অপরাধী


প্রকাশিত : June 22, 2019 ||

নবনীতা সই
মানদা যখন বাবা মায়ের হাত ধরে ওপার বাংলার থেকে চলে এসেছিলো তখন সে মাত্র চার বছরের। মায়ের কাছে শুনতো সেসব ভয়ংকর দিনের কথা। ছ সাতটা ভাই বোন মানদার।
ভারতে এসে রুজি রুটির জন্য শুরু হয় সংগ্রাম। ছোটো মানদা আর হেমলতা দুই বোনকে দুটো বাড়িতে কাজে দিয়ে দিয়েছিলো মা। তখন বেতন তো ছিলোনা পেটে ভাতে আর ছেঁড়াছুটো পোশাক। তাই কাজ পাওয়া যেতো না।
দিন গড়িয়ে মানদা কোলকাতার জল পেটে নিয়ে বড় হয়েছে। সংসার হয়েছে। বস্তিতে ঘর তুলেছে। আজ বাপ মা কেউ নেই। ভাই বোন কোথায় মানদা জানেনা। সেই যে কাজে লাগিয়ে মা চলে গিয়েছিলো আজ অবধি মায়ের দেখা মানদা পায়নি। মুখটাও ভাসা ভাসা।
মানদার দুটো ছেলে চলে গেছে কলেরায়। মেয়েটা মরেছে দু বছর হয়ে গেলো।
নাতনি সরলার কাছে মানদা থাকে। অবশ্য ঘরটা মানদার বলে সরলার বর বিশু মানদাকে থাকতে দেয়। নইলে যা নচ্ছার।
মেয়েও তার কাছে ছিলো। মা আর মেয়ে থাকতো। বড় ভালো ছিলো মানদার মেয়ে রমা। ছোটো বয়সে মেয়ে পেটে নিয়ে বিধবা রমা মায়ের কাছে এসেছিলো। খুব খেয়াল রাখতো মায়ের। মানদাও করেছে।
মেয়ে সতেরো বছর বয়েসে বস্তির রতন কে নিয়ে পালালো। আবার দুবছর না যেতেই হাতকাটা শ্যামের ছুরি খেয়ে যখন রতন মরলো তখন মায়ের কাছে ফিরে এসেছিলো। তখন থেকে মা মেয়ে আর নাতনি থেকেছে। গতর দিয়ে খেটে সংসার সামলেছে মানদা। দু পয়সা নিজের জন্য যা রেখেছিলো সব নাতনির বিয়েতে দিয়ে দিয়েছে। তা মানদার নাতনি খুব ভালো মেয়ে। পাশেই দমদমে থাকতো। শাশুড়ি বড় দজ্জাল। পরপর দুটো মেয়ে হওয়াতে তাড়িয়ে দিলো। পেটে বাচ্ছা নিয়ে চলে আসলো সরলা। ঠাকুর মুখ তুলে চাইলেন ছেলে হলো। তখন আবার আকুপাকু মন নাতির জন্য। মানদা পরিস্কার বলে দিলো বিশু এখানে এসে থাকুক সরলা যাবেনা। তখন থেকে বিশু এখানে থাকে।
রমা চলে গেলে ঘর লাগোয়া কামরাটায় মানদা একা থাকে। বয়েস হয়েছে কাজ তো করতে পারেনা। সরলার ছেলেটাকে রাখে। মেয়ে দুটো স্কুলে যায়। চার বাড়ি কাজ করে সরলা।

ও বুড়ি কি বিড়বিড় করছো?
তোর কি আবাগীর বেটী?
তেজ দ্যাখো! আমি স্কুলে যাবো আমার চুলে তেল দাও। চান করবো।
কর গা। মরণ!
সারাদিন বিড়বিড় করবে আর খাবে।
ওলা … বেটী তর ডা খাই নাহি মুই? লাতনীর ডা খাই। ভাগ ইহান তন ভাগ।
মুখ খারাপ করবা না। মা আসলে বলে দেবো।
বলগা ডরাই নি?
