দেবহাটায় ডা. লতিফের চেম্বারে দুদকের অভিযান

নিজস্ব প্রতিনিধি: দুর্নীতি, স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম ও অফিস চলাকালীন সময়ে ব্যক্তিগত চেম্বার করার অভিযোগে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অফিসে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার দুপুরে আকস্মিকভাবে সখিপুর মোড়স্থ আহছানিয়া ক্লিনিকে এ অভিযান পরিচালনা করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খুলনার সহকারী পরিচালক তরুন কান্তি ঘোষ। সেখানে ডাক্তার লতিফকে না পেয়ে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযান পরিচালনা করে দুদক। জানা যায়, উপজেলার এক লক্ষ বত্রিশ হাজার মানুষের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য ১৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও কাগজে কলমে আছে মাত্র ৪ জন। এই ৪ জনের মধ্যে এ সময় ২জনকে উপস্থিত পায় দুদক। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিতে এসেও মানসম্মত সেবা, চিকিৎসক এবং ঔষধ পাওয়া বিড়ম্বনায় পড়ছে দিনের পর দিন।
আরও জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নোটিশ বোর্ডে কতজন স্টাফ ও চিকিৎসক কর্মরত আছে তা লেখা থাকে না এবং আউট ডোরের নোটিশ বোর্ডে কিছু ঔষধের নাম লেখা থাকলেও অধিকাংশ ঔষধ রোগীদের দেওয়া হয়না এবং বোর্ডে তারিখ লেখা ছিল ০০-১২-১৮। এমন অভিযোগ ডা. মো. লতিফের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন থাকলেও কেউ তাকে কিছুই করতে পারেনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, আমরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠিকমতো সেবা পাইনা। কারণ এখানে যে কয়জন চিকিৎসক আছেন, তারা সবাই ব্যক্তিগত চেম্বার নিয়ে ব্যস্ত। তারা টাকা ছাড়া আর কিছুই চিনেন না। তাই মানুষ সেবা পেল কি না পেল তাদের মাথাব্যথা নেই।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. লতিফ জানান, এমন আকস্মিকভাবে দুদক অভিযান চালাবে তা আমি জানতাম না। আমি সখিপুর মোড়স্থ আহছানিয়া ক্লিনিকে প্রতিদিন রোগী দেখি। কেউ তাদের কাছে অভিযোগ করলেও করতে পারে। তবে আমি লোকমুখে শুনেছি দুদক কর্মকর্তা আমার ক্লিনিকে গিয়েছিলেন। কিন্তু ওখানে তারা আমাকে না পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলে আসে এবং আমাকে আমার চেয়ারে বসে থাকতে দেখে দুদক কর্মকর্তারা হতবাক হয়। তারপর তারা আমার কাছে স্টাফদের তালিকা ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন বিষয় জানতে চায়। আমি তাদের প্রশ্নের উত্তর যথাযথভাবে উপস্থাপন করি। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাইনা।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খুলনার সহকারী পরিচালক তরুন কান্তি ঘোষ জানান, আমরা অভিযোগ পেয়েছিলা দেবাহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. লতিফ তার অফিসে না বসে সখিপুর মোড়স্থ আহছানিয়া ক্লিনিকে নিয়মিত রোগী দেখে। সেজন্য আমরা আকস্মিকভাবে আহছানিয়া ক্লিনিকে অভিযান চালাই। কিন্তু তিনি চতুর হওয়ায় সেখানে ছিল না। তাই আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স্রে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে নানা রকম অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি, তা আমরা নোট করে নিয়েছি। সে মোতাবেক আমরা রির্পোট করবো।
তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আমরা কর্মরত ৪ জন চিকিৎসকের স্থলে ২ জন চিকিৎসককে পেয়েছি এবং রোগীরাও সরকারের দেওয়া ঔষধ ঠিকমতো রোগীরা পায়না তা তাদের মুখ থেকে শুনেছি। তাই আমরা তার ব্যক্তিগত চেম্বারে অভিযান চালিয়েছি।

