তিন চিকিৎসকের স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়ে তদন্তটিমের কার্যক্রম স্থগিত


প্রকাশিত : এপ্রিল ২৫, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের ১২ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ ক্রয়ে সার্ভে কমিটির ৩ চিকিৎসকের স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনায় দায়েরকৃত অভিযোগের দ্বিতীয় দফায় গঠিত তদন্তটিমের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিভিল সার্জন ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, দুদকের হস্তক্ষেপের পর এই তদন্তের আর প্রয়োজন হয়না। তারপরও অফিসিয়ালি নিশ্চিত করতে হলে রবিবার ছাড়া বলতে পারছি না।
অপরদিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুজ্জামান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানিয়েছেন, যেহেতু আমরা সিভিল সার্জন বরাবর অভিযোগ করেছি, সেহেতু কোন একটা ফলাফল না জানা পর্যন্ত ফৌজদারি কার্যবিধি অপরাধের ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছি না। এটি নিয়ে প্রয়োজনে আদালতে মামলা করা হবে। তিনি বলেন, দুদকের কর্মকর্তাদের সামনে ডাকা হয়েছিল। আমরা বলেছি বা আমাদের স্বাক্ষর নিয়েছেন দেখে পরিস্কার ওই স্বাক্ষর আমাদের নয়। এছাড়াও অন্য স্থানের স্বাক্ষর স্ক্যানিং করে বসানো হয়েছে সেটিও ভালভাবে বোঝা যাচ্ছে। স্বাক্ষরটি ফেটে ফেটে গেছে।
ডা. আসাদুজ্জামান আরও জানান, বৃহস্পতিবার এমএসআর এর বিভিন্ন ওষুধ ও যন্ত্রাংশ আসার পর সেখানের সার্ভে বোডে আমাদেরকে রাখা হয়েছে অথচ আমরা জানিনা। এরপর আমাদেরকে সেখানে ডাকা হলে যেয়ে বলে এসেছি, সিভিল সার্জন অফিসের ফজলুল হক ও আনোয়ার হোসেন থাকাকালিন কোন কমিটিতে রাখবেন না, আর আমরা থাকতেও চাই না। কখন কোন ঝামেলায় পড়ে যাই এই আতঙ্কে আছি। দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় সিভিল সার্জন অফিসের অন্যান্যরা অতঙ্কে আছেন, কখন কি হয়। এসব কারণে সকলের পক্ষ থেকে দাবী তোলা হয়েছে আলোচিত দুই দুর্নীতিবাজকে সরিয়ে দেয়ার জন্য।
নাক প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানিয়েছেন, ভাই এমন বিপদে আছি। এসব ঘটনার সাথে নূন্যতম যুক্ত না থাকলেও শহরের মানুষজন দেখছেন আর আমাদেরকেও যেন অভিযুক্ত ভাবছেন। বলছেন নানা কথাও। শুনে আর পারছি না। যে কোন সময় বদলি হয়ে চলে যাওয়ার চিন্তায় আছি।