ঝাউডাঙ্গা ভূমি অফিসে হ-য-ব-র-ল অবস্থা


প্রকাশিত : এপ্রিল ৭, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে উৎকোচসহ ব্যাপক অনিয়ম ও সাধারণ মানুষকে হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। গত দুই বছর যাবত তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানের সরকারি জমি (খাস) মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বরাদ্দ, খাজনার টাকা, জমির নাম পত্তনসহ নানা অভিযোগে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ইউনিয়নবাসি। উক্ত ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসি।

স্থানীয়রা জানান, জমি সংক্রান্ত বা অন্য কোন বিষয়ে ভূমি অফিসে গেলে নায়েব সাহেবকে (শহিদুল ইসলাম) টাকা না দিলে তিনি কোন কাগজ-পত্র গ্রহণ করেন না। এমনকি মোটা অংকের টাকা না দেয়ায় ইউনিয়নের একাধিক ব্যক্তির জমি সংক্রান্ত বিষয়ের অভিযোগ বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। তারা বলেন, ইউনিয়নের অধিকাংশ সরকারি খাস জমি ভূমিহীনদের নাম বাদ রেখে স্থানীয় প্রভাবশালীদের নামে বরাদ্দের ব্যবস্থা করে কয়েক লাখ টাকা উৎকোচ নিয়েছেন। প্রভাবশালীদের সাথে তার গভীর সখ্যতা থাকায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ভয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। উক্ত ভূমি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষকে জিম্মি করে দুর্নীতি ও অনিয়ম করে চলেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহিদুল ইসলাম ভূমি অফিসের সীমানা প্রাচীর দিয়ে নিজেই সেখানে ছোট দোকান ঘর তৈরি মাসিক চুক্তিতে ভাড়া আদায় করছেন। এমনকি অফিসের পাশে মাত্র দশ গজ দুরে সরকারি খাস জমির উপর নির্মিত বেত্রাবতী ফিস নামের একটি প্রতিষ্ঠান সংস্কারের নামে অবৈধভাবে পাকা ইমারতের কাজ, অফিসের একশত গজ দূরে বাজারের তিন নম্বর গলিতে তিনটি দোকান একইভাবে পাকা ইমারত দিয়ে নতুন দোকান নির্মাণ, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশে কয়েকটি দোকান নির্মাণসহ বাজারের অধিকাংশ সরকারি খাস জমিতে অবৈধভাবে কাজ করলেও ভূমি কর্মকর্তা নিরব ভূমিকা পালন করছেন। এছাড়া অসহায় মানুষের নিকট থেকে জমির খাজনার টাকা বেশি নেয়াসহ বিভিন্নভাবে হয়রানীর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, কিছু মানুষ আমাকে হয়রানী করার জন্য সাংবাদিক ভাইদের নিকট ভুল তথ্য দিয়েছে। তিনি জানান, বাজারে সংস্কারকৃত দোকান ঘরের বিষয়ে উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। তবে অবৈধ দোকান ঘর ভাড়া দেয়া, জমির খাজনা ও নামপত্তনের জন্য অতিরিক্ত টাকার নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার ভুমি (এসিল্যান্ড) রনি আলম নূরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশিষ চৌধুরী জানান, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সরকারি (খাস) জমি উদ্ধার করা হবে।