সৌহার্দ ও সম্প্রীতির মধ্যে জেলা প্রশাসনের ইফতারে সর্বস্তরের মানুষের মিলনমেলা

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশ ও জাতির অব্যাহত সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে জেলা প্রশাসনের দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইফতার মাহফিলে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালসহ পদস্থ কর্মকর্তাগণ অতিথিদের সাথে শুভেচ্ছা জানিয়ে স্বাগত জানান। পারস্পারিক সৌহার্দ ও সম্প্রীতি প্রকাশ করে এ সময় মিলন মেলায় পরিণত হয় অফিসার্স ক্লাব চত্ত্বর। আসন্ন পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও সূধীজনের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় করে সকলের শান্তিময় জীবন কামনা করা হয়।
বুধবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা জেলা অফিসার্স ক্লাব প্রাঙ্গনে দোয়া ও ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা ৪ আসনের মাননীয় সাংসদ জগলুল হায়দার এমপি, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদুর রহমান, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার মাহমুদুর রহমান, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. রফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম শওকত হোসেন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু সায়ীদ, সাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোসেনসহ রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের ইফতার সর্বস্তরের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। ইফতার মাহফিলে দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল কামনা করা হয়।

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে পৌর মেয়রের সংবাদ সম্মেলন: পত্রদূতের বক্তব্য

নিজস্ব প্রতিনিধি: দৈনিক পত্রদূতের প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি। বুধবার দুপুরে পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে তিনি দৈনিক পত্রদূতে প্রকাশিত খবর সম্পর্কে কিছু না বললেও মৌখিকভাবে খবরটি সত্যা নয় বলে দাবী করেছেন এবং সংবাদ সক্রান্ত বিষয়ে তার কাছে তথ্য প্রমাণ আছে বলে দাবী করেন। সংবাদ সম্মেলনে দৈনিক পত্রদূতের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার আব্দুস সামাদ সম্পর্কে অপ্রাসঙ্গিক, মিথ্যা ভিত্তিহীন ও আক্রোশমূলক বক্তব্য প্রদান করা হয়। সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন পৌর কাউন্সিলর শফিক উদ দৌলা সাগর, কাজী ফিরোজ হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন কালু, ফারহা দিবা খান সাথী, জ্যোৎ¯œা আরা, আব্দুস সেলিম প্রমুখ।
পত্রদূতের বক্তব্য: সাতক্ষীরা পৌর মেয়রের সংবাদ সম্মেলনে দৈনিক পত্রদূতের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার আব্দুস সামাদ সম্পর্কে অপ্রাসঙ্গিক, মিথ্যা ভিত্তিহীন ও আক্রোশমূলক বক্তব্য প্রদান করা হয়। প্রকৃত পক্ষে যে দুটি খবর আব্দুস সামাদ লিখিছেন বলে পৌর মেয়র দাবী করেছেন তা আদৌ সত্য নয়। ফলে অনৈতিক সুযোগ চাওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। পৌরসভার মতো একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এধরণের দায়িত্বহীন বক্তব্য আশা করা যায় না।

শ্যামনগররে আটুলিয়া ইউপিতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ইউএনডিপির কান্ট্রি ডেপুটি ডিরেক্টর

আটুলিয়া (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: ২৯ মে সকালে জেলার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের সকল কার্যক্রম পরিদর্শন করেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি ইউএনডিপি বাংলাদেশ’র কান্ট্রি ডেপুটি ডিরেক্টর কিউও কিউ ইয়াসুকা, হেড অফ সিডা বাংলাদেশ এন্ডারস ওহরস্ট্রম, প্রজেক্ট ম্যানেজার স্বপ্ন প্রকল্প ইউএনডিপি বাংলাদেশ কাজল চ্যাটার্জি প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ বাবু, ইউপি সদস্যগণ, ইউপি সচিবসহ প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী শাহিনুর রহমান, গ্রাম আদালত সহকারী মহিরঞ্জন মন্ডল। এসময় পরিদর্শনকারীরা চেয়ারম্যান বলেন, এ পর্যন্ত আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে মোট ১৩২টি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২৮টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। যার ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪৮ লক্ষ্য ১৩ হাজার ৭৬৬ টাকা আদায় করা হয়েছে। সর্বোপরি পরিদর্শনকারীরা গ্রাম আদালতের কার্যক্রমের সফলতা দেখে মুগ্ধ হন এবং সন্তোষ প্রকাশ করেন।

