ব্রহ্মরাজপুরে আঁখির ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বাবা-মায়ের সংবাদ সম্মেলন


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: বখাটেদের অত্যাচারের মুখে আমার মেয়েকে কম বয়সে বিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু স্বামীর নির্যাতন আর শ^শুরের কুপ্রস্তাবের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তাদের আঘাতে নিহত হয়েছে আমার তিন মাসের অন্ত:সত্ত্বা মেয়ে আঁখি বোস।
মা জোছনা বসু এই আকুতি জানিয়ে বলেন, আর কোনো মেয়েকে যেনো এভাবে প্রাণ না দিতে হয়। আমি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই শ^শুর এসকে বোস তার স্ত্রী অশোকা বোস ও ছেলে অরুপ কুমার বোসের।
বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে গৃহবধূ আঁখি বোসের বাবা যশোরের কেশবপুর উপজেলার স্কুল শিক্ষক গোবিন্দ চন্দ্র বসু তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০১৭ সালে তার মেয়েকে বিয়ে দেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এসকে বোসের ছেলে অরুপের সাথে। বিয়ের সময় স্বর্ণ ও নগদ টাকা দেওয়ার পরও অরুপ যৌতুক বাবদ বারবার টাকা চাইতো। টাকা দিতে না পারায় তাকে নির্যাতন করতো। এমনকি অরুপের বাবা এসকে বোস বিভিন্ন সময়ে তার ছেলের বউ আঁখিকে কুপ্রস্তাব দিতো। এতে আপত্তি করায় গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাতের কোনো এক সময় আঁখিকে হত্যা করে তার লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয় তার কক্ষের সিলিং ফ্যানে।
তিনি জানান, তাকে হত্যার পর বাড়ির লোকজন ঘরে তালা ঝুলিয়ে নিজেদের পাসপোর্ট ও লাগেজ নিয়ে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করছিল। জানতে পেরে গ্রামবাসি ওই পরিবারের লোকজনকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। পরে আঁখির শ^শুর শাশুড়ি ও স্বামীকে জনরোষ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বাবা গোবিন্দ বসু তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। তিনি জানান, আঁখির গলায় ওড়নার ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল তারা।
পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, ঝুলন্ত দেখানো হলেও তার দুই পা পাতানো ছিল মেঝেতে। তার নাক দিয়ে ঝরছিল বিষাক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি। তার গলায় ফাঁসের চিহ্ন মেলেনি। এমনি কি তার জিহবাও ছিল স্বাভাবিক। বুধবার লাশের ময়না তদন্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আকুতি জানিয়ে তারা বলেন, ‘আমরা এই হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মেয়ের স্বজন প্রতিমা হালদার, অর্চনা বিশ^াস, পার্থ বিশ^াস, প্রতিবেশি গোপাল চন্দ্রসহ এলাকাবাসি।