তালার সেনেরগাঁতিতে দু’সংখ্যালঘুর ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট: চারদিনে কোন আসামী গ্রেপ্তার হয়নি


প্রকাশিত : মে ২৯, ২০১৯ ||

মনিরুল ইসলাম মনি: শালিসদারদের একতরফা সিদ্ধান্ত মেনে নিতে রাজী না হওয়ায় দু’সংখ্যালঘু পরিবারের বসতঘর ও রান্না ঘর ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভাঙচুর, গাছপালা কাটা, লুটপাট ও বৈদ্যুতিক মিটারের তার বিচ্ছিন্ন করতে বাধা দেওয়ায় ওইসব পরিবারের দু’নারীকে বিবস্ত্র করে পেটানো হয়েছে। এ ঘটনার পরদিন থানায় মামলা করা হলেও আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোন আসামীকে ধরেনি বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত বিমল ম-লের।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে সেনেগাতি গ্রামের জেলেপাড়ায় গেলে ওই গ্রামের বয়জ্যেষ্ট নারায়ন ম-ল, শিবুপদ ম-ল ও কার্তিক ম-লসহ কয়েকজন জানান, সেনেরগাতী মৌজায় ১৭৭৮ দাগে ৫৫ শতক সম্পত্তিতে বিমল ম-ল, মধুসুধন ম-ল ও কালিপদ ম-ল ৩৬.৬৬ শতক ও রাম পদ ম-ল ১৮.৩৩ শতক জমির মালিক। বন্টননামা না হওয়ায় তারা পূর্ব পুরুষদের দখল অনুযায়ি নিজ নিজ জায়গায় ঘরবাড়ি বেঁধে ও গাছ গাছালি লাগিয়ে ভোগ দখলে ছিলেন। সম্প্রতি মধু সুধন ম-ল ও কালিপদ ম-লের বসত বাড়ি তাদের দিতে হবে ও তাদেরকে পিছনে চলে যেতে হবে মর্মে দাবি করে আসছিলেন তপন ম-ল ও রাজ কুমার ম-ল। এ জন্য তারা কালিপদ, বিমল ও মধুসুধন ম-লের বাহিরে বের হওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেন। বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার জন্য বিমল ম-ল বাদি হয়ে আদালতে দেওয়ানী মামলা করেন। যা আজো বিচারাধীন। মামলা চলাকালিন সময়ে জোরপূর্বক জমি দখল করার জন্য স্থানীয়দের বাদ দিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. শহীদুল ইসলাম, সাধারণসম্পাদক মাষ্টার শহীদুল ইসলাম, ইউনিয়ন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি গাজী রহমতউল¬াহ, সাধারণ সম্পাদক ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নান, ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা, ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান, মিলনসহ একটি মহল তাদেরকে শালিসে বিষয়টি মীমাংসা করে নিতে বলেন। এ নিয়ে শালিসি সভায় আড়াই শতক জমির উপর দিয়ে বিমল, মধু ও কালিপদ ম-লের বাইরে বের হওয়ার রাস্তা দেওয়ার শর্তে মধু ম-ল ও কালিপদ ম-ল তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে নেবেন বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। রাস্তা না দিয়ে তপন ও রাজকুমারের পক্ষে জমি দখল করে দেওয়ার জন্য কয়েকবার হুমকি দেয় শালিসদাররা। এরই জের ধরে শনিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বাড়ি না থাকার সুযোগে ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফাসহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ইউনিয়ন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে তপন ম-ল, রাজকুমার ম-ল, সুকুমার ম-ল, ইন্দ্রািজৎ ম-ল, সঞ্জিত, সুজিত, বাসুদেব, সুজন ও শুভসহ শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী হাতে দা, লাঠি, শাবল, লোহার রড, কুড়াল, প¬াসসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মধু সুধন ও কালিপদ ম-লের বাড়ি ঘর ভাঙচুর করে। এ সময় তাদের একটি টিউব ওয়েল ভেঙে ফেলা হয়। দু’টি বৈদ্রূতিক মিটারের তার ছিঁড়ে ফেলা হয়। রাস্তার উপর চারটি মেহগনি গাছ কেটে ফেলা হয়। ভাঙচুর ও লুটপাটে বাধা দেওয়ায় বাধা দেওয়ায় নিশিথা ম-ল ও মধুসুধন ম-লের স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে টানতে টানতে উঠানে নামিয়ে পেটানো হয়। মায়েদের রক্ষায় এগিয়ে এলে শিশু সন্তানরাও লাঞ্ছিত হয়েছে।
ঘটনার বর্ণনা দিতে যেয়ে কেঁদে ফেলেন বিমল ম-ল, কালিপদ ম-লের পরিবারের সদস্য ও মধুসুধন ম-লের সদস্যরা। তারা অভিযোগ করে বলেন, আদম ব্যাপারী তপন ম-ল ওই সব শালিসদারকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করিয়েছে জায়গা দখলের জন্য। এ ঘটনায় বিমল ম-ল বাদি হয়ে তপন ম-লকে প্রধান আসামী করে ৯ জনের নামে মামলা দিলেও গত চার দিনেও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো কোন আসামীকে গ্রেপ্তার তরতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় সোমবার তারা সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
তবে তপন ম-ল বলেন, শালিসদাররা ওইসব ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। এ ঘটনায় তারা জড়িত না থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। তবে ধানদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. শহীদুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি গাজী রহমতউল¬াহ বলেন, তারা শালিস করেছেন মাত্র। শালিস অনুযায়ি তপন ম-ল ও তাদের শরীকরা জমি বুঝে নিয়েছে।
জানতে চাইলে পাটকেলঘাটা থানার উপপরিদর্শক জয় বালা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদককে বলেন, ২৬ মে দিবাগত রাত ১২টার পর মামলাটি রেকর্ড হয়েছে। ২৭ মে ঘটনাস্থলে যেয়ে কোন আসামীকে তিনি খুঁজে পাননি। তবে মঙ্গলবার এজাহারভুক্ত সকল আসামী আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।