কালিগঞ্জে কৃষ্ণনগরে ওয়াজ মাহফিলে ভন্ড বক্তা অবরুদ্ধ: পুলিশের সহায়তায় রেহাই


প্রকাশিত : মার্চ ১৬, ২০১৯ ||

কৃষ্ণনগর (কালিগঞ্জ) প্রতিনিধি: কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগরে ওয়াজ মাহফিল করতে এসে মুসুল্লীদের তোপের মুখে পড়েছে আরিফ বিল্যাহ রব্বানী নামে এক বক্তা। প্রায় ১৮ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে ওই বক্তাকে মুক্ত করলেও বর্তমানে তিনি থানা হেফাজতে রয়েছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, কৃষ্ণনগর মসজিদ কতৃপক্ষ ১৪ মার্চ রাতব্যাপী কৃষ্ণনগর কিষাণ মজদুর ইউনাইটেড একাডেমী মাঠে ওয়াজ মাহফিলে আয়োজন করে। ফুরফুরা শরিফ হতে আগত ‘ন’ হুজুর পীর কেবলার জামাতা সৈয়দ আরিফ বিল্য¬াহ রব্বানী প্রধান বক্তা হিসেবে ওয়াজ করবেন বলে প্রচার করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায় তিনি একজন বাংলাদেশি বক্তা। তাছাড়া তিনি তার বক্তব্যে মহানবী (সাঃ) এর জন্মদিনে নারী বাদে যে সব পুরুষ জুলুছ করে না তাদেরকে কাফের বলে গণ্য হবে বলে ফতোয়া দেন। এধরণের বক্তব্য দেয়ায় আগত অধিকাংশ মুসুল্লী তীব্র প্রতিবাদ জানান। এক পর্যায়ে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় মুসুল্লীরা নীরবে বাড়ি ফিরে যান। তবে ভূয়া ধর্মীয় ফতোয়া প্রদানের বিষয়টি ব্যাপক হারে প্রচার হলে শুক্রবার জুম’আর নামাযের পর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানের মুসুল্লীগণ বাজার কেন্দ্রিয় মসজিদের সামনে সমবেত হন। এসময় বিক্ষোভ শুরু হলে মসজিদের ইমাম আরিফ বিল্যাহ মসজিদ ছেড়ে পালিয়ে যান। তবে প্রধান বক্তা আরিফ বিল¬াহ রব্বানী শেখ আব্দুল বারীর বাড়িতে অবস্থানকালে মুসুল্লীরা সেখানে যেয়ে তাকে সেখানে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে বেলা আড়াইটার দিকে থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশ উত্তেজিত ব্যক্তিদের শান্ত করে আরিফ বিল্যাহ রব্বানীকে জনতার সামনে হাজির করেন। এসময় ওই বক্তা নিজের ভুল ফতোয়া প্রদানের বিষয়টি স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে প্রশাসনের সহায়তায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি আসামের বদরপুর খানকা শরীফের পীর নন। তিনি একজন ভন্ড ব্যক্তি। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভন্ড বক্তা থানা হেফাজতে ছিলেন। ভন্ড ব্যক্তিকে ওয়াজ মাহফিলের বক্তা হিসেবে আরিফ বিল্যাহ রব্বানীকে নিমন্ত্রণ করে নিয়ে আসার ঘটনায় ঘটনাকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণনগরের কেন্দ্রিয় মসজিদের ইমাম আরিফ বিল্যাহর উপর স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।