সুন্দরবনের প্রাণী ও উদ্ভিদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত


প্রকাশিত : জানুয়ারি ১৮, ২০১৯ ||

পত্রদূত ডেস্ক: প্রাণী ও উদ্ভিদের সহ-অবস্থান এবং আন্তঃনির্ভরশীলতার এক সমৃদ্ধ ইকোসিস্টেম সুন্দরবন। পৃথিবী বিখ্যাত সুন্দরবন ইকোসিস্টেমের উপর লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন জীবিকা নির্ভর করে। এই বনে প্রতিটি প্রাণী ও উদ্ভিদ পারস্পারিক মিথস্ক্রিয়ায় বসবাস করে। তাই বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের সংরক্ষিত অঞ্চলে মানুষের অবাধ বিচারণ কাম্য নয়। সুন্দরবনের প্রাণী ও উদ্ভিদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে গতকাল সকাল ১১টায় কলাগাছিয়া ইকো পর্যটন কেন্দ্রে এক মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সোনার বাংলা ম্যানগ্রোভ ইকো ট্যুরিজম এবং সুন্দরবন সুরক্ষা কমিটি যৌথভাবে এই মানববন্ধন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে।
কলাগাছিয়া ইকো পর্যটন পল্টনে গবেষক শাহীন ইসলামে সঞ্চালনায় মানববন্ধন অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রাসারণ কর্মকর্তা অরবিন্দ বিশ^াস বলেন, “সুন্দরবন দেশের বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের এক সমৃদ্ধ অঞ্চল। এই বনের প্রতিটি উদ্ভিদ ও প্রাণীর নিরাপত্তা জরুরী। কারন বনের অসংখ্য প্রাণী ও উদ্ভিদের উপর মানুষের বেঁচে থাকা ও জীবিকা নির্ভর করছে। বনের প্রাণী ও উদ্ভিদের প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা বন্দে সকলকে নাগরিক দায়িত্ব পালনের আহবান জানান তিনি”।
জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা সমরেশ চন্দ্র দাস বলেন, “প্রাণী ও উদ্ভিদের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্থ হলে তার প্রভাব পড়ে মানুষের জীবনে। অসংখ্য বন্য প্রাণীর সংরক্ষিত অঞ্চল আমাদের সুন্দরবন। এই বনের প্রতিটি প্রাণীর সুরক্ষায় বন বিভাগের পাশাপাশি সকলকে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি প্রাণীসম্পদের সাথে বণ্য প্রাণী সুরক্ষায় আলাদা সেল প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি”।
বেসরকারী সংগঠন আইডিয়ালের পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, “সুন্দরবন নিয়ে বড় ধরনের ক্যাম্পেইন জরুরী। নানান কারনে এই বনের উদ্ভিদ ও প্রাণীকূল ঝূঁকিতে বসবাস করছে। অনেক সময় আমরা সুন্দরবনের প্রাণী ও উদ্ভিদ চুরি, পাচারের খবর জানতে পারি। অনেক হরিণ ও বাঘ শিকারী এবং গাছ পাচারকারী সুন্দরবনের বড় শত্রু। এদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। এই বন সকল প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকে আমাদের রক্ষা করছে। তাই এই বনের সকল প্রাণী ও গাছের সুরক্ষা জরুরী”।
শ্যামনগর আতরজান মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক শাহারিয়ার খান রিপন বলেন,“সুন্দরবনের মধু গাছ খলসী। এর জীবনকাল ২৫/২৫ বছর। এই গাছ ঝাকালো প্রকৃতির ও সাদা ছোট থোকা থোকা ফুল হয়। মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে ফুল হয়। পৃথিবীর সেরা মধু এই গাছ থেকে পাওয়া যায়। এই গাছ ফুল, ফল, কাঠ, মধু ও অক্সিজেন দিয়ে আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। এভাবে সুন্দরবনের প্রতিটি উদ্ভিদ ও প্রাণী মানব জীবনকে সমৃদ্ধ করছে। তাই আজকের এই মানববন্ধন থেকে বনের সকল প্রাণী ও উদ্ভিদের প্রতি সব ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে জোর দাবি জানাচ্ছি”। উল্লেখ্য মানববন্ধনের অসংখ্য কৃষিবিদ ও সাধারন পর্যটক সংহতি জানিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন।