অবিলম্বে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের আহŸান আরএসএফ’র


প্রকাশিত : জানুয়ারি ৪, ২০১৯ ||

ন্যাশনাল ডেস্ক: নির্বাচন সংক্রান্ত প্রতিবেদনের জেরে সাংবাদিক হেদায়েৎ হোসেন মোল্যা ও রাশিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের আহŸান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস্ (রিপোটার্স সান্স ফ্রন্টিয়ার্স-আরএসএফ)। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় কাজ করা প্যারিসভিত্তিক ওই অলাভজনক সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই তারা মামলার কবলে পড়েছেন।

ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউনে প্রকাশিত নির্বাচনের ফলাফল সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ‘সঠিক ও তথ্যভিত্তিক না হওয়া’র অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পত্রিকার খুলনা প্রতিনিধি মো. হেদায়েৎ হোসেন মোল্যাকে ১ জানুয়ারি দুপুরে আটক করে পুলিশ। ঢাকা ট্রিবিউনের পাশাপাশি বাংলা ট্রিবিউনের হয়েও কাজ করেন হেদায়েৎ। খুলনার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বটিয়াঘাটা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ চৌধুরীর দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২ জানুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৩-এর বিচারক নয়ন বিশ্বাস তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই অভিযোগে দৈনিক মানবজমিনের খুলনা প্রতিনিধি রাশিদুল ইসলামের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। তাকে খুঁজছে পুলিশ।
আরএসএফ’র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্বাচন পরবর্তী সময়ের সূচনা হয়েছে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি নেতিবাচক অবস্থানের মধ্য দিয়ে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে অসত্য তথ্য সরবরাহের’ কারণে গতকাল একজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের পর নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার বলি হয়েছেন সাংবাদিক হেদায়েৎ হোসেন মোল্যা, যিনি ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউনের জন্য কাজ করেন। ‘অসত্য তথ্য’ সরবরাহের মাধ্যমে তিনি সবমিলে যা করেছেন, তা হলো নথিভূক্ত ভোটারের সংখ্যার চেয়ে ২২,৪১৯ ভোট বেশি পড়ার ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একই অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন মানবজমিনের সাংবাদিক রাশিদুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধেও একই মামলা হওয়ার পর আত্মগোপনে আছেন তিনি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে ‘ভয়াবহ’ (ড্রাকোনিয়ান) আখ্যা দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মোল্যা ও ইসলাম এখন ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদÐের আশঙ্কায় রয়েছেন।
আরএসএফ’র এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান ডানিয়েল বাস্টার্ড বলেছেন, এই দু’জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে আমরা বাংলাদেশের প্রতি আহŸান জানাচ্ছি। তাদের একমাত্র অপরাধ ভোট পর্যবেক্ষণ; একটি কার্যকর গণতন্ত্রে সাংবাদিকের যা করা উচিত।’