স্টেশন অফিসার কবীর উদ্দীনের কাছে জিম্মি পশ্চিম সুন্দরবনের বনজীবিরা


প্রকাশিত : April 17, 2019 ||

শ্যামনগর প্রতিনিধি: নাম তার মো. কবীর উদ্দীন। তিনি বনবিভাগের এক স্টেশন অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। বর্তমানে তার কর্মস্থল পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালীনি স্টেশনে।
গোটা পশ্চিম সুন্দরবন এলাকাজুড়ে তার এখন একক আধিপত্য বা রাজত্ব চলছে। সরকারি বেতনের বাইরেই কবীর উদ্দীনের মাসে উপার্জন লাখ টাকার উপরে। যার পুরোটা আসে সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে। আর গোরতর এবং অতি স্পর্শকাতর এসব অভিযোগ ভুক্তোভোগীসহ খোদ সুন্দরবনে যাতায়াতকারী জেলে বাউয়ালীদের। যারা কিনা গোপন এবং নিরপেক্ষ তদন্ত টিমের কাছে কবীর উদ্দীনের রাম-রাজত্বের যাবতীয় অপকর্মের ফান্ডা খুলতে প্রস্তুত বলেও নিশ্চিয়তা দিয়েছে।
অভিযোগকারী এবং ভুক্তোভোগী জেলে বাউয়ালীদের আরও দাবি কবীল উদ্দীন যে শুধু টাকা উপার্জনে পারঙ্গম, তেমনটি নয়। বরং উপর মহলের সাথে সখ্যতায় তার জুড়ি মেলা বার। যে কারনে বার বার অসংখ্য অনৈতিক ঘটনা ঘটিয়েও তিনি বার বার পার পেয়ে গেছেন এবং যাচ্ছেনও। তার বিরুদ্ধে খোদ এসিএফ এর নিকট অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পর্যন্ত মেলেনি বলে দাবি অনেকের।
অভিযোগ সুত্রে প্রকাশ কবীর উদ্দীন প্রায় দুই বছর আগে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালীনি ষ্টেশনে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে তিনি গোটা বুড়িগোয়ালীনি ষ্টেশনের নিয়ন্ত্রনভার নিয়ে গোটা পশ্চিম সুন্দরবনের উপর এক আধিপত্য বিস্তার গড়ে তোলেন।
ঈারশে মাছের পোনা শিকার ধরার বন্ধ থাকলেও তিনি যোগদানের পর থেকে আবারও পারশে মাছের পোনার চালান নিতে ইঞ্জিন চালিত নৌকা বনে ঢোকার সুযোগ পেয়ে যায়। এছাড়া সিডর ও আইলার পর থেকে গরানের অকশন বন্ধ থাকা সত্ত্বেও কবীর উদ্দীণ যোগদানের কিছুদিনের মধ্যে গরানের অকশন এর প্রচলন ঘটিয়ে দেয় মুলত তার গরান কাঠ পাচার প্রক্রিয়াকে বৈধতা দিতে। যে কারনে নওয়াবেঁকী বাজারে বিভিন্ন সময়ে গরান কাঠ বিক্রি নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও প্রতিবারই কবীল উদ্দীন ঐসব কাঠ অকশন এর বলে দাবি করে চোরাই ব্যবসায়ীদের পক্ষালম্বন করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে গত ফেব্রুয়ারী মাসের ২ তারিখ সন্ধ্যায় শ্যমানগরের হায়বাদপুর মোড়ে স্থানীয় এক সংবাদকর্মীসহ কয়েক যুবক গরান কাঠের বিশলাকারের একটি চালানসহ ইঞ্চিন চালিত নসিমন আটক করে। এসময় আটককৃত চালানের মালিক ই¯্রাফিল হোসেন শুরুতে যাবতীয় গরান কাঠ আব্দুল আজিজের জানিয়ে মুটোফোনে আব্দুল আজিজকে ফোন ধরিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে ই¯্রাফিল তার ব্যবহৃত মুটোফোন বুড়িগোয়ালীনি স্টেশন অফিসার কবীর উদ্দীনকে ধরিয়ে দিলে তিনি মুটোফোনের এ পাশে থাকা ব্যক্তিদের জানায় অল্প কিছু গরান কাঠ হয়তা গোলপাতার নৌকায় করে নিয়ে যাচ্ছিল। তাই তাদেরকে ঝামেলা না করে ছেড়ে দিলে আব্দুল আজিজ পরের দিন সংশ্লিষ্টদের সাথে দেখা করে ‘ঝামেলা’ মিটিয়ে ফেলবে।
