‘ইভিএমে ভোট দেওয়া সহজ, কিন্তু ভোটার স্লিপ নিয়ে বিড়ম্বনায় ভোটারা’


প্রকাশিত : December 30, 2018 ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রদ্ধতিতে ভোটাররা সহজে দিতে পারলেও
ভোটার স্লিপ নিয়ে নির্দিষ্ট বুথে ভোট দিতে বিড়ম্বনায় পড়ছেন। বিশেষ করে নারী ভোটারা বেশি এই বিড়াম্বনা শিকার হচ্ছেন। তবে ইভিএমে পুরষদের চেয়ে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশী লক্ষ্য করা গেছে।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে কথা হয় তরুণ ভোটার আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে। তিনি বলেন, আমি এই প্রথম ভোট দিলাম। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রদ্ধতিতে ভোট দেওয়া অনেক সহজ। মাত্র দুই চাপে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে আসলাম। আমার পছন্দের প্রার্র্থীকে ভোট দিয়ে আসলাম। কিন্তু ভোটার স্লিপ নিতে গিয়ে কিছু সময় লেগেছে।

এদিকে সাতক্ষীরা পল্লী মঙ্গল স্কুল কেন্দ্রে নারী ভোটারদের লম্বা লাইন। এখানে কথা হয় শাহনারা পারভীন, মারুফা বেগম, আরিফা বেগম ও রাজিয়া সুলতানায়সহ কয়েকজ নারী ভোটারের সাথে।
তারা বলেন, সকাল থেকে ভোট দিতে লাইনে দাড়িয়ে। লাইন শুধু লম্বা হচ্ছে। শুনেছি এই প্রদ্ধতিতে ভোট দেওয়া সহজ কিন্তু এতো দেরী কেন হচ্ছে। ভিতরে প্রবেশ করলে বলা ভোটার নাম্বার নিয়ে আসতে। কিন্তু ভোটার নাম্বার খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে ভোট কেন্দ্রে থেকে আবারও ফিরে আসতে হচ্ছে।
কোহিনুর নামে একজন ভোটার বলেন, আমার ভোটার নাম্বার খুজে পেলাম না সেজন্য ভোট না দিয়ে চলে যাচ্ছি।

প্রার্থীর পক্ষের ভোট কর্মীরাও বলেন, স্মার্ট কার্ড হওয়ার পর যে তালিকা হয়েছে। সেই তালিকা আমাদের কাছে দেওয়া হয়নি। আমাদের কাছে পুরাতন তালিকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই তালিকার সাথে এই ভোটার নাম্বারের মিল নেই। সে কারণে ভোটার নাম্বার খুজে পেতে দেরী হচ্ছে। অনেক ভোটারা ভোট না দিয়ে ফিরে যাচ্ছে।

এদিকে মোবাইলে এসএমএস পাঠানো হলে ফিরতে এসএমএস আসতে অনেক দেরী হচ্ছে। আবার অনেকে ফিরতি এসএমএস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন।
সাতক্ষীরা-২ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী মীর মোস্তাক আহমেদ রবি ভোট দিয়েছেন সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে। এদিকে ধানের শীষের প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক ৩৯টি মামলায় জেল হাজতে রয়েছেন।

এদিকে কয়েকটি কেন্দ্রে ঘুরে ধানের শীষের কোন পোলিং এজেন্ট খুজে পাওয়া যায়নি। এদিকে ইশা আন্দোলন ও বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নৌকার ব্যতিত অন্য কোন প্রার্থীর এজেন্ট থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। অনেক ভোটার অভিযোগ করেছেন, তাদের ভোট দিতে না দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা পৌরসভার রাজার বাগান-২ ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোতিনুর রহমান কচিকে মারধর করে বের করে দিয়েছে ছাত্রলীগের কর্মীরা।

প্রসঙ্গত, সাতক্ষীরা জেলার চারটি আসনে ৫৯৭ টি কেন্দ্রে এবার ১৫ লাখ ৬০ হাজার ৩১৯ জন ভোটর তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে ৭লাখ ৮১ হাজার ৫৩০ জন পুরুষ ভোটার ও নারী ভোটার ৭লাখ ৭৮ হাজার ৭৮৯ জন। এর মধ্যে সাতক্ষীরা-২ (আসনে) ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হবে। এই আসনটি ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয় নিয়ে গঠিত। সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের ২২জন বিভিন্ন প্রতীক নিয়ে তারা লড়ছেন।

সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিরসহ মোট ৭জন প্রার্থী বিভিন্ন প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এই আসনের মোট ভোটার ৪লাখ ২৩ হাজার ০৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২লাখ ১০ হাজার ৮৩৫ জন এবং নারী ভোটার ২লাখ ১২ হাজার ১৯৭ জন। সাতক্ষীরা-২ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিরসহ মোট ৬জন প্রার্থী বিভিন্ন প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এই আসনের মোট ভোটার ৩লাখ ৬৫ হাজার ২৬৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১লাখ ৭৭ হাজার ২৯০ জন এবং নারী ভোটার ১লাখ ৭৮ হাজার ৯৭৮ জন। সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-দেবহাটা ও কালিগঞ্জের আংশিক) আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ৩ জন লড়বেন । এই আসনের মোট ভোটার ৩লাখ ৮৭ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১লাখ ৯৫হাজার ৪৮০ জন এবং নারী ভোটার ১লাখ ৯১৪ হাজার ৮১৩ জন। সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের আংশিক) আওয়ামী লীগ ও বিএনপিরসহ মোট ৬জন প্রার্থী বিভিন্ন প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এই আসনের মোট ভোটার ৩লাখ ৯৩ হাজার ৭২৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১লাখ ৯৭ হাজার ৯২৫ জন এবং নারী ভোটার ১লাখ ৯৫ হাজার ৮০১ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।