ভোট বিশ্লেষণ: সাতক্ষীরা-৩ আসনে আওয়ামী লীগই ৪বার নির্বাচিত হয়েছে


প্রকাশিত : ডিসেম্বর ৪, ২০১৮ ||

পত্রদূত রিপোর্ট: আশাশুনি ও দেবহাটা উপজেলা এবং কালিগঞ্জ উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-৩ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৭ হাজার ২৯০ জন। এরমধ্যে আশাশুনি উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ভোটার রয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ৫১৬ জন। দেবহাটার ৫টি ইউনিয়নে ৯৭ হাজার ৮২৮ জন এবং কালিগঞ্জের ৪টি ইউনিয়নে ভোটার আছেন ৭৬ হাজার ৯৪৬ জন।
অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত আসনটি শুধুমাত্র আশাশুনি উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ছিল। নবম সংসদ নির্বাচন থেকে আশাশুনি উপজেলার সাথে দেবহাটা উপজেলা এবং কালিগঞ্জেরও ৪টি ইউনিয়ন যুক্ত করা হয়েছে। সাবেক এবং বর্তমান সাতক্ষীরা-৩ আসনে বিগত ১০টি নির্বাচনের ৪টিতে আওয়ামী লীগ, দুই বার জামাত এবং বিএনপি, জাতীয় পাটি, মুসলিম লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একবার করে নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে আসনটির সংসদ সদস্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শৈল্য চিকিৎসক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ. ফ. ম রুহুল হক। দশম সংসদ নির্বাচনে বিরোধী দলের বর্জনের মুখে এই আসনে ডা. রুহুল হক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ১ লাখ ৪২ হাজার ৭০৯ ভোট পেয়ে ডা. রুহুল হক প্রথমবারের মত নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে জামাতের মাও. রিয়াসাত আলী ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৫২ ভোট পান। এর আগে ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শুধুমাত্র আশাশুনি উপজেলা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-৩ আসনে জামাতের রিয়াসাত আলী ৭৩ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. মোখলেছুর রহমান পান ৫৬ হাজার ৯৮২ ভোট।
১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আশাশুনি থেকে ৩৯ হাজার ৭২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের ডা. মোখলেছুর রহমান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পাটির এড. স.ম সালাউদ্দিন পান ৩২ হাজার ৮৭ ভোট। জামাতের রিয়াছাত আলী ২৩ হাজার ৪৬২ ভোট ও বিএনপির অধ্যক্ষ আলী আহমেদ ৬ হাজার ৪৫৯ ভোট পান। এর আগে ১৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৯৬ সকল দলের বর্জনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অধ্যক্ষ আলী আহমেদ নির্বাচিত হন।
১৯৯৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আশাশুনিতে ৩১ হাজার ৬৩১ ভোট পেয়ে জামাতের রিয়াছাত আলী নির্বাচিত হন। ঐ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হাফিজুর রহমান ২৯ হাজার ৬৮০ ভোট, জাতীয় পাটির এড. স. ম সালাউদ্দিন ১২ হাজার ৪৯৫ ভোট এবং বিএনপির আব্দুল হালিম পেয়েছিলেন ২ হাজার ৫৩২ ভোট। ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত একদলীয় চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পাটির এড. স. ম সালাউদ্দিন নির্বাচিত হন। এরপূর্বে ১৯৮৬ সালের ৭ মে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এড. স. ম সালাউদ্দিন ২২ হাজার ৪৬৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। জামাতের রিয়াছাত আলী ১৮ হাজার ৪০০ ভোট, আওয়ামী লীগের এসএম রুহুল আমিন ১৭ হাজার ৭৩৪ ভোট এবং বিএনপির কার্তিক চন্দ্র দাস পান ১১ হাজার ৪৬৫ ভোট।
১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আশাশুনি থেকে মুসলিম লীগের এড. আওসাফুর রহমান ১৫ হাজার ৩২৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনে বিএনপির বিডি চৌধুরী ১৪ হাজার ৪৮৫ ভোট, জাসদের কার্তিক চন্দ্র মন্ডল ১২ হাজার ৪২৭ ভোট, আওয়ামী লীগের আব্দুল মজিদ ৯ হাজার ১২২ ভোট পান।
১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এসএম নওয়াব আলী ৩২ হাজার ৯৭৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী কার্তিক চন্দ্র মন্ডল ১২ হাজার ৭৯৭ ভোট এবং ন্যাপের কেএমএ লতিফ পান ১৪ হাজার ৮৪৮ ভোট।