আশাশুনির চাকলায় পাউবো’র বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এলাবাসির দুর্ভোগ চরমে


প্রকাশিত : এপ্রিল ১, ২০১৯ ||

আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনির চাকলায় শতাধিক পরিবার বিগত তিন মাস কপোতাক্ষ নদের পাউবো’র বেড়িবাঁধ সংস্কার না হওয়ায় এলাকাবাসির দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। দিন-রাত দু’বার জোয়ার ভাটায় এলাকা ডুবে থাকায় এলাকায় দেখা দিয়েছে সুপেয় পানিসহ খাদ্যের তীব্র সংকট। ওই গ্রামের হাস-মুরগি, গরু-ছাগলসহ গৃহপালিত প্রানী এলাকা থেকে দিন দিন হারাতে বসেছে। প্রায় তিন শতাধিক ছোট-বড় মাৎস্য ঘের তলিয়ে থাকায় অনাহারে-অর্ধহারে দিনপাত করছেন এলাকার মানুষ। উপজেলা প্রতাপনগর ইউনিয়নের ভূক্তভোগী চাকলা গ্রামটি দীর্ঘ কাল ধরে নদীর জোয়ারের পানির চাপে পাউবো’র বাঁধ ভেঙ্গে এখন জোয়ার-ভাটার পানিতে টইটম্বুর। বাঁধটি স্থায়ী ভাবে নির্মাণ না করা হলে এলাকার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিকভাবে ভাঙনের সাথে সাথে যতসামান্য বাঁধ বাঁধার জন্য সহযোগিতা করলেও সেটি কপোতাক্ষের প্রবল জোয়ারে বিলীন হয়ে যায়। দুঃখের বিষয় বিগত ৩ মাস ভাঙ্গন কবলিত বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন কর্মকর্তা এক পলক দেখতেও আসেননি বলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। এদিকে ভাঙন প্রতিরোধের দাবিতে এলাকাবাসি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ ও মানববন্ধন করেছে। কিন্তু তার কোন ফল হয়নি। ভাংঙ্গন কবলিত এলাকার ভূক্তভোগী জনৈক মাগফুর রহমান, ইসমাইল হোসেন, হাবিবুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান ও কালাম ঢালি বলেন, বিগত ৩ মাস পূর্বে কপোতাক্ষ নদীর প্রবল জোয়ারে প্রায় এক’শ হাত বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যায়। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ সংস্কার করলেও এক সপ্তাহের মধ্যে সেটি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। সে থেকে দিনে দু’বার জোয়ার-ভাটা বয়ে নদীর একাত্ততা ঘোষনা করেছে কপেতাক্ষ নদ। বর্তমানে সেখানে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটের পাশাপাশি বিভিন্ন রোগ সংক্রমিত হতে দেখা যাচ্ছে। তাদের দাবি দ্রুত বাঁধটি সংস্কার করা না হলে সামনে বর্ষা মৌসুমে চাকলা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে যে বাঁধ দেয়া আছে সেটিও ভেঙ্গে পুরো প্রতাপনগর ইউনিয়ন প্লাবিত হতে পারে। শিক্ষক আমিরুল ইসলাম জানান, চাকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় হওয়ায় অনেক অভিভাবক তাদের বাচ্চাদের স্কুলে আসতে দিচ্ছেননা। প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন জানান, স্থায়ী ভাবে মাটি না দেওয়ার ফলে মূহুর্তে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে চাকলার বিস্তীর্ন এলাকা প্লাবিত হয়। প্রায় এক’শ একর জমির চিংড়ি ঘের ও ফসলের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। লক্ষ-কোটি টাকার চিংড়ি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দেড় শতাধিক পরিবার পানি বন্দী হয়ে আছে। তিনি আরো জানান, প্রাথমিক ভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সহযোগিতা নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধটি আটকানো হয়। কিন্তু সেটি এক সপ্তাহের মধ্যে ভেঙ্গে যায়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত জোয়ার ভাটা চলছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, কর্যকরী পদক্ষেপ তো দূরে থাক আজ পর্যন্ত কোনদিন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন কর্মকর্তা ঘটনা স্থলে পরিদর্শন করেননি। চাকলাবাসির কথা চিন্তা করে আশ্রায়ণ প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল সেটিও বিভিন্নভাবে বাঁধাগ্রস্থ করেই চলেছে। তিনিসহ ভুক্তভোগী এলাকাবাসি দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহনে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।