এসময় সেখানে উপস্থিত হয়ে এক সংবাদকর্মী মুটোফোনে কবীর উদ্দীনের কাছে জানতে চায় যে গোলপাতার নৌকা আনলোড হচ্ছে ঝাঁপালী ও নওয়াবেঁকী, কিন্তু রমজাননগর থেকে সদ্য কাটা গরানের খুঁটি আসার নেপথ্য কারণ কি? এসময় চোরাকাঠ শিকারীদেও পক্ষ নিয়ে প্রতিবেদককে কবীর উদ্দীন স্পষ্ট জানায়, ‘হয়তো বা তারা কিছু গরান কাঠ চুরি করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে এবং ঐ পথে পাচার হচ্ছে’। তবে পরবর্তীতে এসব বিসয়ে কার্যক্রম কোন উদোগ নেয়ার বিষয়ে তিনি নুন্যতম আগ্রহ প্রকাশ করেননি প্রতিবেদেকর কাছে।
জানা গেছে ২ ফেব্রুয়ারির পর দিন রাত নয়টার দিকে কাশিমাড়ির গোবিন্দপুর এলাকায় প্রায় একই ধরনের একটি গরান কাঠের চালান আটক করলেও স্থানীয়রা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন বলে স্থানীয়রা সাংবাদিকরা নিশ্চিত করেন। এদিনও কবীর উদ্দীনকে মুটোফোনে যোগাযোগ করে তোন প্রতিকার না মেলার অভিযোগ স্থানীয় ঐসব তরুণদের। তাদের দাবি মুলত অর্থের বিনিময়ে কবীর উদ্দীন সুন্দরবন উজাড় করার ‘প্রজেক্ট’ হাতে নিয়ে বুড়িগোয়ালীনি ষ্টেশনে যোগদান করেছিলেন। এখন তার উদর পুর্তি হওয়ার কারণে তিনি আপাত ষ্টেশন বদলেরও চেষ্টা করছেন বলেও অনেকের দাবি।
ষ্টেশন অফিসার কবীর উদ্দীনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ মাছ কিংবা কাঁকড়া ধরার পাশ দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি দালালদেও মাধ্যমে জেলেদেও পাশ প্রদান করেন। সুন্দরবনে কাঁকড়া শিকারের কাজে আটল ব্যবহারে স্পষ্ট বিধি নিষেধ থাকা সত্ত্বেও কবীর উদ্দীনের প্রত্যক্ষ মদদে এ বছর প্রায় ৭৩টি নৌকায় পাট থেকে সাতশ’ আটল নিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। ছোট নৌকা প্রতি এক হাজার এবং বড় নৌকার জন্য পাঁচ হাজার পর্যন্ত নগদ নারায়ন গুনতে হতো স্টেশন অফিসার কবীর উদ্দীনের জন্য।
গুনধর এ বনকর্মকর্তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে সুন্দরবন কিংবা বঙ্গপোসাগর এলাকা থেকে পারশেসহ যেকোন পোনা সংগ্রহ সম্পুর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু প্রমানিত শতাধিক অভিযোগ রয়েছে যে বছরের শুরু থেকে একমাত্র কবীর উদ্দীনের প্রত্যক্ষ মদদে প্রায় প্রতিদিনি বার-চৌদ্দটি পর্যন্ত ইঞ্জিন চালিত নৌযান পারশে মাছের পোনা শিকারে যায় সুন্দরবনে। এক্ষেত্রে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তি কবীর উদ্দীনের পক্ষে যাবতীয় টাকা লেনদেন করেন বলেও অভিযোগ।
রওশন, আলী আকবর, জহিরুল হোসেনসহ অনেকের অভিযোগ প্রতিটি পারশে মাছের পোনা শিকারের কাজে ব্যবহৃত নৌকাকে সুন্দরবনে যাওয়ার জন্য পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা দিতে হয় কবীল উদ্দীনকে। তবে সাংবাদিক নামধারী ঐ ব্যক্তির মাধ্যমে যদি কেউ সুন্দরবনে পারশে মাছের পোনা শিকারে যায় তবে জন্য ত্রিশ হাজার টাকায় সন্তুষ্ট থাকেন তিনি।
বুড়িগোয়ালীনির স্টেশনের এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ গোলপাতা মৌসুমেও তিনি প্রায় বিশ লাখ টাকারও অধিক হাতিয়ে নিয়েছেন।
শরীফ উদ্দীন, মোখলেছুর, শামিম ও গোলামসহ অনেকের অভিযোগ গোলপাতা মৌসুমে যারা সুন্দরবনে গোলপাতা সংগ্রহ করতে যান তাদের সবাইকে নওয়াবেঁকী এলাকার আব্দুল আজিজ নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে পাশ সংগ্রহ করতে হয়। ঐ আব্দুল আজিজ ছাড়া অন্য কারও কাছে কবীর উদ্দীন পাশ যে প্রদান করেন না সে বিষয়ে স্থানীয় সকলেই কমবেশি ওয়াকিবহাল রয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে। বিষয়টি নিয়ে তারা গোলপাতা মৌসুমের শুরুতেও সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করেছিলেন।
