কালিগঞ্জে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ বহুলালোচিত শিক্ষক শহিদুলের বিরুদ্ধে!


প্রকাশিত : April 11, 2019 ||

বিশেষ প্রতিনিধি: আবারও নিজ স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে কালিগঞ্জের পূর্ব নলতা গ্রামের মৃত ইমান আলীর ছেলে বহুলালোচিত শিক্ষক শহিদুল ইসলামের (৩৯) বিরুদ্ধে। এঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত ওই লম্পট শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। ইতোমধ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ভুক্তভোগী ছাত্রী, তার অভিভাবক ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলাম সন্যাসীর চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে এক ছাত্রীকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দেয়ার পাশাপাশি যৌন হয়রানি করে আসছিল। সোমবার (৮ এপ্রিল) সকাল ১০ টার দিকে ওই ছাত্রীকে পাশের একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানির চেষ্টা চালায় শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। এসময় সে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে বাড়ি যেয়ে অভিভাবকদের বিষয়টি জানায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর পিতা-মাতাসহ অন্যান্য অভিভাবকবৃন্দ প্রধান শিক্ষকের নিকট এবিষয়ে অভিযোগ করেন। প্রধান শিক্ষক সাথে সাথে বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অবগত করেন।
স্কুল ছাত্রীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল হাকিমের নির্দেশে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান যৌন হয়রানির বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করেন। তদন্তে ঘটনার সতত্য পাওয়া গেছে বলে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন। এদিকে তদন্তকালে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকবৃন্দ লম্পট শিক্ষক শহিদুল ইসলামের দ্রুত অপসারণ ও চাকুরিচ্যুত করার জোর দাবি জানাতে থাকেন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযুক্ত শিক্ষক শহিদুল ইসলামকে তাৎক্ষণিক ভাবে ৭ দিনের ছুটি প্রদান এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ^স্ত করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
সন্যাসির চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শিবানী রাণী ঘোষ এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুছা করিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
এব্যাপারে জানতে চাইলে শহিদুল ইসলাম বলেন, ছাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনাটি সঠিক নয়। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, ইতোপূর্বে লম্পট শিক্ষক শহিদুল ইসলাম উপজেলার মৌতলা, কাশিবাটি, কাজলা, নলতা, শুইলপুর ও সেন্ট্রাল সেহারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। তাকে বারবার বদলী করে পরিস্থিতি সামাল দেয় কতৃপক্ষ। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ওই লম্পট শিক্ষক অপকর্ম করে রেহাই পাচ্ছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। স্থানীয়রা আরও জনান, প্রায় দু’বছর আগে সর্বশেষ সেন্ট্রাল সেহারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরীরত অবস্থায় জনৈক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে শহিদুল ইসলাামের বিরুদ্ধে। এতে এলাকাবাসী তার অপসারণের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। সে সময় শিক্ষা অফিস থেকে তদন্ত টীম গঠন করে ব্যাপক পরিসরে তদন্ত করেন। তদন্তে শহিদুল ইসলামের অপকর্মের সত্যতা পেলেও অজ্ঞাত কারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে সন্যাসির চক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাকে বদলী করা হয়। লম্পট শিক্ষক শহিদুল ইসলামের অশিক্ষক সুলভ কার্যকলাপে নলতা ও পাশর্^বর্তী এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।