মুন্সীগঞ্জের চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের খুঁটির জোর কোথায়? ভিজিডির কার্ড বিতরণ করল নাশকতাকারীদের মাঝে


প্রকাশিত : এপ্রিল ১৯, ২০১৯ ||

আজিজুর রহমান, শ্যামনগর (সদর): দেশের আইন চলে প্রচলিত আইনের গতিতে। আর শ্যামনগর উপজেলার ৭নং মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অর্ধডজন নাশকতা মামলার আসামী কাশেম মোড়লের পরিষদের সরকারি কার্যক্রম চলে তার নিজস্ব আইনে। সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নে ভিজিডি কার্ড বিতরণে চেয়ারম্যান কর্তৃক নজির বিহীন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ওই ইউনিয়ন পরিষদের নয় ইউপি সদস্য চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়লকে দায়ী করেছে। মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর আনারুল,সেলিনা সাঈদ, মোস্তফা কামাল, মোস্তফা শেখ, উৎপল জোয়াদ্দার, নুরজাহান খাতুন, সিরাজুল ইসলাম, ফজলুল হক ও জামেলা খাতুন জানান, মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নে এবার সরকার ৪০১টি ভিজিডি কার্ড বরাদ্দ দিয়েছে। যার ৩৫০টির অধিক উপকারভোগীর তালিকা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল নিজেই তৈরি করেছে এবং তার সমর্থিত দলীয় লোকদের মাঝে বিতরণ করেছে। যাহা সরকারী নীতিমালা সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এদিকে মহিলা বিষয়কের কার্যালয় থেকে মুন্সীগঞ্জের চুড়ান্ত ভিজিডি তালিকা থেকে দেখা যায় চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল জামায়াত সমর্থিত চেয়ারম্যান হওয়ায় ৩৭টি ভিজিডি কার্ড দিয়েছে একাধিক নাশকতা মামলার আসামীদের এবং শতাধিক কার্ড দিয়েছে যাদের অবস্থা খুবই ভাল,জমাজমি আছে, দোতলা ঘরও রয়েছে। তাছাড়া উপজেলার অনুমোদিত তালিকা এবং ইউনিয়ন পরিষদের মাল বিতরণের তালিকার সাথে কোন নামের মিল নেই। ৩৪টি কার্ডে ক্রমিক ২৭, ৩০, ৩৪, ৩৬, ৩৭, ৩৯, ৪১, ৫৭, ৭১, ৮৫, ১০০, ১০৫, ১১৮, ১২৪, ১৫৮, ১৯৩, ১৯৫, ১৯৭, ২১৮, ২২০, ২৩২, ২৩৩, ২৫৭, ২৬৩, ২৯২, ৩১২, ৩২২, ৩২৯, ৩৩২, ৩৪৪, ৩৭০, ৩৮৯, ৩৯৪ ক্রমিকের নামের সাথে কোন মিল নেই। চেয়ারম্যান কাশেম মোড়লের নিজের তৈরি করা আইনে এই সমস্ত ক্রমিকের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে শ্যামনগর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ শুনেছি আপাতত মুন্সীগঞ্জের ভিজিডি ডিও বন্ধ রাখা হবে। পরবর্তীতে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের বিষয় চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল জানান, নাশকতার মামলা খেয়ে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমি তাদের সহযোগিতা স্বরুপ ভিজিডি কার্ড দিয়েছি। আইনে আমার যা হওয়ার হোক। তাছাড়া মেম্বরদের কাছে একাধিকবার তালিকা চেয়ে না পাওয়ায় আমি নিজেই তালিকা প্রস্তুত করে জমা দিয়েছি। এদিকে একাধিক ইউপি সদস্য জানান, চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল অর্ধডজন নাশকতা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামী এবং তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট গৃহীত হওয়ায় তাকে তার পদ থেকে সাময়িক বরখস্তের জন্য স্থানীয় মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছি। অভিযোগের বিষয় জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে জানা যায়, চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়লের বিরুদ্ধে ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার সচিব বরাবর অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।