গোলপাতা কাটার সাথে যুক্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অসংখ্যা ভুক্তোভোগীর (যারা তদন্ত টিমের সামনে গোপনে যাবতীয় তথ্য দিতে সম্মত) অভিযোগ গোলপাতা সংগ্রহের জন্য যেসব নৌকা বনে যায় তাদের কোন ঝুল দেয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু এবার গোলকুপের দায়িত্বে থাকা কবীর উদ্দীন এসব প্রতিটি নৌকা মালিক এর নিকট থেকে নির্দিষ্ট অংকের বিনিময়ে ফেরত আসার সময় প্রতিটি গোলপাতা বোঝাই নৌকায় শত শত মণ ঝুল কাঠ নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে। যদিও বিধিতে রয়েছে যে গোলপাতা সংগ্রহকারীরা সুন্দরবনে প্রবেশের সময় নিজেরোই ঝুল ও মলমের যাবতীয় কাঠ নিয়ে যাবে।
এছাড়া গোলপাতা বোঝাই নৌকা ফিরে আসার সময় গোলপাতা পড়ে যাওয়ার শংকায় নৌকার দু’পাশে শত শত মোটা গরানের খুঁটি ব্যবহারের সুযোগ দানের মাধ্যমে তিনি সুন্দরবন থেকে গরান কাঠ পাচারের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন বেলও অনেকের অভিযোগ।অ এসব অভিযোগকারী জানান, নওয়াবেঁকী আব্দুল আজিজসহ কছেশৎনের গোলপাতার নৌকা আনলোড হওয়ার সময় সেখানে সংবাদকর্মীরা উপস্থিত হয়ে গোলপাতার নিচে গরান কাঠ দেখতে পায়। এছাড়া মলম হিসেবে নৌকার দুপাশে আরও শত শত গরানের খুটি দেখা যায়। তাৎক্ষকিনভাবে কবীর উদ্দীনের কাঠে মুটোফোনে বিষয়টি জানানো হলে তিনি ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিয়ে বলেন, ভাই, পাতার চাপ রাখার জন্য অঅমরা রাজস্ব নিয়ে কিছু কিছু গরান কাঠ দিতে বাধ্য হই। তবে গরান কাঠ কর্তন নিষিদ্ধ বলে জানাতেই ‘পারলে উচ্চ মহলের কাছে নালিশ করেন-জানিয়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছন্ন করে দেন।
আবুল কাশেম ও জবেদ আলী, আব্দুল হামিদসহ অনেকের অভিযোগ কবীর উদ্দীনের প্রত্যক্ষ মদদে গোলপাতা মৌসুমে পাচার হয়ে আসা হাজার হাজার মণ গরান কাঠ এখন নওয়াবেঁকী বাজার ও ঝাপাাঁলী বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স নামীয় প্রতিষ্ঠানে বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যে। এসব বিসয়ে াভিযোগ জানালে কবীল উদ্দীনের ষ্পষ্ট জবাব, সবার অকশনের স্লিপ রয়েছে।
তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান গত জানুয়ারী মাসে কবীর উদ্দীনের তৎপরতায় একটি অকশন হয়। কিন্তু ঐ একটি অকশন এর স্লিপকে পুঁজি করে নওয়াবেঁকী থেকে ঝাঁপালী গোটা এলাকার সকল কাঠ পাচার চক্রের সদস্যরা কবীর উদ্দীনের আনুকুল্যে দিব্যিব্যবসা করে যাচ্ছেন।
স্থানীয় অনেকেরই অভিযোগ এসব আড়ৎদাররা প্রশাসনের অভিযানের ভয়ে যৎসামান্য গরান কাঠ সামনে প্রদর্শনীর জন্য রাখলেও তাদের অজ্ঞাত গুদামে হাজার হাজার মন গরান কাঠ পাওয়া যাবে ক্রেতা সেজে ক্রয়ের চেষ্টা করলে।
সরকারি বিধিতে রয়েছে সুন্দরবনের ভিতরে কোন ইঞ্জিন চালিত নৌকা প্রবেশ করতে পারবে না। কিন্তু শত শত জেলের সরল স্বাকারোক্তি কবীর উদ্দীনের নেতৃত্বে বনকর্মীরা টহল এর আড়ালে বারশ থেকে পনের শত টাকার বিনিময়ে বৈধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশকারী জেলেদের বহনকারী নৌকা টেনে নিয়ে গন্তব্যে পৌছে দেয়। একইভাবে কবীর উদ্দীনের নেতৃত্বে মাছ শিকার শেষে টহলের নামে মাছ ধরা শেষে ঐসব জেলেদেরও নির্ধারিত অংকের টাকার বিনিময়ে লোকালয়ে পৌছে দেয়ার কাজ চলে।
