচ দিন ধরে অনুষ্ঠিত হয়। মা দূর্গার অর্চনার পাশাপাশি একই মঞ্চে দেবী মা লক্ষী, মা সরস্বতী এবং দেবতা শ্রী গণেশ ও শ্রী কার্তিকেরও পূজা করা হয়। এসময়টাতে ঢাকের বাদ্য আর শিউলি ফুলের মিষ্টি গন্ধে মাতোয়ারা হয় সনাতন ধর্মাবলম্বী সকল বয়সের মানুষ। দেবী দূর্গা এবার ঘোটকে অর্থাৎ ঘোড়ায় মর্তালোকে আগমণ করবেন এবং ‘দোলা’য় স্বর্গলোকে ফিরে যাবেন। শাস্ত্রমতে দেবীর ঘোটকে আগমণ শুভ নয়। ঘটতে পারে ছত্রভঙ্গ। রয়েছে দুর্যোগের সম্ভাবনা। তাছাড়া দোলায় দেবীর স্বর্গলোকে গমণের খবরও নেতিবাচক। এর ফলে হতে পারে মড়ক-এমনটাই জানালেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক অসিত সেন।