কালিগঞ্জে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জের সোনাটিকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী ফারজানা সুলতানা (১০) নামে এক শিশুকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সে উপজেলার ভাড়াশিমলাা ইউনিয়নের সোনাটিকারি গ্রামের হাফেজ আশরাফ আলীর মেয়ে।
সূত্র জানান, গত সোমবার (১০ জুন) সকালে ফারজানা সুলতানার মা আমেনা খাতুন (৩৮) তার মেয়েকে নানা বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে দিয়ে যায়। এরপর রাত ১১ টার দিকে কাউকে কিছু না বলে নলতা ইউনিয়নের মাঘুরালী গ্রামের জনৈক এক এডভোেেকটের বাড়িতে নিয়ে যেয়ে সোনাটিকারি গ্রামের বাবুর আলী কারিকরের ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম’র (৩০) সাথে জোরপূর্বক বিয়ে দেয়। বিয়ের পরে লোক জানাজানি হয়ে গেলে ভুক্তভোগী স্কুল ছাত্রীকে পাশ্ববর্তী দেবহাটা উপজেলার নাংলা গ্রামের নুর ইসলাম হুজুরের বাড়িতে আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে মেয়ের বাবা আশরাফ আলী বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়দের জানালে স্থানীয়রা ফারজানাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
সোমবার (১৭ মে) সরেজমিন গেলে ফারাজানা সুলতানার চাচাত ভাই মাহমুদুল হাসান (২৮), ওই গ্রামের আকবার হোসেনের স্ত্রী নাজমীন সুলতানা (৩০) ও মনসুর আলী গাজীর স্ত্রী মাহফুজা খাতুন (৩৫) জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ বাবুর আলী কারিকরের ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম (৩০) ফারজানাদের বাড়িতে যাতায়াত করত। একপর্যায়ে পরকিয়ার সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিষয়টি স্থানীয়রা বুঝতে পারলে আমেনা খাতুন তার প্রেমিক আনোয়ারুলের সাথে মেয়ে ফারজানা সুলতানাকে বিয়ে দেয়।
তারা আরও বলেন বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য পিয়ার আলীকে জানালেও অজ্ঞাত কারণে তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। এব্যাপারে ইউপি সদস্য পিয়ার আলীর কাছে জানাতে চাইলে তিনি বলেন এব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। এদিকে এঘটনা সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিনকে জানালে তিনি এর সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনবেন বলে জানিয়েছেন।