শ্যামনগরে ইয়াবা সরবরাহে শিশুরা


প্রকাশিত : জানুয়ারি ১১, ২০১৯ ||

পত্রদূত ডেস্ক: মাদকের অধুনা সংস্করণ ইয়াবা সরবরাহের কাজে এখন বিদ্যালয় পড়–য়া শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে। এজেন্ট থেকে সেবী- এই দুই মাধ্যমে যেকোন পরিমানের ইয়াবা পৌছে দিলে তাদেরকে দেয়া হচ্ছে নির্ধারিত অংকের বকশিষ। তাতে করে একদিকে যেমন ঐ শিশুরাও ইয়াবা আসক্ত হয়ে পড়ছে, তেমনি তার সমবয়সী বন্ধুদের অনেকে একই কাজে জড়িয়ে যাচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এসব শিশুদের অনেকেরই বাবা ও মা পর্যন্ত বিষয়টি জানে। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে সন্তানকে এমন অপকর্ম হতে সরিয়ে রাখার পরিবর্তে তারাও নিজেদের সন্তানকে ব্যবহার করছে। বিশেষ করে শ্যামনগর উপজেলা সদরের বাদঘাটা গ্রামের কলোনী পাড়া এলাকায় বসবাসরত পরিবারগুলোর সন্তানরা এ কাজে সবচেয়ে বেশী জড়াচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়া গোপালপুর রোড থেকে শুরু করে বাদঘাটা দক্ষিণ প্রান্তের কিছু উঠতি বয়সী শিশুরাও ইয়াবা সরবরাহের সাতে জড়িত বলে তথ্য রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক শিশু শিক্ষার্থী স্বীকারোক্তি দিয়ে জানিয়েছে কোন কোন ক্ষেত্রে তারা শ্যামনগর থেকে ঢাকা পর্যন্ত ইয়াবার চালান আনা নেয়ার কাজ করে থাকে। তাদের কারও কারও পিতা এমনকি মাতা পর্যন্ত বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকেন বলেও এসব শিশুদের দাবি। এসব শিশুদের দাবি তারা মাত্র সরবরাহ করে নির্ধারিত কমিশন পেয়ে থাকে। আর বিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়ায় সন্দেহের বাইরে থাকার সুযোগের কারনে তাদেরকে ব্যবহার করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে ইতিপুর্বে মাদক দ্রব্য সংক্রান্ত একাধিক মামলায় জড়িয়ে অসংখ্যা বার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়া ব্যক্তিরা শ্যামনগর সদরে এখন ইয়াবার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে। শ্যামনগরের ‘ডন’ খ্যাত রেজাউল অধ্যায়ের অবসান হলেও মাদকের বিস্তার এতটুকু কমেনি বলে ইয়াবা সরবরাহের সাথে জড়িত বেশ কয়েক শিশুর সাথে কথা বলে তথ্য মিলেছে। শ্যামনগর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের পশ্চিম পাশের ব্রিজ সংলগ্ন এলাকারও একটি চক্র ইয়াবা সরবরাহের কাজ করে। এছাড়া হায়বাদপুর এবং গোপালপুরসহ মাষ্টার পাড়া এলাকার কিছু শিক্ষার্থী ও উঠতি বয়সী তরুণ আপাতত ইয়াবার চালান সরবরাহে যুক্ত বলে তথ্য অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। তবে শ্যামনগর এর সুন্দরবন সিনেমা হল এলাকার শিশু এবং তরুণদের বেশিরভাগই এখন ইয়াবা সরবরাহ কাজে জড়িত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে বের হয়ে আসা কয়েক মাদক স¤্রাট কৌশল বদলে সাব-এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে নিজে ‘সাদা ধবধবে’ পোশাক ধরেছে। আর তাদেও নিযুক্ত সাব-এজেন্ট দিয়ে দিব্যি ইয়াবা, ফেন্সিডিল ও গাঁজাসহ সব ধরনের মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।
পুরানো মাদক ব্যবসায়ীদের কেউ-ই এখন পর্যন্ত তাদের অতি লাভজনক এ ব্যবসা ছাড়েনি উল্লেখ করে স্থানীয়রা (হয়রানীর ভয়ে) জানান যে মাদক স¤্রাটরা কৌশল বদলেছে। কিন্তু ব্যবসা ছাড়েনি। তারা আরও তথ্য দেন যে প্রতিদিন শ্যামনগর উপজেলা সদরের যেসব চা’য়ের দোকানে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পড়–য়া যত শিক্ষার্থী বন্ধুদের সাথে মিলে চা পান করে বা সময় কাটায়, তাদের অধিকাংশই রেজাউল পরবর্তী গডফাদার হয়ে ওঠা মাদক স¤্রাটদের নিযুক্ত ইয়াবা সরবরাহকারী এজেন্ট।
অভিযোগকারী এসব স্থানীয়দের দাবি রেজাউল বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পরম মাদকের বিস্তৃতি কমার আশা করা হলেও গত কয়েক মাসে তা রীতিমত কয়েক গুন বেড়ে গেছে। এক্ষেত্রে পুরানো ব্যবসায়ীরা নেপথ্য কুশিলব হিসেবে ভূমিকা রাখছে বলেও জানান তারা।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে বিদ্যালয় পড়–য়া এসব শিশুরা ইয়াবা সরবরাহের সাথে জড়িত থাকার কারনে অনেকে নিজেও ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। এসব বিষয়ে তাদের পরিবারের কাছে বার্তা পৌছে দিয়েও সুফল না মেলার অভিযোগ অনেকের। এক প্রকার পরিবারের অন্ধ বিশ^াস এবং আস্থাকে পুঁজি করে বিদ্যালয়য়ের এসব শিশু শিক্ষার্থীরা এত অল্প বয়সে ইয়াবার চালান বইতে সাহস পাচ্ছে বলেও অনেকের অভিযোগ।
আসাদুল ইসলাম ও আব্দুল বারিক নামের দুইজন জানান নকিপুর বাসষ্ট্যান্ডের উত্তর পাশের অধিকাংশ ইয়াবার চালান হাত বদল হয় নকিপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় রোড এবং নুতন টার্মিনাল এলাকায়। দুপুর এবং সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় বিদ্যালয়ে পড়–য়া বেশকিছু শিশু ইয়াবা বহন করে ক্রেতাদের কাছে পৌছে দেয়। আবার অনেকে শ্যামনগরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকা পর্যন্ত ইয়াবা আনা নেয়ার কাজ করে বলেও নিশ্চিত করে জানায় ঐ সুত্রটি।
অবিলম্বে শিক্ষার্থী বেশী এসব শিশু থেকে ‘ভোল’ পাল্টে সাধু বনে যাওয়া ইতিপুর্বেকার মাদক স¤্রাটদের উপর নজরদারি শুরু করলে শ্যামনগরের বর্তমান ইয়াবা ব্যবসায়ী গড ফাদারের নাম প্রকাশ্যে আসবে বলে জানান তারা।
এবিষয়ে জেলা প্রশাসনক, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার এবং শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জের সদয় দৃষ্ট কামনা করেছেন মাদকের বিস্তার নিয়ে শংকায় থাকা এলাকার সচেতন অভিভাবকমহল।