দিনভর বসন্ত বৃষ্টিতে ভোগান্তি


প্রকাশিত : February 28, 2019 ||

পত্রদূত ডেস্ক: দিনভর বৃষ্টিতে ভোগান্তি বজ্রমেঘের সৃষ্টির কারণে বুধবার সকাল থেকে সাতক্ষীরাসহ দেশের বেশিরভাগ জায়গায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে চরম ভোগান্তি শিকার হচ্ছে সাতক্ষীরাবাসি। এদিকে ভারী বৃষ্টিতে জেলার নিম্নাঞ্চলে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। আবহাওয়ার এই অবস্থায় সাগরে তিন নম্বর স্থানীয় ও নদী বন্দরগুলোতে দুই নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে।
বুধবার ভোর থেকে ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়ায় অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়ে। সকালে অনেককেই যানবাহনের জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর কেউ কেউ গাড়িতে উঠতে পারলেও বাকিরা উপায় না দেখে হেঁটেই নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা দিতে দেখা গেছে। এদিকে সকালের বৃষ্টিতে বিভিন্ন রাস্তায় পানি জমে যায়। এতে ভোগান্তির পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।
দুপুরের দিকে বৃষ্টির পরিমাণ কমে আসলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। এরপর বিকাল সাড়ে ৪টা নাগাদ মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। ফলে অফিস ফেরত মানুষ ফের ভোগান্তিতে পড়ে। সারাদিন বৃষ্টির কারণে পরিবহনের সংখ্যা রাতে আরও কমে যায়। একদিকে যানবাহন সংকট অন্যদিকে পানি জমে যাওয়ায় ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের উচ্চমান পর্যক্ষেক জুলফিকার আলী রিপন জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত জেলায় ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সাতক্ষীরায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিলো ৬ মিলিমিটার।
তিনি আরও বলেন, ‘পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে আকাশে বজ্রমেঘের সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। চার সমুদ্র বন্দরে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।’
এদিকে আবহাওয়ার ২৪ ঘন্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে বিচ্ছিন্নভাবে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ ও শিলাবৃষ্টি হতে পারে।
সামুদ্রিক সতর্ক বার্তায় বলা হয়, বজ্রমেঘের ঘণঘটা বৃদ্ধির কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমূদ্র বন্দরগুলোকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
দিনভর বৃষ্টিতে ভোগান্তি অন্যদিকে আবহাওয়ার এক নৌ সতর্ক বার্তায় বলা হয়, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, পাবনা, বরিশাল, কুমিল¬া, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে দুই নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।