ব্যবসায়ীর কাছে টাকা ধার চেয়ে না পাওয়ায় ব্লাক মেইল: রাতেই তদন্ত নেমেছে পুলিশ!


প্রকাশিত : এপ্রিল ৫, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: সরকারি চাকরিজীবী এক নারী ধণাঢ্য ব্যবসায়ীর কাছে টাকা ধার চেয়ে না পেয়ে অবশেষে প্রতারণার মধ্য দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের মুক্তিযোদ্ধা সড়কের প্রাণসায়র রাধানগর এলাকায় এই প্রতারণার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাতেই সাতক্ষীরা সদর থানায় প্রতারণার শিকার বৃদ্ধ কর্তৃক প্রতারক নারীসহ ৫জনকে আসামী করে অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ রাতেই তদন্ত শুরু করেছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
অভিযোগে জানা যায়, শহরের প্রাণসায়র রাধানগর এলাকার বাসিন্দা মহেন্দ্র নাথ সরকারের ছেলে শিবু প্রসাদ সরকার (৬৩) কর্তৃক ইতোপূর্বে সাতক্ষীরা সদর এসিল্যান্ড অফিসে এমএলএসএস পদে চাকরিকালিন শহরের রাজারবাগান উত্তরপাড়ার ইমাদ উদ্দীনের স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে মাসকুরা সুইটিকে দিয়ে জমা-জমির কাজ করিয়ে নিতেন। এসব কাজের মধ্যদিয়ে পরিচয়ের এক পর্যায়ে বেশ কিছুদিন শিবু প্রসাদের কাছে মাসকুরা সুইটি ১০ হাজার টাকা ধার চাইতে থাকেন। কিন্তু তিনি টাকা ধার দিতে অস্বীকার করায় বৃহস্পতিবার দুপুরে মাসকুরা সুইটি ব্যবসায়ী শিবু বাবুর সেল ফোনে জানায় আমি আপনার বাসায় আসছি, একটু কথা আছে। তিনি না আসার কথা জানালেও মাসকুরা সুইটি তার বাড়িতে পৌছে যান। বাসায় বসে কথা বলার ২/৫ মিনিটের মধ্যে সুইটি একটি মিছ কল দেন। এরপর অজ্ঞাত ৫জন আগ্নেয়াস্ত্রধারি ও হ্যান্ডকাপসহ ডিবি পুলিশ পরিচয়ে শিবু প্রসাদের বাসায় ঢুকে উক্ত মহিলার সাথে কি কথা হচ্ছে জানা বোঝার আগেই শিবু প্রসাদের হাতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে ওই মহিলার পাশে বসিয়ে ছবি তুলে ১০ লাখ টাকা দাবি করে কথিত ডিবি পুলিশ পরিচয়ের অজ্ঞাত যুবকরা।
অবশেষে ১০ লাখ টাকা না পেয়ে উক্ত যুবকরা এক লাখ টাকা নির্ধারণ করে। নইলে তাদের অফিসে নিয়ে আসবে বলে জানায়। শিবু প্রসাদ তাদের অফিসে আসতে চাইলেও জানায় যে, দরকার নেই এখন কত আছে তাই দেন। এরপর জোরপূর্বক ১০ হাজার টাকা নিয়ে নিজেদের হাতে ০১৭৭৮-৪৬৫৮০১ মোবাইল নাম্বার লিখে দিয়ে আসে। পরে ওই নাম্বারে যোগাযোগ করে বাকি ৯০ হাজার টাকা পৌছে দিতে বলে। হতবাক শিবু প্রসাদ কি করবে এমন সময় তার প্রতিবেশি সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী ড. দিলিপ দেবকে নিয়ে রাতে দৈনিক পত্রদূত অফিসে আসেন। সেখানে বসে উপরোক্ত নাম্বারে কথা বললে জানান, ডুমুরিয়ার ভাই ভাই ব্রিকস এর কর্মচারি শাহাদাৎ তিনি, এসব ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলছেন, আবার কখনও মেজাজ নিয়ে কথা বলছেন।
অবশেষে রাত ৯টার দিকে সাতক্ষীরা সদর থানায় মাসকুরা সুইটিসহ অজ্ঞাত ৫জনকে আসামী করে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোস্তাফিজুর রহমান রাতে অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি ভিন্ন রকম। অভিযোগটি এসআই তরিকুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি রাতেই তদন্ত করে আমাকে ঘটনা সম্পর্কে জানাবেন। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে রাতে এসআই তরিকুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি বাদির বাড়িতে অবস্থান করছি। ঘটনাস্থলের আসে পাশে কোন সিসি ক্যামেরা আছে কি না সেসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরপর তিনি রাতেই অভিযুক্ত মাসকুরা সুইটির বাড়িতে যান কিন্তু তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। সুইটি পাটকেলঘাটায় থাকেন বলে পরিবারের লোকজন পুলিশকে জানায়। এরপর যা যা ব্যবস্থা গ্রহণ করার দরকার তা তিনি উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান এসআই তরিকুল ইসলাম।
এদিকে রাতে দৈনিক পত্রদূত অফিস থেকে সাতক্ষীরা ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুল হাসমীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এমন ধরণের কোন অভিযান ডিবি পুলিশ করেনি। অতএব এটি ভূয়া হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শও দেন।
তবে প্রতারক এই চক্রটির বিরুদ্ধে শহরের বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে ব্লাক মেইলিং করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠছে বেশ আগে থেকেই। সামাজিক সম্মান রক্ষার জন্য অনেকেই তা প্রকাশ করেনি। মাসকুরা সুইটির বিষয়ে রাতে জেলা প্রশাসন অফিসে যোগযোগ করা হলে তিনি বর্তমানে কোথায় আছেন তা সূত্রটি নিশ্চিত করতে পারেনি। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তিনি ঢাকায় অবস্থান করায় এবং ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এদিকে এসব বিষয় নিয়ে অভিযুক্ত মাসকুরা সুইটির সেল নাম্বার পাওয়া না যাওয়ায় কথা বলা যায়নি।