দেবহাটায় আন্ত:ব্যক্তিক বিষয়ক প্রশিক্ষণ

দেবহাটা ব্যুরো: দেবহাটায় আন্ত:ব্যক্তিক বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টায় দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হলরুমে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দেবহাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল গনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সবুজ। এসময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. আব্দুল লতিফ, মেডিকেল অফিসার ডা. রণজিৎ কুমার রায়সহ সখিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কুলিয়ায় ডিজিটাল পরিমাপ মেশিনের মাধ্যমে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে সামনে রেখে দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নে ডিজিটাল পরিমাপক মেশিনের সাহায্যে ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে গরীব ও দুস্থদের মাঝে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। কুলিয়া ইউপি (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলামের উপস্থিতিতে চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য রওনাকুল ইসলাম, অচিন্ত মন্ডল, ভরত চন্দ্র, গোলাম রব্বানী, বিকাশ সরকার প্রমুখ। পর্যায় ক্রম্যে ৪ হাজার ৮৯৫ জনের মাঝে উক্ত ভিজিএফ এর চাল বিতরণ কর হবে বলে জানা যায়।

শ্যামনগরে স্থায়ী বেঁড়িবাধ নির্মাণ লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যা মোকাবেলায় বরাদ্দের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি প্রদান

নিজস্ব প্রতিনিধি: শ্যামনগরে স্থায়ী বেঁড়িবাধ নির্মাণসহ লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা মোকাবেলায় বরাদ্দের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে শ্যামনগর উপজেলার সিএসআরএল সম্মেলন কক্ষে উক্ত সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপজেলার ১২টি ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পক্ষে সহকারী কমিশনার (ভুমি) এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পৃথক পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান।
তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বিপর্যস্ত জনপদগুলোর একটি হচ্ছে শ্যামনগর উপজেলা। গত দশ বছরে এখানে সিডর, আইলাসহ ১০টি বড় ঘূর্ণিঝড় আঘাত এনেছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, আগামী দিন গুলোতে এর সংখ্যা বাড়বে এবং প্রভাব তীব্র হবে। নদী ভাঙনের ফলে এ উপজেলার পদ্মপুকুর, আটুলিয়া, গাবুরা, মুনিাসগঞ্জ, বুগিগোয়ালিনী, কাশিমাড়ি ও কৈখালী ইউনিয়নে মাইগ্রেশনের সংখ্যাও বেশি। পরিবার কল্যাণ মন্ত্রাণালয়ের তথ্য অনুযায়ী জেলায় আইলা ও সিডর পরবর্তী সময়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্র পৃষ্টের উচ্চতা বৃদ্ধির কারনে আগামী পঞ্চাশ বছরের মধ্যে উপকুলীয় জেলা গুলোর মধ্যে সাতক্ষীরা জেলা আগে তলিয়ে যাবে। পরিবেশবীদদের এমন আশঙ্কায় এ জনপদ থেকে নীরব অভিবাসন শুরু হয়েছে। আর লবনাক্ততা এই উপজেলার অন্যতম প্রধান অভিঘাত। সমুদ্র উপকুলবর্তী হওয়ায় এ উপজেলার মূল জলাধারা সমুহ লোনাপানির। প্রধান নদী ইছামতি, কপোতাক্ষ, খোলপেটুয়া, কালিন্দি, মাদার , যমুনা ও রায়মঙ্গল নদীসহ ১২৬টি খাল ও জলমহল রয়েছে। নদী থেকে কুষি জমি ও চিংড়ি ঘেরে লোনা পানি আনা ও বের করে দেয়ার কাজে এই খাল গুলো ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে খাল গুলো অবৈধভাবে দখল ও ভরাট হওয়ায় কারনে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্যামনগরসহ জেলার ৭টি উপজেলার বিস্তির্ণ এলাকায় খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
উপকুলীয় উপজেলা শ্যামনগরকে বাঁচাতে তারা এ সময় ১২ দফা দাবি উপস্থাপন করেছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, উপকূলীয় বাঁধের নতুন ডিজাইন করে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট জোয়ারের উচ্চতা প্রতিরোধে সক্ষম বেঁড়িবাধ দ্রুত নির্মাণের জন্য বরাদ্দ প্রদান, প্রত্যেক ইউনিয়নে জলববায়ু তহবিল গঠনে বরাদ্দ দেয়া, উপকূলবর্তী প্রত্যেক গ্রামে কমপক্ষে দুটি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সুপেয় পানির সঙ্কট নিরসনে আরও পানির প্লান্ট তৈরিসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, কাশিমাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ, নুরনগর ইউপি চেয়ারম্যান বখতিয়ার আহমেদ, কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম, গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মুসুদুল হকসহ ১২ ইউপি চেয়ারম্যান।

