কালিগঞ্জে দুদকের মামলায় সাবেক ইউপি সদস্য ছায়া মুখার্জী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমানউল্যাহর কারাদন্ড


প্রকাশিত : মার্চ ১০, ২০১৯ ||

আহাদুজ্জামান আহাদ: কালিগঞ্জে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য ছায়া রাণী মুখার্জী ও সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমানউল্যাহকে দু’টি ধারার প্রত্যেকটিতে এক বছরের সাজা প্রদান করেছেন। এছাড়াও তাদের প্রত্যেককে ১ হাজার ১৩৬ টাকা হারে জরিমানা ধার্য্য করে উক্ত জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ প্রদান করা হয়। গত বৃহস্পতিবার খুলনা বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক এসএম আব্দুস ছালাম এই দন্ডাদেশ প্রদান করেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী ইয়াসিন আলী মামলার নথীর বরাত দিয়ে জানান, কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের হারাধন মুখার্জীর স্ত্রী ও ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি সজল মুখার্জীর মাতা সাবেক ইউপি সদস্য ছায়া রাণী মুখার্জী ও উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমানউল্যাহ ২০০১-২০০২ অর্থবছরে পরস্পর যোগযাজসে বিভিন্ন স্কুলের জন্য স্টীলের আলমারি ক্রয়ের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাত করেন। তারা সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক স্টীলের আলমারী না কিনে নিম্মমানের আলমারী কিনে বরাদ্দকৃত টাকা থেকে ৩ হাজার ১৩৬ টাকা আত্মসাত করেন। এঘটনায় জেলা দুর্নীতি দমন ব্যুরো সাতক্ষীরা এর পরিদর্শক ওয়াজেদ আলী বাদী হয়ে ছায়া রাণী মুখার্জী ও আমান উল্যাহকে আসামি করে কালিগঞ্জ থানায় ৪০৯ ও ৪২০ ধারায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর: ১৩, তারিখ: ২১-১০-২০০৪ খ্রি.)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশন সম্মিলিত জেলা কার্যালয় খুলনার সাবেক সহকারী পরিচালক রবীন্দ্রনাথ চাকী ২০১৪ সালের ২৫ আগস্ট ছায়া রাণী মুখার্জী ও আমানউল্যাহকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। মামলার শুনানী শেষে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ ২নং এর ৫ (২) আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে বিজ্ঞ বিচারক প্রতি ধারায় ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড, ১ হাজার ১৩৬ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। রায়ে উভয় ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।