মৃত্যুর কাছে হার মানলেন সেই নমিতা ব্যানার্জী


প্রকাশিত : মে ১২, ২০১৯ ||

ইলিয়াস হোসেন, তালা (সদর): তালার মেশেরডাঙ্গা গ্রামে ইউপি নির্বাচনী সহিংসতার শিকার সেই নমিতা ব্যানার্জী মৃত্যুর কাছে হেরে গেছেন। দীর্ঘ ৩ বছর আঘাতের যন্ত্রণা সহ্য করে গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নির্বাচনী প্রতিপক্ষের হামলায় নমিতার মৃত্যু হওয়ায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করতে দেখা গেছে। ঘটনার সংবাদ পেয়ে শনিবার সকালে স্থানীয় খেশরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রভাষক রাজিব হোসেন রাজুসহ একাধিক জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ নিহত নমিতা ব্যানার্জীর বাড়িতে যান।
নিহত নমিতা ব্যানার্জীর স্বামী কার্তিক ব্যানার্জী জানান, বিগত ২০১৬ সালের ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের ১নং (রাজাপুর, মেশেরডাঙ্গা) ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী নিতাই বাছাড়ের পক্ষে তারা ভোট করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ভোটের পরদিন ২৩ মার্চ দুপুরে নির্বাচনে বিজয়ী ইউপি সদস্য নিমাই সানার নেতৃত্বে দূর্বৃত্তরা প্রভাষক আদিত্য ব্যানার্জীর বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় প্রভাষক আদিত্য ব্যানার্জী ও নমিতা ব্যানার্জীসহ ৭জন আহত হন। এ ঘটনায় সেসময় তালা থানায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা (১২/১৬) দায়ের করা হয়, যা এখনও বিচারাধিন রয়েছে। অপরদিকে নিমাই বাহিনীর হামলায় মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হওয়া নমিতা ব্যানার্জীকে তালা হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেদিন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতী হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর থেকে নমিতা ব্যানার্জীকে পর্যায়ক্রমে ভারত এবং দেশের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে ৩বছর ধরে চিকিৎসা করানো হচ্ছিল। কিন্তু মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় নমিতা ব্যানার্জী পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। সর্বশেষ মাথার সেই ক্ষত স্থানে আবারও সংক্রমন হলে নমিতা ব্যানার্জীকে চলতি মাসের ৩ তারিখে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখানে ১সপ্তাহ ধরে চিকিৎসা করালেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরিবারের মাঝে আশঙ্কা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে গত শনিবার দৈনিক পত্রদূতসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এ বিষয়ে প্রভাষক আদিত্য ব্যানার্জী জানান, দুর্র্র্বৃত্ত নিমাই বাহিনীর হামলায় মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া নমিতা ব্যানার্জী ৩বছর ধরে চিকিৎসাধীন ছিল। সর্বশেষ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। যে কারণে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। কিন্তু ঢাকায় নেওয়ার সময় না দিয়ে তিনি সাতক্ষীরাতেই মারা যান।
এ বিষয়ে তালা থানার ওসি মো. মেহেদী রাসেল জানান, হামলার ঘটনায় সে সময় দায়ের হওয়া মামলা তদন্ত করে ইতোমধ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়েছে। যে কারণে নিহত নমিতা ব্যানার্জীর লাশ ময়না তদন্ত সম্ভব হচ্ছেনা। তবে বিজ্ঞ আদালত আদেশ দিলে লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্ত করাসহ যথাযথ পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।