পাইকগাছায় পুরাদমে বোরোর আবাদ শুরু হচ্ছে


প্রকাশিত : জানুয়ারি ৭, ২০১৯ ||

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): পাইকগাছায় প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে কৃষকরা বোরা আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছে। বোরো ধানের চারারোপন পুরাদমে এগিয়ে চলেছে। চলতি মৌসুমে ধানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা অধিক জমিতে বোরোর আবাদ করছে।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার ৭শ ৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে লক্ষমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে বোরো আবাদ হতে পারে বলে জানাগেছে। বোরোর ধানের চারা রোপন চলছে। এ পর্যন্ত ১শ ৮৫ হেক্টর বোরো আবাদ হয়েছে। বোরো আবাদের জন্য ২ শত ৮৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় বোরোর আবাদ পুরাদমে এগিয়ে চলেছে। উপজেলার গদাইপুর গ্রামের কৃষক শফিকুল, গোপালপুর গ্রামের আব্দুর রহিম জানান, এ বছর কয়েকদিনের প্রচন্ড শীতে বীজতলার চারা কিছুটা হলুদ বর্ণের ধারণ করলেও নিয়মিত পরিচর্যা করায় বীজতলা নষ্ট হয়নি। আমন ধান দেরিতে পাকায় বোরোচাষ একটু দেরি হয়ে যাচ্ছে। তারা জানায়, ঠিকমত পানি সরবরাহ না থাকায় বোরো চাষ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শীতের মধ্যে কৃষকরা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বোরো আবাদে ব্যন্ত সময় পার করছে। হঠাৎ শীত বেশি পড়ায় ধানের চারা রোপনের পর কিছু কিছু চারা লালছে হয়ে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, কয়েকদিনের তীব্রশীতে বোরোর কিছু কিছু বীজতলায় চারা হলুদ বর্ণ ধারণ করলেও বীজতলার কোন ক্ষতি হয়নি। বীজতলা সুরক্ষার জন্য তীব্র শীত ও কুয়াশা থেকে রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কৃষকদের। কুয়াশা ও সূর্যের আলো কম থাকায় এসময় কৃষকরা চারা রোপন করার রোপনকৃত চারা থেকে শেকড় জন্ম নিতে পারে না। তাছাড়া সূর্যের আলো ঠিকমত না পাওয়ায় খাদ্য তৈরি করতে পারে না। এর ফলে রোপনকৃত কিছু চারা বিবর্ণ ও লাল হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য জমিতে সন্ধ্যায় স্যালোর সাহায্যে পানি ভরে দিয়ে সকালে তা বের করে দিতে হবে। শীত কমে গেলে এ সমস্যা থাকবে না। তাছাড়া লবনাক্ত উপকূল এলাকার চাষাবাদ কিছুটা আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে। এ বছর ধানের দাম বেশি ও ফলন ভাল হওয়ায় উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরো বেশী জমিতে বোরোর আবাদ হচ্ছে।