দেবানা তো ? আচ্ছা জল চলে গেলে আমি চান ও করবো না স্কুলেও যাবোনা।
কুতকুতে চোখে মানদা বড় পুতিন কে দ্যাখে, আজকাল স্পষ্ট দেখতে পায়না।
আয় ইদিকে আয়।
নাতনির চুলে তেল দিতে দিতে মানদা বিড়বিড় করে,
মাইহা পড়ালিহা ডা ভালা কইরা কর। মানষের মতন মানষ হ। তাহালেই তর মাইয়ের পরাণডা শান্তি পায়।
বোকো না। আমি চানে গেলাম।
মেয়ে দুটো ধকধক করে বড় হয়ে যাচ্ছে দেখে মানদার বুকের থেকে দীর্ঘশ্বাস বের হয়। মেয়ের জাত কলমী লতার মতন। জল পেলেই লকলক। ভালোমন্দ দুটো পেটে পড়লে গতর যা হতো।
সরলা চারবাড়ি কাজ করে। কাছেই আবাসনে। চারটে ফ্ল্যাটের কাজ। সকালে যায় দুপুরে আসে। বিশু ডালের কারখানায় কাজ করে দমদমে। ছেলেটা কানা দিদার কাছে রেখে আসে। বুড়ি ভালো হাঁটতে চলতে পারেনা তবুও রেখে আসতে হয়। কেউ বাচ্ছা নিয়ে আসলে কাজে রাখবে না। বিশুর সামান্য আয় আধা চলে যায় মদে। বুড়ি নিয়ে ছজনের পেট চালাতে তো হবে। মেয়েদুটো সরকারী স্কুলে পড়ে তবুও বই খাতা। ছেলের দুধ। কাজ সারতে সারতে সরলা ভাবতে থাকে।
ঐদিকটা ভালো করে মোছো।
মুছেছি বৌদি।
আর কাল কিন্তু একটু সকালে আসবে আমার বাবুনের জন্মদিন।
কি করে পারবো বৌদি আরও বাড়ি…
কামাই করো একবাড়ি। বেলাদির বাড়িতে যখন লোক আসলো আমার ঘরে ছুটি নাওনি??
তুমি ভালো বৌদি, বেলাদি ছুটি দিতে চায়না।
ওসব মিষ্টি কথায় কাজ হবেনা। কাল বাড়িতে লোকজন খাবে। সকাল সকাল না আসলে হবে?
আচ্ছা ।
না না আগে বলে দিলাম । নাও দুটো পুরানো শাড়ি দেবোখন। আর হ্যাঁ গামলা এনে ঐ গ্যাসের সিলিন্ডারের পাশে রেখে দিও কিছু খাবার দিয়ে দেবো।
আচ্ছা বৌদি।
কাজ সেরে ফিরতে ফিরতে সরলা ভাবে আশিস দার বৌটা ভালো। কাজ করিয়ে নেয় কিন্ত টুকটাক খাবার দেয় বাচ্ছাগুলোর জন্য। নইলে এই বাজারে একপিস মাছ ত্রিশ টাকা পড়ে, আর বাকি দামী খাবার তো চোখেই দেখা ভার। কি জিনিসের দাম, শাক- সবজি মায় আলু কুড়ি টাকা!! গরিবের জন্য কেউ ভাবেনা। কোটি কোটি টাকা বাপু মারো , আয় করো আমাদের কিছু যায় আসেনা কিন্তু দুবেলা পেটের খাবারের জিনিসের দাম তো কমাও। ভাবতে ভাবতে বস্তির গলির মোড়ে এসে আবার বিস্কুটের প্যাকেট নিতে পাশের দোকানে যায় সরলা। দুটো বিস্কুট হাতে করে নিয়ে যাবে। ছেলেটা আছে আর বুড়ি দিদার দাঁত নেই বিস্কুট জলে ভিজিয়ে খায় বুড়ি।
চার বাড়ি কাজ করে। কি সুন্দর ঘর কত খাবার । আজই তো বাবুন কেক নিয়ে কত নখরা করলো।
কিছুতেই খাবেনা। বৌদি যত আদর করে খাওয়াতে চেষ্টা করছে, থুঃ করে ফেলে দিচ্ছে । আর সরলার ছেলেটা গলির ভোলাদার দোকানে শক্ত ইট কেকের টুকরো পেলেই খুশি। তাও সবসময় হয়না। মেয়েদুটো হাঁ করে থাকে। দুটো কিনে একটা ছেলেকে দেয় আর একটা ভাগ করে মেয়েদের। আবার নোলা ঝরানো বুড়ি টের পেলে কুরকুর করবে। কার মুখে দেবে? শাশুরির চাপে পড়ে তিন তিনটে সন্তান নিয়েছে নইলে আজ এত কষ্ট হতোনা।
ঘরের দুয়ারে আসতেই দ্যাখে পাশের ঘরের বেবুশ্যে মেয়েছেলেটা দাঁড়িয়ে। রাম রাম মুখ দেখা পাপ। পাশ কাটিয়ে থু করে ঘরে চলে যায় সরলা। ভরদুপুরে দাঁড়িয়ে রঙ্গ করছে। বিশুর মাথা ঘোরাতে চেয়েছিলো, সরলা দিয়েছে গাল পেড়ে, বিষ ঝেড়ে। সেই থেকে কথা বন্ধ । মুখপুড়ি ।
খোকা।
আইলি?