মাদক-সন্ত্রাস নির্মূলে জিরো টলারেন্স দেখাতে পুলিশ বদ্ধপরিকর: মেরিনা

নিজস্ব প্রতিনিধি: অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মেরিনা আক্তার বলেছেন, ‘মাদক-সন্ত্রাস নির্মূলে পুলিশ জিরো টলারেন্স দেখাতে বদ্ধপরিকর। মাদক সন্ত্রাসীদের কোন ছাড় নয় উল্লেখ করে পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবো। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের নৈতিক দায়িত্ব। পুলিশ সে দায়িত্ব পালনে কোন অবহেলা করবে না। বুধবার বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। থানা চত্তরে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সকলকে উদ্যোগী হতে তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।
‘জঙ্গি-মাদক প্রতিকারে, জনতা পুলিশ এক কাতারে’, ‘পুলিশকে সহায়তা করুন, পুলিশের সেবা গ্রহণ করুন’-স্লোগানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মুনীর-উল-গীয়াসের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি অধ্যাপক এমএ ফারুক, ওয়ার্কাসপার্টির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ, উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক স. ম মোরশেদ আলী ও কলারোয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক এমএ কালাম।
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল হাসান, আফজাল হোসেন হাবিল, শামছুদ্দীন আল মাসুদ বাবু, এসএম মনিরুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম মনি, আব্দুল হামিদ সরদার, শেখ ইমরান হোসেন, আসলামুল আলম আসলাম, মাহবুবুর রহমান মফে, কলারোয়া প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি সহকারী অধ্যাপক কেএম আনিছুর রহমান, সহ-সভাপতি শেখ জাকির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ মোসলেম আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আরিফ মাহমুদ, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক সুজাউল হক, নির্বাহী সদস্য গোলাম রহমান, আনোয়ার হোসেন, সদস্য সরদার জিল্লুর, গোপাল ঘোষ বাবু, সাংবাদিক জুলফিকার আলি প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত করেন থানা মসজিদের খতিব সাংবাদিক আসাদুজ্জামান ফারুকী ও গীতা থেকে পাঠ করেন এসআই পিযুষ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন এলাকার নানান পেশার মানুষেরা উপস্থিত ছিলেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেরিনা আক্তার উপস্থিত লোকজনের কাছ থেকে তাদের খোলামেলা আলোচনা, অভিযোগ, পরামর্শ শুনেন এবং সমাধানে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করেন।

