বাস মিনিবাস মালিক সমিতি সম্পর্কিত প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য


প্রকাশিত : এপ্রিল ১১, ২০১৯ ||

গত ১০ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে দৈনিক পত্রদূতে ‘সংকটে সুসময়ে দুঃসময়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব এক ও ঐক্যবদ্ধ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি কর্তৃক গঠনকৃত সাতক্ষীরা জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি সাইফুল করিম সাবু, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোরশেদ ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শেখ জাহাঙ্গির হোসেন। প্রতিবাদে বলা হয়েছে ‘ইং-২০১৪ সালের ৬ ডিসেম্বর বিগত বাস মালিক সমিতির সভাপতি ছাইফুল করিম সাবুর তত্ত্বাবধানে সাধারণ সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় অধ্যক্ষ আবু আহমেদ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। ইং-২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর যথা নিয়মে নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্বাচনী তফশিল ঘোষণা সাধারণ সভায় প্রকাশ করার নিয়ম বা সাংবিধানিক দায়-দায়িত্ব থাকলেও সকল নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বাস মালিক সমিতির সদস্যবৃন্দের মতামতের প্রতিফলন না ঘটিয়ে স্বেচ্ছাচারিতায় উচ্চ আদালতে মামলা করে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেন এবং অবৈধভাবে ৬-১২-২০১৭ ইং তারিখ থেকে অদ্যাবধি এককভাবে ক্ষমতা দখল করে থাকে এবং অবৈধভাবে ইং ৬-১২-২০১৭ তারিখ থেকে সাধারণ সভার আগ পর্যন্ত ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকেন। এহেন পরিস্থিতিতে সাধারণ বাস মালিক সমিতির সদস্যগণ নিরুপায় হয়ে পড়েন। অসহায়ত্বে সমিতির কার্যক্রম ব্যাহত হতে থাকে। সাংবিধানিক অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য সাধারণ মালিকগণ সাতক্ষীরা সদর ০২ আসনের অভিভাবক হিসেবে সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির দারস্থ হন। মাননীয় সংসদ সদস্য সাধারণ বাস মালিকগণের চাওয়া পাওয়া অনুধাবন করে গত ইং ৮ মার্চ, ২০১৯ তারিখ সাতক্ষীরা তুফান কনভেনশন সেন্টারের লেকভিউতে মালিকগণের সঙ্গে মত বিনিময়ের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে তিনি সদস্যবৃন্দকে বাস মালিক সমিতি পরিচালনায় অস্থায়ী দক্ষ কমিটি গঠন করাসহ দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে নজরে আসে ক্ষমতায় থাকা সমিতির আহবায়কের। তড়িঘড়ি করে ক্ষমতাকে আকড়ে ধরে রাখার অপকৌশল হিসেবে গত ইং ৬-০৪-২০১৯ তারিখে সমিতির আহবায়ক সাধারণ সভা ডেকে নির্বাচনী তফশিল ঘোষণা করেন। তফশিল ঘোষণায় সাধারণ বাস মালিকগণ সন্ধিহান হয়ে পড়েন। নির্বাচন প্রক্রিয়া আদৌ এভাবে জরুরী ভিত্তিতে করা সম্ভব কি না? প্রশ্ন তোলেন। সাধারণ মালিকগণ তৎক্ষণাৎ মাননীয় সাংসদের দ্বারস্থ হয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য সবিনয়ে অনুরোধ করেন। সাধারণ বাস মালিকগণের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সাংসদ মহোদয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি সর্বপক্ষের মালিকগণের সমন্বয়ে ১৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি অস্থায়ী সমিতি পরিচালনা কমিটি ঘোষণা করেন। সাধারণ মালিকগণ শান্তি ফিরে পান। সেই আলোকে বর্তমান কমিটি শুধুমাত্র নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন মাত্র। এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। নির্ভেজাল সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সকল কার্যক্রম প্রক্রিয়া চলমান।
এখানে এমপি মহোদয়ের ব্যক্তিগত কোন সিদ্ধান্ত নয়। বাস মালিকদের দেওয়া মতামতের প্রতিফলন। এহেন পরিস্থিতিতে পত্রিকায় প্রকাশিত মাননীয় সাংসদকে হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষে ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধারের উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে যে অসত্য, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দকে উত্তেজিত করে উক্ত সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। আমরা উক্ত প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
প্রতিবেদকের বক্তব্য:
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সভার সংবাদটির একটি লাইনে সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি কর্তৃক গঠনকৃত জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির কমিটির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে “উল্লেখ থাকে যে এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদকে জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির আহবায়কের পদ থেকে এক ব্যক্তির কলমের খোঁচায় সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা নিন্দনীয়।” কিন্তু মালিক সমিতির নামে পাঠানো প্রতিবাদে ঘটনার দীর্ঘ বর্ণনা করা হয়েছে। এই বর্ণনায় যে বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে তা থেকে এই প্রশ্নগুলো উঠে এসেছে। প্রথমত: প্রতিবাদকারী সাইফুল করিম সাবু, গোলাম মোরশেদ ও শেখ জাহাঙ্গির হোসেন মালিক সমিতির ৫ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটিরও সদস্য ছিলেন। আহবায়ক বাঁধা হলে তারা কেন সময়মত নির্বাচনের উদ্যোগ নেন নি? দ্বিতীয়ত: ৬ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায়ও উক্ত ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের উপস্থিতিতে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। এরফলে মালিকদের সন্ধিহান হয়ে পড়ার কি কারণ ঘটলো তা কারোরই বোধগম্য নয়। তৃতীয়ত: বাস মিনিবাস মালিক সমিতির গঠনতন্ত্রে এভাবে কমিটি গঠন করার কোন একতিয়ার মাননীয় সংসদ সদস্যকে দেয়া হয়েছে কিনা সেটাও সচেতন মহল জানতে চায়। চতুর্থত: সাংবিধানিক অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য সাধারণ মালিকগণ সাতক্ষীরা সদর ০২ আসনের অভিভাবক হিসেবে সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির দ্বারস্থ হন বলে প্রতিবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশ্ন নির্বাচন বাদ দিয়ে গঠনতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার এই অদ্ভুত ফরমুলা আর কোথায় আছে?