ধর্ম যার যার উৎসব সবার: মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ


প্রকাশিত : অক্টোবর ৯, ২০১৮ ||

 

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা হল হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে এ পূজা। এর কিছুদিন পরেই অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাই এই উৎসবকে ঘিরে একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে পারে। আপনারা সেদিকে খেয়াল রাখবেন। ভয়ের কোন কারণ নেই। ১৯৭১ সালে আমাদের মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেমন আমাদের পাশে ছিলেন ঠিক তেমনি আজও তাঁর সুযোগ্যা কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাদের পাশে রয়েছেন। অতীতে অনেক সরকারের আমলে হিন্দুদের যোগ্যতা মেধা থাকলেও নামের কারণে চাকরি দেওয়া হয়নি। আর এখন তা হয় না। কারণ আমাদের নেত্রী সাম্প্রদায়িকতার উর্দ্ধে রয়েছেন। তিনি মেধা ও যোগ্যতায় বিশ্বাসী। তাই আজ হিন্দু ছেলেমেয়ের চাকরি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এক শ্রেনীর লোক ভুল সিন্ধান্ত নিয়ে ভারতে যাচ্ছে। খোজ নিয়ে দেখেন সেখানেও তারা ব্যক্তি স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত। তাই আমার আহবান আসুন আমাদের পূর্ব পুরুষরা যে মাটি ও মানুষের সাথে মিশে এখানে বসবাস করে গেছেন ঠিক আমরাও বসসাস করি। এ দেশ হিন্দু মুসলিম সকলের। কিছু লোক সাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। তারা গায়ের জোরে অন্যায় অত্যাচার করে। তারপরও আমাদের ঐক্যবন্ধ হয়ে ওই অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। আসছে শারদীয় উৎসব। পূজা হিন্দুদের হলেও মুসলিম ভাই’রা আমাদের মেহমান। ধর্ম যার যার উৎসব সকলের। তাদেরকে সাথে নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করতে হবে। হিংসা করবেন না। পরস্পরের বিরুদ্ধে সু-সম্পর্ক গড়ে তুলুন। উৎসবটি যেন ধর্মীয় এবং দেশীয় সংস্কৃতিপূর্ণ হয়। আরুতি বা সাংস্কৃতিক অনুষ্টানের পরিবর্তে যদি কুরুচি বা অপসংস্কৃতি হয় এর প্রভাব কিন্তু ধর্মের ওপরও পড়ে। তাই এমন কিছু করবেন না যেন আমাদের ভাবমুর্ত্তি খুন্ন হয়।

সোমবার ডুমুরিয়ায় দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি মৎস্য ও প্রানিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র এমপি এ কথা বলেন। উপজেলার শহীদ জোবায়েদ আলী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. শাহনাজ বেগম সভাপতিত্ব করেন। এ সময় বক্তৃতা করেন অফিসার ইনচার্জ মো. হাবিল হোসেন, উপজেলা ত্রাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন, জেলা পরিষদ সদস্য সরদার আবু সালেহ, শোভা রানী হালদার, ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, শেখ জয়নাল আবেদীন, মোস্তফা সরোয়ার, সুরঞ্জিত কুমার বৈদ্য, গাজী হুমায়ুন কবির বুলু, প্রতাপ রায়, রেজোওয়ান হোসেন মোল্যা, হিমাংশু বিশ্বাস, আওয়ামী লীগ নেতা শাহনেওয়াজ হোসেন জোয়ার্দার, পল্লী বিদ্যুতের এরিয়া ম্যানেজার আব্দুল মতিন, ফায়ার সার্ভিস কর্মকতা হামিদ জোয়ার্দার, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা শিশু দে, পুজা উদযাপন পরিষদ’র গোবিন্দ ঘোষ, গৌর চন্দ্র ঢালী, সুষমা মন্ডল, রঞ্জন জোয়াদ্দার, প্রনব কান্তি সরদার, সুরঞ্জন ঘোষ, বিকাশ চন্দ্র মন্ডল, অশোক সাহা, প্রফুল্ল্য চন্দ্র মল্লিক, দিলিপ মন্ডল প্রমুখ। সভায় উপজেলার ১৯৮টি পূজা মন্দিরের সভাপতি ও সম্পাদক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।