ঈদ বাজারে টুপি আতর আর জায়নামাজের দোকানে উপচে পড়া ভিড়

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় পবিত্র ঈদ-উল ফিতর আসন্ন। টুপি, আতর আর জায়নামাজের দোকানে এখন উপচে পড়া ভিড়। বুধবার ২৩ রমজান সাতক্ষীরা শহরের থানা মসজিদ এলাকায় টুপি, আতর আর জায়নামাজের দোকানে এ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঈদের দিন সকালে ঈদগাহে যাবেন নতুন পাঞ্জাবি পরে, তাতে আতরের সুবাস আর মাথায় টুপি না থাকলে কি আর চলে! নতুন পোশাক কেনার পর ক্রেতারা তাই ভিড় জমাচ্ছে টুপি, আতর আর জায়নামাজের দোকানে। শহরের থানা মসজিদ সড়কে পুঁথিঘর লাইব্রেরি, মাদ্রাসা লাইব্রেরি, শহিদ নাজমুল স্মরনীস্থ আরমান স্টোর, সাতক্ষীরা আহ্ছানিয়া মার্কেটের সালেহিয়া লাইব্রেরিসহ ফুটপাতের দোকানগুলোতে আতর-তসবির বিক্রিবাট্টা বেশ জমে উঠেছে। বিভিন্ন দামের বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধির সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে টুপি, তসবি, সুরমা ও জায়নামাজ। দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোজার মাসের শুরু থেকেই টুপি-আতর-তসবির বিক্রি বেড়ে যায়। আর কেনাবেচার এই রমরমাভাব চলবে ঈদের নামাজের আগ পর্যন্ত। থানা মসজিদ সড়কের পুঁথিঘরের স্বত্বাধিকারী মো. মহিদুর রহমান জানান, আবা, মাথার বেড়ি, জায়নামাজ, টুপি ছাড়াও গুলবাহার, গুল রেডরোজ, লায়লা, বেলি, অ্যারাবিয়ান, জুঁই, বকুল, মর্নিং কুইন, চামেলি, জেসমিন, গোলাপ বাহার, শাহি দরবারসহ দেশি-বিদেশি আতর পাওয়া যাচ্ছে। কম দামের মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি বিক্রি চলছে, জান্নাতুল ফেরদাউস, রজনীগন্ধা, বকুল আর বেলিফুলের আতর। প্রতি তোলার দাম পড়ছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা। এ ছাড়া বডি স্প্রের মতো ওয়ান ম্যান শো, আল হারমাইন মদিনা, মেইজ, সানডে, এক্সের চাহিদাও রয়েছে অনেক। বডি স্প্রের মতো এসব সুগন্ধি কিনছেন মূলত তরুণেরা। মধ্যম দামের মধ্যেও রয়েছে নানা ধরনের আতর। বেশি দামের আতরের মধ্যে রয়েছে ২০ হাজার টাকা তোলা দরে আল হারমাইন শেখ, সৌদি আরবের ১২ হাজার টাকা প্রতি তোলা দরে আতর। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম প*ুথিঘর লাইব্রেরি থেকে কাঁচা বেলির এক তোলা আতর কিনলেন। বললেন, ‘ছেলে, নাতি আর আমি সবাই মিলে আতর মেখেই ঈদগাহে যাব।’ পুঁথিঘর লাইব্রেরিতে দেখা মিলল দুই ভাইয়ের। পছন্দের টুপি তাঁরা বেছে নিচ্ছিলেন। এক ভাই চাকরিজীবী মো. শামীম এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘ঈদের কেনাকাটা করা সবই শেষ। আগামীকাল গ্রামের বাড়ি যাব।’ পাশের দোকানে পাথরের পুঁতির তসবি আর জায়নামাজ কিনলেন এক দম্পতি। টুপির দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ১০ টাকা থেকে শুরু করে টুপি এবং ভাল পুঁতির কাজ করা টুপি ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা। গোল টুপির দাম ৫০ থেকে ৫০০ টাকা। বাচ্চাদের চুমকি বসানো টুপি মিলবে ১০০-২৫০ টাকায়। সোনালি সুতার কাজ করা টুপি পাবেন ৭০০ থেকে ১,৩০০ টাকা। আর সাধারণ টুপির দাম পড়বে ৫০ থেকে ১২০ টাকা। টুপির পাশাপাশি অনেকে হাজি রুমাল ব্যবহার করে থাকেন। দোকানগুলোতে বাংলাদেশ ছাড়াও দুবাই, কাশ্মীর ও চায়নার হাজি রুমাল পাওয়া যাচ্ছে ১২০ টাকা থেকে সাড়ে পাঁচশ’ টাকার মধ্যে। ঈদে আতর শৌখিনতার প্রতীক। থানা মসজিদ ও তার আশপাশ এলাকা, নিউমার্কেট এলাকায় টুপি-আতরের দোকানে ভিড় জমেছে। ঈদ বাজার করতে আসা শ্যামনগরের দিদার শেখ জানান, ঈদের দিন সকালে নতুন পায়জামা-পাঞ্জাবির সঙ্গে দরকার পড়বে আতর, টুপি, তসবি ও জায়নামাজ। তাই ঈদের কেনাকাটায় শেষ মুহূর্তে এসব দোকানে ভিড় করছেন অনেকেই।

সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সনাকের মতবিনিময় সভায় সেবার মানোন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক শুদ্ধাচার চর্চার প্রতিশ্রুতি প্রদান

বুধবার সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে সদর হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনস নিশ্চিত করার লক্ষ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়। হাসপাতাল তত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন ডা. মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভার কার্যক্রম শুরু করা হয়। সনাক’র সভাপতি কিশোরী মোহন সরকার, সহ-সভাপতি মো. তৈয়েব হাসান, সনাক স্বাস্থ্য বিষয়ক উপ-কমিটির আহ্বায়ক ডা. সুশান্ত ঘোষ, সনাক সদস্য প্রফেসর আব্দুল হামিদ, ড. দিলারা বেগম, ডা. কানিজ ফাতেমা, ডা. এহেছেন আরা, ডা. মো. আসাদুজ্জামান প্রমুখ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক শুদ্ধাচার চর্চায় সনাক’র পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে সদর হাসপাতালের যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয়ে অনিয়মের বিষয়ে উল্লেখ করে এর সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সিভিল সার্জনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সকল কার্যক্রম স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা এবং সরকারের স্বাস্থ্য নীতিমালা অনুসারে হাসপাতালের সকল ক্রয় ও সেবা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়। তা ছাড়া প্রতিটি উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স এর সেবার মানোন্নয়ন ও সেবা প্রদানে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন চর্চায় গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে সিভিল সার্জন কর্তৃক চিঠি প্রেরণ করা, দৃশ্যমান স্থানে অভিযোগ বক্স স্থাপন করা, হাসপাতালের সেবা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি এবং স্বপ্রণোদিতভাবে তথ্য প্রকাশসহ তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ এর আওতায় নাগরিকদের আবেদন গ্রহণ ও তথ্য প্রদানের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সিভিল সার্জন জানান, হাসপাতালের বিগত সময়ের ক্রয় সংক্রান্ত দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আগামী দিনে সকল বিষয়ে সরকারের নীতিমালা অনুসারে এবং কোন গোপনীয়তা না করেই এ ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। যদি কেউ কোন অনিয়ম করে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিতে হবে। কারো বিষয়ে কোন অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে জানালে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সভা পরিচালনা করেন টিআইবি এরিয়া ম্যানেজার আবুল ফজল মো. আহাদ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বাস মিনিবাস মালিক সমিতি সম্পর্কে জেলা আওয়ামী লীগের যৌথ বিবৃতি

