আহ্্ছানিয়া মিশন মসজিদে অধিক মুসুল্লির কথা ভেবে মসজিদ সম্প্রসারণে মূল নকশা অনুযায়ী করার দাবি মুসুল্লিদের


প্রকাশিত : এপ্রিল ৮, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা আহ্্ছানিয়া মিশন মসজিদে অধিক মুসুল্লির কথা ভেবে মসজিদ সম্প্রসারণে মূল নকশা অনুযায়ী করার দাবি মুসুল্লিদের। বর্তমানে যেভাবে মসজিদের ডিজাইন করা হয়েছে সে ডিজাইন অনুযায়ী আহ্ছানিয়া মিশন জামে মসজিদে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অল্প জায়গার জন্য নামাজ আদায় করতে চরম দুর্ভোগে পড়বে মুসুল্লিবৃন্দ। সময় থাকতে মুসুল্লীদের কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরী হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে দ্রুত প্রতিষ্ঠানের সভাপতি জেলা প্রশাসকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় মুসুল্লী এবং পূর্বের ও বর্তমান পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ। নির্মাণাধীন যে মসজিদটি হচ্ছে সেটিও মূল নকশা অনুযায়ী যদি না হয় একই দশা হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় মুসুল্লীরা। বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সূফি ও সাধক হযরত খানবাহাদুর আহ্ছান উল্লাহ (রহ.) তার অন্যতম দর্শন ‘¯্রষ্টার ইবাদত ও সৃষ্টের সেবা’-এ আদর্শে ব্রতী হয়ে ১৯৪৮ সালে সাতক্ষীরা আহ্্ছানিয়া মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি স্থানীয় মুসল্লিদের নিয়মিতভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদ স্থাপন করা হয়। স্থানীয় মুসল্লিদের বর্ণনা মতে প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটিতে নিয়মিতভাবে জুম্মার জামাত আদায় হচ্ছে। দীর্ঘ পট পরিক্রমায় মিশন কর্তৃপক্ষ জীর্ণশীর্ণ মসজিদটিসহ প্রতিষ্ঠানের ভবনটি নতুনভাবে স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সে লক্ষ্যে আর্কিটেকচার দ্বারা একটি মাল্টি কমপ্লেক্স নির্মাণের নকশা তৈরি করা হয়। গত ১১-০৯-২০১৭ তারিখ মিশনের কার্যকরী কমিটির সভায় উক্ত নকশা অনুমোদন করা হয় এবং ২৫-০৯-২০১৭ তারিখ থেকে মাল্টিকমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কমপ্লেক্সের প্লান অনুসারে কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় পূর্বের অবস্থিত মসজিদের অংশে ৪২ ´ ৬৯ ফুট আয়তনে মসজিদের মূল অংশ ও ২০.৯ ´ ১৬ ফুট আয়তনে মসজিদের বারান্দা স্থাপনের প্লান চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু প্রকৌশলী কর্তৃক সরবরাহকৃত মূল প্লান পরিবর্তন করে মসজিদের আয়তন কমিয়ে ৪১ ´ ৩৬ ফুট আয়তনে মসজিদ ও ২১ ´ ১৬ ফুট আয়তনে মসজিদের বারান্দা স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। যা নিয়মিত মুসল্লিদের জন্য দারুণ কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বস্তসূত্রে জানা গেছে, মিশন কর্তৃপক্ষ মসজিদের আয়তন কমিয়ে মসজিদের অংশের স্থাপনায় ব্যাংক ভাড়া দেওয়ার ব্যাপারে দেনদবার করছেন। বর্তমানে নির্মাণাধীন মসজিদের স্থাপনায় সর্বোচ্চ ২৫০ (দুইশত পঞ্চাশ জন) মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। অথচ বর্তমানে জুমুআর জামাতে আগত মুসুল্লির সংখ্যা প্রায় তিন শতাধিক। জুমআর দিনে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় মুসল্লিদেরকে বিব্রতকর অবস্থায় দাঁড়িয়ে খুতবা শ্রবণ করতে দেখা যায়। আসছে মাহে রমজানে মুসল্লিদের সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে। এমতাবস্থায় মিশনের সাধারণ সদস্য ও স্থানীয় মুসল্লিবৃন্দ দ্রুততম সময়ে মাল্টি কমপ্লেক্সের মূল প্লান অনুযায়ী মসজিদ সম্প্রসারণ ও নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন জানিয়েছেন। অধিক সংখ্যক মুসুল্লি এক সঙ্গে নামাজ পড়তে সেদিক বিবেচনা পূর্বক মূল প্লান অনুযায়ী মসজিদ সম্প্রসারণের জন্য সাতক্ষীরা আহ্্ছানিয়া মিশন মসজিদের সভাপতি জেলা প্রশাসকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে স্থানীয় মুসুল্লি ও কমিটির নেতৃবৃন্দ।