কলারোয়ায় মামলা করায় বাদিকে হুমকি!


প্রকাশিত : মে ১৪, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: মারপিটের মামলা করায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে দুর্বৃত্তরা। মামলা তুলে না নিলে ফের বাড়ি ঘরে হামলা করে এলাকা ছাড়া করা হবে বলে হুমকিও দিচ্ছে তারা। উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের ক্ষেত্রপাড়া গ্রামে এ ঘটনা। জয়নগর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধরণ সম্পাদক সলোমন সরকার বলেন, গত ২০১৩ সালে জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাসীরা তাকে সরসকাটি বাজারে মারপিট করে আহত করে। তিনি খ্রিস্টান সম্পদায়ের সদস্য হওয়ায় এলাকার সংখ্যালঘুদের একত্রিত করে এলাকায় নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। আওয়ামী লীগ ফের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসায় জামায়াত শিবিরের লোকজন তাকে দুর থেকে হুমকি প্রদান করে আসছিলো। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাচনের পর হুমকিদাতা জামায়াত বিএনপির সেইসব সদস্যরা আ’লীগে যোগদান করে প্রকাশ্যে আসে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে গত ৯ মে বিকালে সরসকাটি বাজারে একা পেয়ে নব্য আওয়ামী লীগ সদস্য পুলিশের উপর হামালা মামলার চার্জশীটভূক্ত আসামী মৃত আছির বিশ্বাসের ছেলে রেজাউল বিশ্বাস, গোলাম গাজীর ছেলে সাবান আলী গাজী, ফজর আলী গাজী, ফজর আলী গাজীর ছেলে ইসকান্দার গাজী, রোকেন গাজী, ওবায়দার গাজী, আকছেদ আলীর ছেলে মোখলেছুর রহমান বাবু, রামকৃষ্ণপুর গ্রামের রফিকুল গাজীর ছেলে ছিদ্দিক গাজী মারপিট করে জখম করে। প্রকাশ্যে এ ঘটনার সময় বাজারের লোকজন এসে তাদের কবল থেকে আমাকে উদ্ধার করে। এসময় তারা এলাকার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকজনকে এলাকা ছাড়া করারও হুমকি দেয়।
এ ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে গত ১২ মে কলারোয়া থানায় আসামীদের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে গত দুই দিন আমাদের খ্রিস্টান পাড়ায় ঢুকে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিচ্ছে। তারা ফের হামলা করে বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দেয়ারও হুমকি দিচ্ছে। তাদের ভয়ে এলাকার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
জয়নগর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মাষ্টার আজিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, গত রবিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি দুই পক্ষকে ডেকে মিমাংসার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। সলোমন মামলা করায় প্রতিশোধ নিয়ে তাদের উপর আবারো হামলা না করে আসামীরা মিটমাট করবে না জানালে সেটা আর হয়ে ওঠেনি। এখন আইন যা করার করবে।
এবিষয়ে সরসকাটি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আসাদুজ্জামান বলেন, আসামীরা পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলার বাদিসহ এলাকার খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সদস্যদের আইনগত সহায়তা দেয়া হবে। কোন অবস্থাতেই এলকার শান্তি শৃংখলার অবনতি হতে দেয়া হবে না।