তালার কৃষ্ণকাটি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক তপন দে’র বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ


প্রকাশিত : অক্টোবর ১৮, ২০১৮ ||

ইলিয়াস হোসেন, তালা (সদর): তালার কৃষ্ণকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন দে (ইনডেক্স নং- ২১০৮১০) এর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অবৈধ কমিটি গঠন, নিয়োগ বাণিজ্য, স্কুলের মামলা পরিচালনার কথা বলে লাখ টাকা আত্মসাৎ, টাকার বিনিময়ে টটলিস্টে রোল পরিবর্তন, অতিরিক্ত ফিস আদায়, স্কুলের জমির হারির টাকা আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের তীর তার দিকে। ইতোমধ্যে তার অনিয়মের কথা লোকমুখে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য পরিবেশনও করছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা ছাড়াও অত্র স্কুলের সহকারী শিক্ষক বাদী হয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেছে। এঘটনায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে সহাকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড স্থগীত হয়েছে।
লিখিত অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক তপন কুমার দে ভুয়া দাতা সদস্যের নামে কমিটি গঠন করে স্কুল পরিচালনা করছেন। অভিযোগে উল্লেখ আছে, স্কুল এর মুল বিল্ডিং এবং খেলার মাঠ দুইটি দাগের জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যার একটি দাগ নং- ৪৬০, খতিয়ান নং-২১৫, জমির পরিমান ৩৫ শতক অপরটির দাগনং ২৪৮, খতিয়ান নং ২৩৮, জমির পরিমান ১৬ শতক দুইটি মিলে মোট ৫১ শতক জমি। যার মালিক উপজেলার কৃষ্ণকাটি গ্রামের আনু মোড়লের ছেলে মৃত জিন্দার মোড়ল, মৃত ইছহাক মোড়ল এবং একই গ্রামের খোকাই মোড়লের ছেলে মৃত ফটিক মোড়ল। এসকল ব্যক্তি এসএ খতিয়ানের মালিক। কৃষ্ণকাটি গ্রামের মৃত নয়ন মোড়লের ছেলে বাবুরালী মোড়ল এর নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা ও তার যোগসাজসে অনিয়মের রাজত্ব কায়েম করার লক্ষ্যে তাকে ভুয়া দাতা সদস্য করেছে প্রধান শিক্ষক। বাবুরালী মোড়ল যে জমি দান হিসাবে দেখিয়েছে তার দাগ নং- ৪৭১ ও ৪৭২, খতিয়ান নং-১৮৩, জমির পরিমান ৬১ শতক। এসএ খতিয়ানের মালিক হিসাবে বাবুরালীর পিতা মৃত নয়ন মোড়ল। নয়ন মোড়ল ইতোপূর্বে যে জমি দান করেছে ওয়ারেশ সুত্রে বাবুরালী মোড়ল বর্তমান ৫৪নং কৃষ্ণকাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য হিসাবে বহাল আছে। বাবুরালী মোড়ল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দান করা একই দাগ খতিয়ানের ভুয়া দলিল বানিয়ে কৃষ্ণকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দান দেখিয়েছে প্রধান শিক্ষকের যোগসাজসে দাতা সদস্য হয়েছে। বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর জমির আসল মালিক পক্ষ বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, স্কুলের হারির ৩৫ হাজার টাকা স্কুলের সামনে খেলার মাঠ সদ্য মাটি ভরাটের কথা প্রধান শিক্ষক বলেছে। কিন্তু লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিন ঘুরে মাঠে মাটি ভরাট দৃশ্যমান নয়। এব্যাপারে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সাথে কথা বললে তারা মাঠে মাটি ভরাটের কোন সত্যতা দেখাতে পারেনি। বর্তমানে খেলার মাঠে দীর্ঘ বছরের সবুজ ঘাস দৃশ্যমান রয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষক তপন কুমার দে স্কুলের জমির হারি বাবদ ৩৫ হাজার টাকা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ থেকে অনুদান নেওয়ার জন্য সভাপতির মাধ্যমে খরচ করেছে বলে ঘোষনগর খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় এই প্রতিবেদকের নিকট স্বীকার করেছে। অভিভাবক, সুধী সমাজ ও শিক্ষার্থীরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরের উদ্বর্তন কর্মকর্তাদের নিকট প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম দুর্নীতির তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবি জানিয়েছেন। এব্যাপারে শিক্ষক তপন কুমার দে’র সাথে মুঠোফনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি বলেন, আমি এখন ব্যস্ত আছি কথা বলার সময় নেই।
আইনজীবী সমিতির দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিচারপতি এসএইচ নূরুল হুদা