আশাশুনিতে নির্বাচনী সহিংসতার শিকার হয়ে মারা গেল মুক্তিযোদ্ধা সন্তান!


প্রকাশিত : এপ্রিল ৫, ২০১৯ ||

পত্রদূত রিপোর্ট: নির্বাচনী সহিংসতার শিকার হয়ে আহত মুক্তিযোদ্ধা সন্তান তৌহিদ সানা (৩৫) মারা গেছেন। গত ২৫ মার্চ নির্বাচনী সহিংসতার শিকার হন তৌহিদ সানা। বৃহস্পতিবার চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার পর সন্ধ্যায় আশাশুনির বড়দলে তৌহিদ সানার লাশ পৌছায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতক্ষ্যদর্শী একাধিক ব্যক্তি জানায়, বড়দল গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিক সানার পুত্র তৌহিদ সানা সদ্য শেষ হওয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস প্রতীকের পক্ষে প্রচার চালায়। ভোটের পরদিন ২৫ মার্চ দুপুরের পর মিষ্টি খাওয়ানোর কথা বলে নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ঘরের দরজা লটকানোর হাক দিয়ে তার বুকে উপর্যপুরি আঘাত করা হয়। সেখান থেকে দৌড়ে কোনমতে পার্শ্ববর্তী শুকুরের বিস্কুটের দোকানে গিয়ে আশ্রয় নেয় তৌহিদ সেখান থেকে তাকে টেনে হিচড়ে বের করে তাকে আবারও নির্যাতন করে হামলাকারীরা। এ সময় স্থানীয় মেম্বর আফজাল ও জহুরুল সানা হামলাকারীদের হাত থেকে তৌহিদকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তৌহিদ দৌড়ে বড়দল ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলিমের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এরপর হামলাকারীরা সেখান থেকে তাকে বের করে মারার জন্য গেলে চেয়ারম্যানের স্ত্রী তাদেরকে বাড়িতে ঢুকতে বাঁধা দেয়। পরে স্থানীয়ভাবে তার চিকিৎসা শুরু হয়। সেখানে অবস্থা বেগতিক দেখে পরে তাকে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে খুলনার একটি বেসরকারী হাসপাতালে নেয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সেখানে তৌহিদের মৃত্যু হলে তার লাশ নিজ বাড়িতে আনা হয়। তবে অপর একটি সূত্র জানায়, তৌহিদ মাদকাসক্ত ছিল। কিছুদিন আগে সে মাদক মামলায় জেল থেকে জামিনে মুক্তি পায়। মাদকাসক্ত হওয়ায় মারপিটে সে বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মারা গেছে বলে জানায় সূত্র। এ ব্যাপারে আশাশুনি থানা অফিসার ইনচার্জের সাথে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, এ ধরনের কোন খবর আমার কাছে নেই। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।