দেবহাটায় ডা. লতিফের চেম্বারে দুদকের অভিযান


প্রকাশিত : মে ৩০, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: দুর্নীতি, স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম ও অফিস চলাকালীন সময়ে ব্যক্তিগত চেম্বার করার অভিযোগে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অফিসে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার দুপুরে আকস্মিকভাবে সখিপুর মোড়স্থ আহছানিয়া ক্লিনিকে এ অভিযান পরিচালনা করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খুলনার সহকারী পরিচালক তরুন কান্তি ঘোষ। সেখানে ডাক্তার লতিফকে না পেয়ে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযান পরিচালনা করে দুদক। জানা যায়, উপজেলার এক লক্ষ বত্রিশ হাজার মানুষের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য ১৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও কাগজে কলমে আছে মাত্র ৪ জন। এই ৪ জনের মধ্যে এ সময় ২জনকে উপস্থিত পায় দুদক। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিতে এসেও মানসম্মত সেবা, চিকিৎসক এবং ঔষধ পাওয়া বিড়ম্বনায় পড়ছে দিনের পর দিন।
আরও জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নোটিশ বোর্ডে কতজন স্টাফ ও চিকিৎসক কর্মরত আছে তা লেখা থাকে না এবং আউট ডোরের নোটিশ বোর্ডে কিছু ঔষধের নাম লেখা থাকলেও অধিকাংশ ঔষধ রোগীদের দেওয়া হয়না এবং বোর্ডে তারিখ লেখা ছিল ০০-১২-১৮। এমন অভিযোগ ডা. মো. লতিফের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন থাকলেও কেউ তাকে কিছুই করতে পারেনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, আমরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠিকমতো সেবা পাইনা। কারণ এখানে যে কয়জন চিকিৎসক আছেন, তারা সবাই ব্যক্তিগত চেম্বার নিয়ে ব্যস্ত। তারা টাকা ছাড়া আর কিছুই চিনেন না। তাই মানুষ সেবা পেল কি না পেল তাদের মাথাব্যথা নেই।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. লতিফ জানান, এমন আকস্মিকভাবে দুদক অভিযান চালাবে তা আমি জানতাম না। আমি সখিপুর মোড়স্থ আহছানিয়া ক্লিনিকে প্রতিদিন রোগী দেখি। কেউ তাদের কাছে অভিযোগ করলেও করতে পারে। তবে আমি লোকমুখে শুনেছি দুদক কর্মকর্তা আমার ক্লিনিকে গিয়েছিলেন। কিন্তু ওখানে তারা আমাকে না পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলে আসে এবং আমাকে আমার চেয়ারে বসে থাকতে দেখে দুদক কর্মকর্তারা হতবাক হয়। তারপর তারা আমার কাছে স্টাফদের তালিকা ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন বিষয় জানতে চায়। আমি তাদের প্রশ্নের উত্তর যথাযথভাবে উপস্থাপন করি। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাইনা।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খুলনার সহকারী পরিচালক তরুন কান্তি ঘোষ জানান, আমরা অভিযোগ পেয়েছিলা দেবাহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. লতিফ তার অফিসে না বসে সখিপুর মোড়স্থ আহছানিয়া ক্লিনিকে নিয়মিত রোগী দেখে। সেজন্য আমরা আকস্মিকভাবে আহছানিয়া ক্লিনিকে অভিযান চালাই। কিন্তু তিনি চতুর হওয়ায় সেখানে ছিল না। তাই আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স্রে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে নানা রকম অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি, তা আমরা নোট করে নিয়েছি। সে মোতাবেক আমরা রির্পোট করবো।
তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আমরা কর্মরত ৪ জন চিকিৎসকের স্থলে ২ জন চিকিৎসককে পেয়েছি এবং রোগীরাও সরকারের দেওয়া ঔষধ ঠিকমতো রোগীরা পায়না তা তাদের মুখ থেকে শুনেছি। তাই আমরা তার ব্যক্তিগত চেম্বারে অভিযান চালিয়েছি।