কলারোয়ায় জমজমাট জুয়ার আসর! নিরব প্রশাসন


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৯ ||

 

মনিরুল ইসলাম মনি: কলারোয়া পৌরসদরসহ উপজেলার একাধিক স্থানে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে রাত-দিন চলছে রমরমা জুয়ার (ওয়ানটেন, তিন কার্ড) আসর। স্থানীয় কয়েক প্রভাবশালী ব্যক্তি এসব জুয়া আসর নিয়ন্ত্রণ করায় দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে জুয়াড়ীর সংখ্যা। এছাড়া কলারোয়া থানা থেকে প্রায় ২শ’ গজ দুরে হাসপাতাল রোড সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত জুয়ার আসর বসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অবিভাকরা। তারা বলেন, উপজেলাব্যাপী এভাবে জুয়ার আসর চলতে থাকলে থানা পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানের সফলতাকে ম্লান করে দেবে। অবিলম্বে এলাকার সুষ্ঠ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তারা থানা পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলারোয়া আ.লীগ নেতা একই এলাকার বাসিন্দা (থানার সামনে) ও প্রভাবশালী এক সাংবাদিক নেতা বলেন, প্রশাসনের ফাঁকি দিয়ে পৌর সদরের একাধিক স্থানে দিন-রাত জুয়ার আসর চললেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। গত এক মাস যাবত তার বাড়ির পাশে (হাসপাতাল রোড) প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট জুয়ার আসর পরিচালনা করছে। উপজেলার বাইরে থেকে জুয়াড়ীরা নিরাপদে এখানে জুয়া খেলতে আসছে। এলাকার পরিবেশ নষ্ঠ হলেও প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে পারছে না। সাংবাদিক নেতা আরো বলেন, এসব প্রভাবশালীরা জুয়ার আসর বসিয়ে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তবে তিনি পরিচালনাকারী শ্রমিক নেতা শহিদুল ইসলাম (গামার) নাম বললেও আর কোন ব্যাক্তিটির নাম বলেনি।

এছাড়া বছরজুড়ে রমরমা জুয়া খেলা হয় উপজেলার যুগিখালী এবি পার্কে, পৌরসদরের তুলশীডাঙ্গা গ্রামে শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে, দমদম এলাকায় ইটভাটা সংলগ্ন মেহগনি বাগানে, দেয়াড়া ইউনিয়নের খোরদো বাজারের একটি ক্লিনিকে, কপোতাক্ষ ব্রীজ সংলগ্ন মাছের ঘেরে, সরসকাটি বাজার সংলগ্ন, সোনবাড়িয়া ইটভাটা এলাকায়, খোরদো-কাজিরহাট রোড়ের খেয়া ঘাট এলাকায় আমবাগানে, গয়ড়া বাজার এলাকায়সহ উপজেলার শতাধিক স্থানে সারা বছরই জুয়া খেলা পরিচালনা হয় এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্ঠ এলাকাবাসীদের। তবে চিহ্নিত এসব স্থানে প্রশাসনের কোন অভিযান পরিচালনা না হওয়ায় স্থানীয়রা তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসি বলেন, পুলিশ জেলাব্যাপি মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি জোয়াড়ীদের নির্মুলে অভিযান পরিচালনার আহবান জানান। এবং জুয়া খেলা বন্ধে জেলা পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

জানতে চাইলে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমি কিছুদিন আগে এখানে যোগদান করেছি। এ বিষয়ে আমার জানা নেই তবে খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, যতই প্রভাবশালী ব্যক্তি হোক পুলিশ সাধারণ মানুষের সহযোগিতা নিয়ে কলারোয়া উপজেলাকে মাদকের সাথে জুয়াড়ীমুক্ত করা হবে বলে মন্তব্য করেন।

 

বকচরায় জমি জমা সংক্রান্ত বিষয়ে বড় ভাইকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: বকচরায় জমি জমা সংক্রান্ত বিষয়ে বড় ভাইকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার রাত ৮টার দিকে শহরের বকচরা এলাকায় এঘটনা ঘটে। আহত মো. খান জাহান আলী (৪২) বকচরা গ্রামের মো. নিয়ামুদ্দীন সরদারের ছেলে। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী খান জাহান আলী জানান, সোমবার রাতে পরানদহা গ্রামে খালাতো বোনের বাড়ি হতে ফেরার পথে বকচড়া এলাকায় পৌছালে ৩ জন ব্যক্তি তার মুখে টর্চ লাইট মারে তার গতিরোধ করে। তিনি কোন কিছু বুঝে ওঠার পূর্বেই লোহার রড, বাঁশের লাটি দিয়ে এলোপাতাড়ী মারপিট করতে থাকে। মারপিটের একপর্যায়ে তার কাছে থাকা ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। তার ডাক চিৎকারে স্থানীরা ছুটে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের টচলাইটের আলোতে হামলাকারীদের মধ্যে তার নিজের ছোটভাই আশরাফ আলীকে দেখতে পান।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ছোট ভাই আশরাফ আলীর সাথে জমি জমা সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধ রয়েছে। এর জের ধরে গত ১১ মাস পূর্বে ওই ছোটভাই আশরাফ আলী খান জাহান আলীর স্ত্রী সাকিরনকে মারপিট করে গুরুতর আহত করেছিলো। ওই ঘটনায় আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল বলে জানান খান জাহান আলীর স্ত্রী সাকিরন।