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাতক্ষীরা জেলা শাখার পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতি কর্তৃক সভাপতি কর্তৃক অধ্যক্ষ আবু আহমেদ কে সমিতির প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। তার নামীয় বাসটি রাস্তায় চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। যেহেতু বাস মালিক সমিতির অতীত এবং বর্তমান কমিটির সবাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিশ^াসী। বিধায় পারস্পারিক ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে বাস মালিকদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য বর্তমান কমিটিকে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সবাপতি মুনসুর আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম আহ্বান জানিয়েছেন। সাথে সাথে অধ্যক্ষ আবু আহমেদ কে বাস মালিক সমিতির প্রাথমিক সদস্যপদ পূণর্বহাল করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ ইউপি চেম্যারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিডি কার্ডের চাল আত্মসাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে ভিজিডি কার্ডের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তালিকায় নাম থাকলেও বঞ্চিত হয়েছেন ভুক্তভোগী অনেকেই।
এ ব্যাপারে খাদিজা, জবেদা, সালমা বেগমসহ একাধিক সুবিধা বঞ্চিত নারীরা শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করেও কোন ফল না পেয়ে তারা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে মুন্সিগঞ্জ ইউপি সচিব, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান আকুল কাশেম মোড়ল ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত ৪০১ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়। সে মোতাবেক গত ১৬-০৪-১৯ তারিখে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভিজিডির চাল বিতরণ করা হয়। কিন্তু ওই তালিকায় নাম থাকার পরও প্রায় ৪০ জন অসহায় দরিদ্র পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ না করে সমস্ত চাল আত্মসাৎ করা হয়।
ভুক্তভোগি খাদিজা ও আনছার আলী সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন। তারা বলেন, চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল একজন বিএনপির লিডার। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান হয়েছেন। আমরা যারা গরিব অসহায় আওয়ামী লীগকে সমর্থন করি তাদের কোন কার্ড না দিয়ে যারা জামাত-শিরিবের ক্যাডার ও নাশকতা মামলার আসামী তাদেরকে উক্ত কার্ড প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আ’লীগের নাম ভাঙিয়ে আ’লীগের সর্বনাশ করে যাচ্ছেন। এমনকি সরকারি নীতিমালা অনুসারে পুরাতন কার্ডধারীরা কেউ নতুন কোন কার্ড পাবেন না। অথচ ওই তালিকার ২৯২ ও ২৯৫ নং ক্রমিকের মাজিদা ও ময়না বেগম পুরাতন কার্ডধারী। তাদের নামে নতুন কার্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৩১২ ক্রমিকে রোকেয়া খাতুন একজন ধনী ব্যক্তি। অথচ তার কার্ড দেয়া হয়েছে। এদিকে, ৩১৫নং ক্রমিকে আরবী বিবি ১২ বিঘা জমির মালিক। তাকেও কার্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৩১৭নং ক্রমিকে জাহানারা বেগম এর ২তলা বাড়ীর কাজ চলমান। অথচ তাকেও কার্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ভাতাভোগিরাও এ সুবিধা পাচ্ছেন। এলজিএসপি ১% টিআর এডিপি বরাদ্দেরও কাজ না করে টাকা হজম করে দিচ্ছেন এই চেয়ারম্যান বলে তারা আরো অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগ লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানোর পরও তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলে তারা জানান। বিধায় তারা নিরুপায় হয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করেছেন বলে জানান। জেলা প্রশাসক গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করার জন্য শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ প্রদান করেছেন।
এ ব্যাপারে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, আমি কোন অভিযোগ এখনও পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি আরো জানান।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী খুলনা আসছেন আজ

