শ্যামনগরে সরকারি ঘর পাচ্ছে ছিন্নমূল ৪০০ পরিবার


প্রকাশিত : অক্টোবর ১, ২০১৮ ||

শ্যামনগর (সদর) প্রতিনিধি: একখন্ড জমি আছে কিন্তু মাথা গোজার ঠাঁই নেই। এমন ছিন্নমূল মানুষের কথা বিবেচনা করে সরকার ইউনিয়ন ভিত্তিক তালিকা প্রনয়ন করে ঘর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। এর বাস্তবিকতায় সরকার ইতোমধ্যে শ্যামনগর উপজেলায় ১২ ইউনিয়নে হতদরিদ্র ৪০০ পরিবারকে ঘর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওই প্রকল্পের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজজামানের তৎপরতায় ঘর নির্মাণের কাজ দেখভাল করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ উপজেলা শ্যামনগর। আইলা, সিডরের মত প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে প্রায় এক দশক ধরে এই উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ গৃহহারা হয়ে পড়েছে। অনেকের সামান্য বসতভিটা থাকলেও নেই ঘর। ঘর নির্মাণ করারও সক্ষমতা নেই। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে আওয়ামী লীগ সরকার সারা দেশে দৃশ্যমান উন্নয়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল সাতক্ষীরা জেলার সুন্দরবন ঘেষা শ্যামনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে সরকারি ঘর পাচ্ছে ৪০০ ছিন্নমুল পরিবার। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজজামান বলেন, ২০১৮/১৯ অর্থ বছরে শ্যামনগর উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হতে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দে ৪০০ দরিদ্র পরিবারকে ঘর নির্মান করে দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রতিটি ঘরে ১ লক্ষ করে ৪০০ ঘরের ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এসকল ঘর নির্মানে আরসিসি খুটি তৈরি সহ ইশপাতের কাঠামো তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। কি ধরনের ঘর হবে এবং এর উপকার ভোগীর ধরন জানতে চাইলে কামরুজজামান বলেন এটির নাম আশ্রয়ন প্রকল্প দ্বিতীয়। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সাধারন বরাদ্দ। যাদের বসত ভিটা আছে কিন্তু ঘর নাই, সরকারি নির্দেশনা আছে তাদের এই ঘর দিতে হবে। সে অনুযায়ী মাঠ পর্যায় থেকে উপকার ভোগীর তালিকা তৈরি করে কয়েক দফা যাচায় করে তালিকা চুড়ান্ত করা হয়েছে। ঘরের ডিজাইন টিনের ছাউনি, আরসিসি খুটি, টিনের বেড়া ও লোহার ইশপাতের কাঠামো সাথে টয়লেট যুক্ত। শ্যামনগর উপজেলায় ১২ ইউনিয়ন যথাক্রমে ভূরুলিয়া, কাশিমাড়ী, শ্যামনগর সদর, নূরনগর, কৈখালী, রমজাননগর, ঈশ্বরীপুর, মুন্সিগঞ্জ, বুড়িগোয়ালীনি, আটুলিয়া, পদ্মপুকুর ও গাবুরাতে এই ঘর নির্মান করা হবে। জন সংখ্যার আনুপাতিক হার হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়নের এই ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঘর নির্মানের জন্য সরকারি নীতিমালায় কোন ঠিকাদার নিয়োগের বিধান না থাকায় উপজেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রনে নির্মান করা হবে দৃশ্যমান এই ৪০০টি ঘর। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আসনের এমপি এস,এম জগলুল হায়দার বলেন, বর্তমান সরকার দরিদ্র বান্ধব। সরকার মৌলিক অধিকারের চাহিদা অনুযায়ী হতদরিদ্রদের মাঝে ঘর নির্মান করে দিচ্ছে।