প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস: ৫ হোতাসহ ২১ জনের সাজা


প্রকাশিত : মে ২৪, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এন.এস.আই) সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে কলারোয়া থেকে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৫ হোতাসহ ২৯ জনকে আটক করেছে। পরে যাচাই করে ২১জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়া হয়। আদলতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুর রহমান প্রত্যেককে ২ বছরের সাজা প্রদান করেন। সাজা প্রাপ্তদের মধ্যে ৫ জন মূল হোতা ও বাকী ১৬ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন। বাকী ৮ জনকে নির্দোষ প্রমানিত হওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
এরআগে শুক্রবার সকালে কলারোয়া থানার পাশর্^বর্তী সোনালী সুপার মার্কেটে অবস্থিত কিডস কোচিং সেন্টারের ব্লাক বোর্ডে ফাঁসকৃত প্রশ্নপত্রের উত্তর লিখে দেয়ার সময় ওই চক্রকে আটক করা হয়।
আটক ৫ মূল হোতা হলেন, কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা থানার পরানখালি গ্রামের মৃত আহসান আলীর ছেলে ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম, সাতক্ষীরার কলারোয়ার ঝাপাঘাটা গ্রমের আব্দুল আজিজের ছেলে জনতা ব্যাংক ম্যানেজার আফতাবুজ্জামান, একই উপজেলা একই গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে শিক্ষক আমিরুল ইসলাম, আশাশুনি উপজেলার চেউটিয়া গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে কৃষি ব্যাংক ম্যানেজার মনিরুল ইসলাম, একই উপজেলার কাকবাশিয়া গ্রামের রইছ উদ্দীনের ছেলে শিক্ষক তরিকুল ইসলাম।
র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ নুর সালেহীন প্রেসব্রিফিংয়ে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলারোয়া থানার পাশর্^বর্তী সোনালী সুপার মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭ নারীসহ ২৯ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তালা উপজেলার ধানদিয়া এলাকা থেকে আব্দুল হালিম নামের এই চক্রের আরো এক হোতাকে আটক করা হয়। এনিয়ে মোট ২৯ জনকে আটক করে র‌্যাব। এর মধ্যে ২১ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২ বছরের সাজা প্রদান করা হয়। বাকী ৮ জনের (অভিভাবক) বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না পাওয়ায় তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।
তিনি আরো জানান, আমরা জানতে পেরেছি ঢাকায় বসে একটি প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্র ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে তাদের কাছে মোবাইল ফোনে প্রশ্ন ও তার উত্তর বলে দেবে। এসব প্রশ্ন ও উত্তর ব্লাকবোর্ডে লিখে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার সময় তাদের আটক করা হয়। এজন্য সিন্ডিকেটের হাতে অগ্রিম পাঁচ লাখ টাকা দিতে হয়েছে পরীক্ষার্থীদের। বাকি টাকা পরীক্ষা শেষে দেওয়ার কথা ছিলো। তিনি বলেন, প্রদারক চক্রটির কাছ থেকে যে প্রশ্নপত্র উদ্ধার করা হয়েছে তার সাথে মূল প্রশ্নে হুবহু মিল পাওয়া গেছে।