পত্রদূত ডেস্ক: শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান পাঁচ দিনের সফরে আজ ৩০ মে খুলনা আসছেন। সফরসূচি অনুযায়ী প্রতিমন্ত্রী আজ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় খুলনার খালিশপুর আপ্যায়ন কমিউনিটি সেন্টারে খালিশপুর থানা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান এবং রাত সাড়ে নয়টায় নিজ বাসভবনে দর্শনার্থীদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন।
তিনি ৩১ মে বিকেল পাঁচটায় খুলনা ক্লাবে খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য’র উদ্যোগে মহানগর, জেলা, থানা, সকল ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীদের সাথে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে যোগদান এবং রাত সাড়ে নয়টায় নিজ বাসভবনে দর্শনার্থীদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন।
প্রতিমন্ত্রী ১ জুন বিকেল তিনটায় গোয়ালখালী দৃষ্টি ও বাক শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান, বিকেল পাঁচটায় খুলনা ক্লাবে খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য’র উদ্যোগে খুলনার পেশাজীবী ও সুধীজনদের ইফতার ও দোয়া মাহফিলে যোগদান এবং রাত সাড়ে নয়টায় নিজ বাসভবনে দর্শনার্থীদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন।
প্রতিমন্ত্রী ২ জুন বিকেল ছয়টায় দৌলতপুরে বাংলাদেশ জুট এ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে যোগদান এবং রাত সাড়ে নয়টায় নিজ বাসভবনে দর্শনার্থীদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

সাতক্ষীরা-২ আসনের সম্মানীত সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ
রবিকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে অবাঞ্চিত ঘোষনা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
বুধবার ২৯ মে বেলা ১ টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত  কার্যনির্বাহী
কমিটির সভায় বিশেষ সাধারণ সভায় গঠিত পরামর্মক কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী
সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি
অধ্যক্ষ আবু আহমেদে এর সভাপতিত্বে ওই সভায় গঠনতস্ত্র পরিপন্থি ও
প্রেসক্লাবের স্বার্থ বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে গঠনতন্তের ১৩ ধারার (চ)
অনুচ্ছেদ মোতাবেক জিএম মনিরুল ইসলাম মিনি, মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল,
শামীম পারভেজ ও মনিরুল ইসলাম মনির সদস্য পদ বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়াও
রুহুল কুদ্দুসকে শোকজ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী’র সঞ্চালনে স্ব স্ব মতামত
জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন  সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, যুগ্ম সাধারণ
সম্পাদক মো. আব্দুস সামাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এম শাহীন গোলদার, অর্থ
সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, সাহিত্য সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুল জলিল,
অর্থ-সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, নির্বাহী
সদস্য সেলিম রেজা মুকুল, গোলাম সরোয়ার, ইয়ারব হোসেন ও জি.এম আদম
শফিউল্লাহ ও কৃষ্ণ মোহন ব্যানার্জী। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

দেবহাটায় যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মহিলা আ’লীগ নেতার ঘের দখল চেষ্টার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের চর বালিথায় জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রওশন আরা রুবির ঘের দখলের চেষ্টা করে ভূমিদস্যু মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে।
জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রওশন আরা রুবি বলেন, বিল শিমুল বাড়িয়া ও চর বালিথায় মৌজায় ১৫০ বিঘা জমি মৌখিক এওয়াজ সূত্রে ভোগ দখল করে আসছি। কিন্তু কিছুদিন যাবৎ কুলিয়ায় যুবলীগ নেতা ভূমিদস্যু মোশারফের নজর পড়ে। সে একাধিকবার এই ঘের দখল করার চেষ্টা করছেন। আজ ইফতারের সময় দক্ষিণ কুলিয়ার মৃত দিদার সরদারের ছেলে মোশারফের নেতৃত্বে চর বালিথা এলাকার ইয়ার আলী ছেলে আব্দুর রহিম, গোবরা খালি এলাকার হায়দার সরদারের ছেলে মো. হানিফা, সদরের শিমুল বাড়িয়া এলাকার খায়রুলের ছেলে আলমগীর হোসেন ও সুলতানপুর এলাকার রজব আলীর ছেলে আবুল কাশেমসহ ২০/৩০ জন সন্ত্রাসীরা ঘরে তালা ভেঙে মাছ বিক্রি করা ১ লাখ টাকা লুট করে নেয়। পরে তারা আটন থেকে ২মণ মাছ নিয়ে যায়। এসময় ঘেরের কর্মচারী সিদ্দিক বাঁধা দিতে গেলে তাকে মারধর করে। এ ব্যাপারে দেবহাটা থানার ওসিকে জানানো হয়েছে। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।