হ্যাঁ। খোকা কই ?
ঘুম পড়সে।
খেয়েছে কিছু?
হ খাইসে। মাইয়া গুলান ইস্কুলে গ্যাছে।
আমি চান করে ভাত বসাচ্ছি।
ভাতডা বসায় দে না মুই জ্বাল দিতেন লাগি।
পেটে কি চিতা জ্বলে নাকি তোমার? সবুর করো। কি গরম। মরে গেলাম ।আসছি আসছি।
ফটফট করে ভাত ফোটার শব্দ আর গন্ধে মানদা নিজের সানকি টা নিয়ে উবু হয়ে বসে দুয়ারে।
অহ দুয়ার ছেড়ে বসো। হয়ে গেছে ভাত।
ওই রানছোস কি?
ডিমের ঝোল। নাও খেয়ে নাও। আমি ছেলেরে খাইয়ে আবার কাজে যাবো। আর হ্যাঁ সন্ধ্যার সময় এই বিস্কুট গুলো ছেলে মেয়ে গুলোরে দিও। আবার সব নিজে খেয়ে নিও না।

সবকাজ সেরে, কিছুটা ঝোল ডিম বিশুর জন্য রেখে সরলা আবার কাপড় পড়ে। ভাতে বারবার বুড়িকে জল দিয়ে দিতে বলে কাজে যায়। রাতে জলভাত। তিনবার রান্না করা সম্ভব না। সকালে উঠে রান্না করে সিদ্ধ ভাত । দুপুরে করে। রাতে করলে গ্যাস আর থাকবে না। তাও ভাতটা কখনও তোলা উনুনে বা স্টোভে সারে।
চালের দামের সাথে নাভিশ্বাস বাড়ে সরলার। সেদিন বেলা বৌদি কি সাদা ফকফকে ভাত গুলো ফেলে দিলো। সরলা লজ্জায় বলতে পারলো না আবার খেতেও পারলো না ,বাচ্ছাগুলো ঘরে। বেলা বৌদির সারা গায়ে গয়না। কি সুন্দর সুন্দর । চেহারা তো কালো মোষের মতন কিন্ত কপাল দ্যাখো। ভাবতে ভাবতে সরলা আগে তেইশ নাম্বার ফ্ল্যাটে ঢোকে। বাসন মেজে, ঘর ঝাট দেবার সময় দ্যাখে দুটো একশো টাকার নোট পড়ে আছে টেবলের তলায়। এই ফ্ল্যাটে বুড়ি মাসিমা ছাড়া আর কেউ নেই। হাতটা নিশপিস করে সরলার। এক কেজি মুরগীর মাংস হয়ে যাবে। কদিন ধরে মেয়েগুলো মাংস খাবার জন্য বায়না করছে। কিন্ত টাকাটা নিয়ে মাসিমার কাছে দিয়ে আসে সরলা। মা বলতো চুরির টাকায় ছেলে মেয়ের ভালো হয়না। যদি খেয়ে পেট খারাপ হয়?
মাসিমা সন্দেহের চোখে সরলা কে দ্যাখে বলেন, দুশো ছিলো?
