প্রকাশ্যে কলারোয়ায় রাস্তার গতিরোধক ভেঙে দিলো চোরাকারবারিরা!


প্রকাশিত : এপ্রিল ২, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: সরকারি রাস্তার জনগুরুত্বপূর্ণ স্পিডব্রেকার ভেঙে দিলো চোরাকারবারীরা। কলারোয়া উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা-গাড়াখালী সড়কের সীমান্তবর্তী কাকডাঙ্গা মোড়ে ব্যস্ততম সড়কে রবিবার সন্ধ্যায় ওই স্পিডব্রেকার ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটেছে।
দ্রুতগতির যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ করতে ও দুর্ঘটনা এড়াতে রাস্তায় যখন গতিরোধক বা স্পিডব্রেকার দেয়া হয় তখন চোরাকারবারীরা তাদের চোরাচালানী পণ্য মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনে দ্রুতগতিতে অন্যত্র পৌছাতে সেই স্পিডব্রেকার প্রকাশ্যে ভেঙে-গুড়িয়ে দিলো।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের কাকডাঙ্গার সিরাজুলের পুত্র সোহাগ (২৬), সাজাহানের পুত্র আলমগীর (২৭), বাগাডাঙ্গা গ্রামের বাহার আলী, মিজানুর (৩৩), কাকডাঙ্গার মোখলেছুরের পুত্র ইসমাইল, ফজলু মিস্ত্রি, হারুন দালালের পুত্র আসাদ (৩২), খালেকের পুত্র রানা (৩৩), বাগাডাঙ্গার ছহিলের পুত্র লাল্টু (২৮), নূর আলীর পুত্র দেলোয়ার (২২)সহ বেশ কয়েকজন চোরাকারবারি বড় হাতুড়ি দিয়ে কাকডাঙ্গা মোড়ের ওই গতিরোধকটি ভাঙ্গতে থাকে। ভাঙা সহজকরনের জন্য গতিরোধকটিতে কেরোসিন ঢেলে দেয়।
এমন অবস্থায় স্থানীয় সার-কীটনাশক ব্যবসায়ী ফাইজুল ইসলামসহ স্থানীয় কয়েকজন দোকানদার গতিরোধকটি ভাঙ্গতে নিষেধ করলে চোরাকারবারি সোহাগ তার উপর চড়াও হয় এবং নানা ধরনের হুমকি দেয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই রাস্তাসহ ভারতীয় সীমান্তবর্তী কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের কাচা-পাকা রাস্তা দিয়ে বেপরোয়া ও লাগামহীন গতিতে চোরাচালানী পণ্য আনা-নেয়ার করে থাকে চোরাকারবারীরা। যানবাহন হিসেবে সাধারণত মোটরসাইকেল, করিমন, ইঞ্জিনভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহনে চোরাচালানী পণ্য একস্থান থেকে অন্যস্থানে পরিবহণ করে থাকে তারা। যেটা স্থানীয় বাসিন্দারা প্রায় সকলেই অবগত।
এলাকার অনেকে আরো জানিয়েছেন, যখন অবৈধ চোরাচালানী পণ্য আনা-নেয়া হয় তখন তাদের একাধিক যানবাহনের বহরে একাধিক চোরাকারবারী সামনে-পিছনে থেকে মোবাইলযোগে কথা বলতে থাকে। ধারণা করা হয়, তারা রাস্তা ক্লিয়ার রাখার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য মোবাইলে কথা বলতে থাকে।
এমনই প্রেক্ষিতে চোরাচালানে অসুবিধার জন্য কলারোয়া উপজেলার কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা বাজার-গাড়াখালী সীমান্ত রাস্তার কাকডাঙ্গা মোড়ের শুরুতে থাকা গতিরোধকটি ভেঙে দিলো স্থানীয় চোরাকারবারিরা।
অনুসন্ধানে আরোও জানা যায়, ভারত থেকে মালামাল পাচারের জন্য ব্লাকাররা এই রাস্তাটিকে অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। এই গতিরোধকের কারণে অতিদ্রুত ব্লাকারা মালামাল বহনে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। ফলে তারা কালোবাজারি পণ্য পরিবহন সহজ করার জন্য এমন অসাধু উদ্যোগ নেয় তারা।
এ ব্যাপারে কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামানের সাথে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’
কলারোয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরএম সেলিম শাহ নেওয়াজের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন এবং জড়িত চোরাকারবারীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান।
তিনি আরো জানান- ‘প্রয়োজনে সেখানে আবারো গতিরোধক পূন:স্থাপন করা হবে।’
৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দিন খন্দকার জানান- ‘বিষয়টি জেনেছি। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’