শ্যামনগরে বোরো চাষে কোমরবেঁধে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৯ ||

রনজিৎ বর্মন, সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর): শ্যামনগর উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা কোমরবেঁধে মাঠে নেমেছেন বোরো ধান চাষে। ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। উপজেলার প্রধান ফসল আমন ধান উঠানোর পরই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বোরো ধান চাষে। উপজেলা চিংড়ি চাষ এলাকা নামে খ্যাত থাকলেও দিনে দিনে কৃষকরা ধান, সবজিসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদনে ঝুঁকে পড়ছেন। লবণ পানির চিংড়ি ঘেরে আশানুরুপ মৎস্য উৎপাদন করতে না পারায় বা লাভবান না হওয়ায় চিংড়ি চাষিরাও ধান চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী এবার উপজেলার বারটি ইউনিয়নে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার হেক্টর। বোরো চাষে কৃষকদের আগ্রহ দেখে উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দও আশাবাদ প্রকাশ করে বলছেন যে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
মুন্সিগঞ্জ ইউপির ধানখালী গ্রামের বোরো চাষি সুপদ বৈদ্য, জেলেখালী গ্রামের নিরঞ্জন মন্ডল বলেন, আমন ফসল ভাল পেয়েছি সে আশায় বোরো ধান চাষের এরিয়া বাড়িয়েছি। আবাদচন্ডিপুর গ্রামের বোরো চাষি মিজানুর রহমানসহ অন্যান্য এলাকার চাষিরা বলেন, পানির সংকট শুষ্ক মৌসুমে থাকলেও বৃষ্টি নির্ভর হয়ে কিছুটা চাষ করেছি। দেখা যায় আটুলিয়া ও অন্যান্য ইউপিতে বোরো চাষিরা নিজেদের ব্যবহৃত পানির পুকুরের উপর নির্ভর হয়ে বোরো চাষ শুরু করেছেন।
কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী উপজেলায় ভূরুলিয়া ইউপিতে ১৪৫ হেক্টর, কাশিমাড়ী-২৮৫হেক্টর, শ্যামনগর-১৩৭ হেক্টর, নুরনগর-১৩৫হেক্টর, কৈখালী-৪৫৭হেক্টর, রমজাননগর-১৪০হেক্টর, মুন্সিগঞ্জ-২৯হেক্টর, ঈশ^রীপুর-১১১হেক্টর, বুড়িগোয়ালিনী-২০০হেক্টর, আটুলিয়া-৪০হেক্টর, পদ্মপুকুর-২১০হেক্টর ও গাবুরা-৪০হেক্টর বোরো ধান চাষ গত মৌসুমে হয়েছিল।
উপজেলা কৃষি অফিসার আবুল হোসেন মিয়া বলেন, ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত উপজেলায় ৯শত হেক্টর বোরো আবাদ হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকরা ব্রি-২৮ ধানের জাত বেশি চাষ করে থাকেন। এলাকায় ডিপটিউবওয়েলে ভাল পানি পাওয়া যায়না। ফলে বৃষ্টি নির্ভর বোরো ধান চাষ বেশি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন কৃষকদের ব্রি-৬৭ ধান উৎপাদনের ব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছেন।
উপজেলায় সকল ইউনিয়নে কমবেশি লবণ পানিতে চিংড়ী চাষ হয়ে থাকে। চিংড়ি চাষে লাভবান না হওয়ায় অনেক চাষিরা ধান চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।