এদিকে আরও একটি অভিযোগ রয়েছে গত ৮ মার্চ তারিখে সুন্দরবনের কেওড়াতলীর অভয়ারন্য থেকে মাছ শিকারের সময় কবীর উদ্দীনের নেৃতত্বে টহল টিম ২৪ জেলেকে পাঁচটি নৌকাসহ আটক করে। পরে তাদের বন আইনে মামলা দিয়ে চালানের ভয় দেখিয়ে নদীর মধ্যে জিম্মি রেখে ঐ চালানের মালিক আমজাদের নিকট থেকে এক লাখ টাকা গ্রহণ করে। আমজাদ নিজে এই প্রতিবেদকের কাছে স্বীকারোক্তিতে জানায়, ঐ মুহূর্তে তার জেলেরা নদীতে জিম্মি থাকায় এবং তার কাছে নগদ টাকা না থাকার দরুণ তিনি সোনার মোড়ের জনৈক আড়ৎ মালিক হারুন সাহেবের থেকে এক লাখ টাকা নিয়ে কবীর উদ্দীনের প্রেরিত ব্যক্তির হাতে উঠিয়ে দেন। এক পর্যায়ে তার পাঁচটি নৌকাসহ ইসমাইল, আল আমিনসহ অন্য জেলেদের মুক্তি মেলে।
উল্লেখ্য প্রায় একই ধরনের অপর একটি ঘটনায় পুস্পকাটির ওসি মহসীন আলমও চার জেলেকে অভয়ারন্য এলাকা থেকে আটকের পর পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়ে জিম্মি দশা থেকে মুক্তি দেয়। তবে বিষয়টি স্থানীয় এক ব্যক্তির (কবীর উদ্দীনের আস্থাভাজন) তৎপরতায় বনবিভাগ এর পদস্থ কর্তাদের গোচরীভুত হওয়ায় তিনি মুক্তিপন বাবদ আদায় কৃত সমুদয় টাকা ফেরত দিলেও কবীর উদ্দীনের ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অসংখ্যা জেলে জানায় অভয়ারন্য এলাকায় মাছ শিকারে যাওযার জন্য স্টেশন অফিসার কবীর উদ্দীনকে তারা নৌকাপ্রতি তিন হাজার করে টাকা দেন। তারপরও মাঝেমধ্যে তিনি টহলে যেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ মারাত্বক দুর্ব্যবহার করেন। এছাড়া তাকে ফাঁকি দিয়ে কিংবা অন্য কোন বনকর্মীদের উৎকোচ দিয়ে যদি তারা সুন্দরবনের অভয়ারন্য এলাকায় যান তবে ধরা পড়লে কবীর উদ্দীনকে মোটা অংকের টাকা জরিমানা দিয়ে নিস্কৃতি পেতে হয়।
প্রসংগত উল্লেখ্য গত ১৩ এপ্রিল বুড়িগোয়ালীনির সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিসে বিশেষ একটি অনুষ্ঠান চলাকালে কবীর উদ্দীনের এধরনের অনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে ব্যাপক বাক-বিতন্ডা শুরু হলে কতৃপক্ষ দ্রুত অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
জানা গছে প্রায় দুই বছর হতে চলেছে কবীর উদ্দীন সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালীনি স্টেশনে যোগদান করেছেন। এসময়ের মধ্যে তিনি কাঠ পাচার, রেনু সংগ্রহের সুযোগ প্রদান, জেলেদের নৌকা টেনে নেয়া ও অভয়ারন্য এলাকা থেকে মাছ শিকারের অনমুতি দেয়াসহ নানা কৌশলে কোটি টাকা কামিয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
মো. শরীফ উদ্দীন, আলী আকবর, ইসমাইল হোসেনসহ স্থানীয় শত শত ব্যক্তি দুদক এবং এনবিআরসহ সরকারের বিশেষ সংস্থাসমুহের কাছে আর্তি জানিয়েছে কবীর উদ্দীনের সহায় সম্পদসহ স্থাবর অস্থাবর সম্পতির বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার। একই সাথে তার বিরুদ্ধে গোপনে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে তার অত্যচারের শিকার পশ্চিম সুন্দরবনের দুই শত জেলে। যারা গোপন তদন্ত টিমের সমম্মুখে ক্ষমতাধর কবীর উদ্দীনের যাবতীয় অপকর্মের প্রমান দিতে প্রস্তুত বলেও জানান।