অ-কোষে আঘাতের ৮মাস পর মারা গেলেন আলীপুরের ফিরোজ: ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন


প্রকাশিত : মার্চ ১৬, ২০১৯ ||

 

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: ২০১৮ সালের ১৪ জুলাই রাতের ঘটনা। প্রেমিকার সাথে দেখা করতে গিয়ে ধরা পড়ার পর বেদম মারপিটের শিকার হয়েছিলেন কিশোর ফিরোজ হোসেন (১৫)। প্রেমিকা আফসানা মিমির পিতা আনিছুর রহমান, মাতা কমলা বেগম ও ভাই আতাউর রহমান এবং প্রতিবেশি লিয়াকত আলির ছেলে মনি প্রেমিক ফিরোজ হোসেনকে সেদিন চোরাগোপ্তা মারপিট করে শরীরের ভিতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মারাত্মকভাবে জখম করেছিল। ফিরোজের অ-কোষে আঘাত করে ক্ষত-বিক্ষত করেছিল। সেই ক্ষতের যন্ত্রণা ৮ মাস নিরবে সহ্য করে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মেনেছে কিশোর ফিরোজ হোসেন। আর এই ঘটনা ধামচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ঘাতকের পরিবার। ১৪ মার্চ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় ফিরোজ হোসেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করলেও তার ময়না তদন্ত না করা করায় সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসি জানায়, ২০১৮ সালের ১৪ জুলাই গভীর রাতে সদর উপজেলার আলিপুর পূর্বপাড়া গ্রামের মাসুদা খাতুনের ছেলে ফিরোজ হোসেন তার প্রেমিকা একই গ্রামের আনিছুর রহমানের কন্যার সাথে দেখা করতে গেলে আনিছুরসহ অন্যরা ফিরোজকে বেদম মারপিট করে। পেটের তলায় ও অ-কোষে আঘাত করলে গুরুতর আহত হয় ফিরোজ। এরপর থেকে সে অসুস্থ ছিল।
হঠাৎ গত বুধবার ফিরোজ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ফিরোজ মারা যায়।
লাশ বাড়িতে আনার পরে সংবাদ পেয়ে সদর থানা পুলিশ এসআই প্রবীর এসে লাশ থানায় নিয়ে যায় এবং কয়েক ঘন্টা পরে ময়না তদন্ত ছাড়াই বাড়ি নিয়ে আসে। এব্যাপারে থানায় একটি সাধারণ ডায়রি হয়েছে। মৃত্যুর আগে ফিরোজ তার খালাত ভাই আনোয়ার হোসেনেরর সাথে সব কথা বে গেছেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরাও বলেছেন অ-কোষে আঘাতের কারণে ফিরোজের মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে মেয়ের অভিভাবকের বক্তব্য নিতে গেলে তাদের বাড়িতে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, এক শালীসে এলাকার রুপচাঁদ সরদারের ছেলে জিয়া ও রকিব মোড়লের ছেলে মোশারফ মোড়লসহ আরও ২ব্যক্তি মোটা টাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তি জন্য বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে। নিহত ফিরোজের মানসিক প্রতিবন্ধী মামার স্বাক্ষর নিয়ে হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে ঘাতকের পরিবার। এলাকবাসি এব্যাপারে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।