গলা চেপে ধরেছে বেতনা নদীর দু’ধার অবৈধ দখলদারদের কবলে ॥ চলছে পাঁকা ঘর নির্মাণের হিড়িক


প্রকাশিত : জানুয়ারি ৩০, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: গলা চেপে ধরেছে বেতনা নদীর দু’ধার। অবৈধ দখলদারদের কবলে চলছে পাঁকা ঘর নির্মাণের হিড়িক। সাতক্ষীরায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সাতক্ষীরা পওর বিভাগ-০২ এর আওতাধীন বেতনা নদী মৃতপ্রায় দুই পাড়ের বেড়িবাঁধের জায়গা দখল করে অবৈধ পাঁকা ঘর নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। সদরের ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের মাছখোলা মৌজায় শাল্যে গ্রামের ওয়াপদার বেড়িবাঁধের দু’ধার দিয়ে বিনেরপোতা পর্যন্ত জায়গা দখল করে ছোট বড় অবৈধ পাঁকা স্থাপনা চলছে। অবৈধ দখল চলছে, যেন দেখার কেউ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীরব। প্রথমে তারা মাটির খুপড়ি ঘর বেঁধে বসবাস করে আসছিল। স্থানীয় দালাল চক্রের প্ররোচনায় ওয়াপদার বেড়িবাঁধের দু’ধারে বেতনা নদীর বুকের উপর গড়ে তুলেছে দুই রুম ও তিন রুম বিশষ্ট ছাদওয়ালা বাড়ি। এভাবে দখলদারি চলতে থাকলে বেতনা নদীর কোন অস্তিত্ব থাকবেনা। ইতোমধ্যে বেড়িবাঁধের উপর পাঁকা ঘর নির্মাণের জন্য ইট এনে রাখা হয়েছে। বেতনা নদীর দুই তীরে চলছে পাঁকা ঘর নির্মাণ কাজ। এলাকার কিছু সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি এই অসহায় মানুষদের ভুল বুঝিয়ে সহায়তাকারী দালাল চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। অবৈধ স্থাপনার ব্যাপারে সাতক্ষীরা পওর বিভাগ-০২ কর্মকর্তার অফিস থেকে এলাকার অবৈধ বসবাসকারী মানুষদের নোটিশ করে ডাকা হলেও কোন সুরাহা করতে পারেনি। অসহায় মানুষগুলি পড়েছে বিপাকে। সরেজমিনে মাছখোলা-শাল্যে গ্রামে ওয়াপদার বেড়িবাঁধের পাশে বসবাসকারী আকলিমা জানান, উত্তরণ এনজিও আমাদের ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। আমরা এখানে ৪০ বছরের অধিক সময় বসবাস করছি। এসময় আর এক পরিবারের সদস্য বলেন, ঘর-বাড়ি বানানোর ব্যাপারে রেজাউল তো আমাদের দেখতেছে। তা আপনারা আবার কি করতে আইছেন। শুধু আমরা একা না, এখানে অনেক মানুষ পাঁকা ঘর নির্মাণ করছে। ঝড় বর্ষায় আমরা ছেলে-মেয়ে নিয়ে ভাঙা চুরা ঘরে থাকতে পারিনা। তাই অনেক কষ্টে সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে আমরা পাঁকা ঘর নির্মাণ করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সাতক্ষীরা পওর বিভাগ-০২ কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান খান বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের অফিস থেকে নোটিশ করা হয়েছিল। অবৈধ স্থাপনার ব্যাপারে ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।