ফি বছর বই মেলা আয়োজন করার দাবি লেখক ও বিক্রেতাদের


প্রকাশিত : মার্চ ১৯, ২০১৯ ||

আসাদুজ্জামান সরদার: সাতক্ষীরার শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের বইমেলার শেষ দিনে ক্রেতাদের ভিড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। ১৭ মার্চ মেলার শেষ দিনে সবাই বই কিনে বাড়িতে ফিরেছে। শিশুরা তাদের বাবা মায়ের হাত ধরে এসে তাদের প্রিয় বইগুলো এখান থেকে নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। অনেক বই বিক্রেতা আবার বেচা-বিক্রি নিয়ে সন্তষ্ট হতে পারেননি। সোমবার ঝড় বৃষ্টির মধ্যে দিয়ে শেষ হলো জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ১১ দিনব্যাপী এ বই মেলা। বই মেলায় আসা সিটি কলেজের শিক্ষার্থী শাকিব হাসান জানান, বই পড়া আমার প্রিয় শখ। সময় পেলেই বই পড়ি। এবছর ঢাকার বই মেলা থেকে অনেকগুলো বই কিনেছিলাম। এই বই মেলার শেষ দিন বেশ কয়েকটি বই কিনলাম। প্রতি বছর বই মেলার আয়োজন করা হলে আগে থেকে বই কেনার জন্য আলাদা টাকা জমিয়ে রাখবে। সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান বরেণ্য লেখক ও চিত্রনাট্য পরিচালক সাঁকোবাড়ির সত্ত্বাধিকারী খায়রুল বাসার বলেন, রাজ্জাক পার্কে প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বই মেলার সব কয়দিন উপস্থিত ছিলাম। আমার বই এবং সাঁকোবাড়ি প্রকাশনী ঢাকার বই মেলায়ও ছিলো সাতক্ষীরায় যা বই বিক্রি হয়েছে সেটা কম নয়। সার্থক একটি বই মেলায় হয়েছে। জেলার মানুষের মধ্যে একটি বন্ধত্ব ছিলো। বই মেলার মাধ্রমে জেলার মানুষের বন্ধত্ব অনেকখানি কেটে গেছে। বই মেলার জেলার মানুষের মঝে প্রাণ সঞ্চার করেছে। এর মাধ্যমে জীবনের গতি ধারাকে পাল্টে দিয়েছে। এই এলাকার মানুষের অনেক দুর্নাম ছিলো তা অনেকখানি ঘুচে গেছে। তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর এই দিনে বই মেলা করা হলে ঢাকার বড় বড় প্রকাশনগুলো আমরা সাতক্ষীরায় খুঁজে পাবো। এতে করে এই এলাকার বই প্রিয় মানুষ এই দিনের অপেক্ষায় থাকবে। বই কেনার জন্য আগে থেকেই বাজেট করে রাখবে। তিনি আরও বলেন, এই বই মেলার জেলার মানুষকে আমুল পরিবর্তন করে দেবে। এই বই মেলার মানুষের মধ্যে শ্রোতধারা সৃষ্টি হয়েছে। এমনিভাবে আমাদের প্রাণ সায়েরের শ্রোতাধারা সৃষ্টি হয়। তাহলে আমাদের দুটি প্রাণ একসাথে ফিরে আসবে। শহরের পরিবেশগত দিন প্রাণ সায়ের খাল এবং সামাজিক জীবন বই মেলার মাধ্যমে দিক নির্দেশনা দেবে। এবছর যেসকল ত্রুটি ছিলো সেগুলো কাটিয়ে উঠে আগামী বছর আরও ভালো একটি বই মেলার উপহার দেবে কর্তৃপক্ষ এমনটি আশা করে এই খ্যাতিমান লেখক ও নাট্যকার ও সাংস্কৃতিককর্মী। তিনি আরও বলেন, ঢাকার বড় বড় ৫২টি প্রকাশনী সাতক্ষীরার বই মেলায় ছিলো এটা আমাদের জন্য কম নয়। এই মেলার জন্য এই জেলার মানুষ হিসেবে আমি আনন্দিত। ঢাকার বই মেলায় ৩০ দিনে আমার যে পরিমাণ বই বিক্রি হয়েছে। ১১ দিনে এই মেলায় অনেক বই বিক্রি হয়েছে। রাজা প্রতিপাদ্যের ইতিহাস বইটি অনেক বিক্রি হয়েছে। এর পাশাপাশি একটি অনুবাদমূলক বইও অনেক কপি বিক্রি করেছি। ঢাকা থেকে আসা প্রজ্বলন প্রকাশনীর বিক্রেতা মুনসুর আহমেদ বলেন, আমরা ঢাকা থেকে যে আশা নিয়ে সাতক্ষীরার বই মেলায় এসেছিলাম সেই তুলনায় বেচা-বিক্রি কম হয়েছে। তারপরও যা হয়েছে খারাপ নয়। শেষ দুই দিন অনেক বই বিক্রি হয়েছে। কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি তারা যে এই ধরনের আয়োজন প্রতি বছর করে। এতে করে এই অঞ্চলের মানুষ বইয়ের প্রতি অনুরাগী হবে এবং বই মেলা উপলক্ষে আগে থেকেই বই কেনার জন্য আলাদা বাজেট রাখবে। প্রসঙ্গত: বঙ্গবন্ধুর জন্মমাস ও ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ৭ মার্চ থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত ‘বই কিনুন, বই পড়–ন ও প্রিয়জনকে বই উপহার দিন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ১১ দিনব্যাপী বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ মেলায় ৬৮টি স্টলে ঢাকাসহ বিভিন্ন প্রকাশনীর বই বিক্রি করে।