উপজেলা নির্বাচনে শ্যামনগরে মাঠে নেমেছে তিন প্রার্থী


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯ ||

পত্রদূত ডেস্ক: আগামী ৯ মার্চ থেকে দেশব্যাপী শুরু হতে যাওয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের হাওয়া বেশ জোরেশোরে বইছে শ্যামনগরে। সাম্ভব্য প্রার্থীদের পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের মধ্যেও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও জল্পনা কল্পনা। কোন দলের প্রার্থী কে হচ্ছেন আবার কে বা কারা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে যেয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন-এমনতর গুঞ্জন এখন সর্বত্রই।
সরেজমিনে সুন্দরবন সংলগ্ন দেশের বৃহত্তম (আয়তনে) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য মিলেছে।
এদিকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণের দিনক্ষণ এগিয়ে আসার কারণে প্রার্থীতা নিয়েও ভোটারদের মাঝে এক ধরনের আবেদন ও প্রত্যাশা জম্ম নিয়েছে। বিশেষ করে সরকারে থাকা সংগঠনটির প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়েও শ্যামনগরের ভোটারদের আগ্রহ অনেকটা যেন নির্বাচনী উম্মাদনাকে স্পর্শ করেছে।
বিগত দুটি নির্বাচনে জামায়াত দলীয় প্রার্থী বিজয়ী হলেও নিবন্ধন বাতিল হওয়া ঐ সংগঠন কিংবা তাদের প্রধান শরীক বিএনপির মধ্যে নির্বাচন নিয়ে কোন তোড়জোড় নেই। তবে শুরুর দিকে টানা দু’বার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ী হওয়া জাতীয় পার্টির অংশগ্রহন আসন্ন নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের বেশ কৌতুহলী করে তুলেছে। ইতোমধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীতার আভাস মেলার কারণে নির্বাচনী এলাকার ভোটাররা প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে।
স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ থেকে চেয়ারম্যান পদে সমর্থন চাচ্ছেন তিনজন। যার মধ্যে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম আতাউল হক দোলন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক ও শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম জহুরুল হায়দার বাবু। এছাড়া মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অসীম কুমার মৃধাও এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় আগ্রহী।
তবে নির্বাচনীয় এলাকার ভোটারদের কথায় উঠে এসেছে এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জহুরুল হায়দার বাবুর উপর আস্থা রাখতে চান সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার। যিনি শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে মাত্র দুই/তিন বছরের ব্যবধানে গোটা ইউনিয়নকে উন্নয়নের মোড়কে মুড়িয়ে দিয়েছেন।
তাছাড়া প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতিক হিসেবে ইতিমধ্যে নিজেকে চিহ্নিত করা উদীয়মান এ জনপ্রতিনিধি আইনজীবি হিসেবেও নি:স্বার্থভাবে অনেকের পাশে থাকায় ‘ভক্ত বনে যাওয়ার’ দাবিকারী ঐসব ব্যক্তিরা আসন্ন নির্বাচনে জহুরুল হায়দারকে নির্বাচিত করতে দৃঢ়তার কথা জানিয়েছে।
সদর ইউনিয়নের মাজাট গ্রামের মতলেব হোসেন ও প্রভাষক মোশারফ হোসেনের দাবি জন্মের পর থেকে কাঁদাপানি ঠেলে বাড়ি পৌছানোর রাস্তা ইতোমধ্যে পাঁকা হয়েছে। এলাকার মানুষের খাবার পানির অভাব দুরীকরণে এলাকায় পুকুর খনন করা হয়েছে সদর ইউনিয়নের পক্ষ থেকে। প্রায় অভিন্ন দাবি পাটনিপুকুর এলাকার রমজান আলী ও মনোয়ারা বেগমের। তারা জানান সরকারি জায়গা বন্দোবস্ত নিয়ে তারা বসবাস করছিল দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু স্থানীয় জমির মালিকদের বাঁধার কারনে তারা গত তিন দশক ধরে কোন রাস্তা দিয়ে হাঁটার সুযোগ পায়নি। বর্ষার সময় মানুষের ধানের ক্ষেত দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। কিন্তু জহুরুল হায়দার নির্বাচিত হওয়ার পর জমির মালিকদের বুঝিয়ে স্থানীয়দের চলাচলের রাস্তা করে দিয়েছেন। একইভাবে কাঁচড়াহাটি এলাকার রাস্তা পুন:সংস্কারসহ বিভিন্ন এলাকায় খাবার উপযোগী পানির আধাঁর সৃষ্টিসহ নানাবিধ জনহিতকর কার্যাবলীর কারণে তারা আসন্ন নির্বাচনে জহরুল হায়দারকে নির্বাচিত করার আকাক্সক্ষার কথা জানান। দেবালয় গ্রামের দুর্গা চক্রবর্তী ও মোহাম্মদ আলীসহ স্থানীয়রা জানান জহুরুল হায়দার বাবু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদকে একটি সেবা সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলেছেন। স্বজনপ্রীতি কিংবা দুর্নীতিমুক্ত পরিষদ গড়ে তিনি উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়া মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার পাশাপাশি ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে সদর ইউনিয়ন পরিষদকে ইতিমধ্যে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছেন।