এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে রেজাউল ফিরলেও আব্দুর রহিম এখনও বনদস্যুদের কব্জায়


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৯ ||

শ্যামনগর প্রতিনিধি: মুক্তিপণের এক লক্ষ টাকা পরিশোধ করে জেলে রেজাউল ইসলাম (৩০) বাড়িতে ফিরে এসেছে। কিন্তু অপর অপহৃত জেলে আব্দুর রহিম (২৪) মঙ্গলবার পর্যন্ত বনদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পায়নি। রেজাউল চকবারা গ্রামের ইসলাম গাজীর ছেলে এবং আব্দুর রহিম ডুমুরিয়া গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে। তারা দু’জন সম্প্রতি পশ্চিম সুন্দরবনের ইলশেমারী চামটা এলাকা থেকে জোনাব বাহিনীর সদস্য পরিচয় দানকারী ছয় বনদস্যুর হাতে অপহৃত হয়।
রেজাউল ইসলামের চাচাত ভাই আব্দুল মজিদ জানায় সুন্দরবনে মাছ শিকারের যাওয়ার পর রেজাউলকে জোনাব বাহিনী পরিচয়ে বনদস্যুরা অপহরন করে। এক পর্যায়ে তাদের দাবিকৃত এক লাখ টাকা নির্ধারিত বিকাশ নম্বরে পাঠানোর পর রেজাউলকে বনদস্যুরা মুক্তি দিলে সে বাড়িতে ফিরে আসে।
এদিকে আব্দুর রহিমের শ্যালক বিল্লাল হোসেন জানায়, গত এক সপ্তাহকাল পূর্বে তার ভগ্নিপতিসহ তিন নৌকার ছয় জেলেকে জোনাব বাহিনী পরিচয়ে বনদস্যুরা অপহরণ করে। পরবর্তীতে ছয়জনকে ছেড়ে দিয়ে সবার পক্ষ থেকে দস্যুরা আব্দুর রহিমকে জিম্মি রেখে ছয় জনের মুক্তিপণ বাবদ দেড় লাখ টাকা দাবি করে। ইতোমধ্যে দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করার পরও বনদস্যুরা আব্দুর রহিমকে মঙ্গলবার পর্যন্ত মুক্তি দেয়নি। তবে কয়রার দোসালীর সিরাজুল ইসলামের মালিকানাধীন নৌকা থেকে অপহৃত আনছার সর্দারের ছেলে আমানুল্লাহ মুক্তিপণ দিয়ে বাড়িতে ফিরেছে বলে তথ্য মিলেছে।
সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল জেলেদের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে সম্প্রতি মঞ্জু (আত্মসমর্পনকারী) মুন্সিগঞ্জ এলাকায় মাছের ‘খটি’ চালু করার পর পশ্চিম সুন্দরবনে দস্যুদের তৎপরতা পুনরায় শুরু হয়েছে। জোনাব ছাড়াও আমিনুর, শেখ হযরত এবং সাহেব আলী নামে আরও তিনটি বনদস্যু গ্রুপ বেশ কিছুদিন ধরে সুন্দরবনে সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ঐসব জেলেরা।
তবে পুলিশ জানিয়েছে তাদের কাছে বনদস্যুদের হাতে জেলেদের জিম্ম হওয়ার বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ করেনি।