গা জ্বলে যায় সরলার। একটা ছেলে বিদেশে থাকে পয়সা নিয়ে সগ্গে যাবে কিন্ত মুখে বলে হ্যাঁ তা নয়ত কি? আপনি খুঁজে দেখুন।
মেজাজ বিগড়ে যায় সরলার। না দিলেই হতো। বস্তির চঞ্চলের মা রাতে এসে থাকে মাসিমার সাথে। সকালে রান্না করে চলে যায়। ঠুকো কাজটা সরলা করে। সবাই জানে চঞ্চলের মা পাক্কা চোর। ঠিক করে বুড়ির বাড়িতে চুরি করে।
মুখের ঘাম মুছে বেলা বৌদির বাড়িতে ঢোকে। আজ একটু বেশী কাজ করে যাবে কাল আসবেনা। কিন্ত বললে ছুটি দেবেনা।

সবকাজ সেরে যখন বাড়িতে আসে তখন রাত আটটা। সবাই ভাবে কাজ করে কত টাকা সরলা আয় করে । কিন্ত ছটা লোকের পেট কেউ হিসাব করেনা। কিছু না কিছু শরীর খারাপ লেগেই আছে সবার তখন তো ওষুধ কিনতে সব শেষ। আর বাজার? সবজি ভাত খাবে সে উপায় আছে আজকাল?
ঘরে ঢুকেই দ্যাখে মেয়েরা ঝগড়া করছে মাথা গরম হয়ে যায়। দুটো মেয়েকে ধোলাই দিয়ে পড়তে বসায়। নিজে ক্লাস টেন অবধি পড়েছে সরলা। ছেলেটাকে অ আ ক খ পড়ায় বসে। বিশু রাত নটার আগে ফেরেনা। সারাদিন খাঁটুনির পর রাতে মাতাল স্বামীর আবদার। মাঝে মাঝে মনে হয় আর বাঁচবে না। কিন্ত ছেলে মেয়ের মুখ গুলো দেখে আবার শ্বাস ভরে বুকে।
একটা ঘরে তিনটে ছেলে মেয়ে শোয়। তারমাঝেই বিশুর রাতের টানাটানি। অসহ্য লাগে। কিন্ত আনাকানি করলে যদি পাশের ঘরের ঐ বৌয়ের দুয়ারে যায়? কতকিছু যে ভাবতে হয়।

পরদিন একটু ভোরে উঠে কাজ সেরে নেয়। দুপুরে আসতে দেরী হবে বলে মেয়ে দুটোকে বলে আজ স্কুল যাসনা। আজ বাবুনের জন্মদিন খাবার আনবো তোদের জন্য। ছেলে মেয়ের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। সরলা দুটো ভাতে ভাত ফুটিয়ে চলে যায় কাজে।
অনেক লোকজন আসবে তাই একটা ভালো ছাপা শাড়ি পড়ে নেয়। আবাসনের নীচে আসতেই বেলা বৌদির সাথে দেখা। কপালটা খারাপ। তড়িঘড়ি কিছু কাজ সেরে চলে আসে। আশিস দার বৌ চারটে কথা শুনায় কিন্ত কিছু করার নেই। সবকাজ খুব দ্রুত করতে থাকে সরলা। বুকে হাঁফ লাগে কিন্ত বসার সময় নেই । সকালে দুটো খেয়ে আসতে পারেনি , পেটটা মোচড় দিয়ে ওঠে।
রান্না যে করছে তার হাতে হাতে সব করে দেয়। গামলাটা সিলিন্ডারের পাশে রেখেছিলো দুপুরে পোলাও মাংস মিষ্টি আশিস দার বৌ নিজের হাতে তাতে ভরে দেয়। সরলার চোখটা চকচক করে ওঠে। বাচ্ছাগুলোর মুখ ভেসে ওঠে। যখন বৌদি খেতে বলে সরলাকে তখন সরলার আর খাওয়ায় মন নেই, এত ভ্যাপসা গরমে খাবার গুলো নষ্ট না হয়ে যায় সেই চিন্তা। কিন্ত কাজ শেষ হয়নি। সরলা বলে বৌদি দিয়ে আসবো খাবার গুলো বাড়িতে?
এখন যাবে?? সব কাজ পড়ে আছে।
নষ্ট হয়ে যাবে বৌদি।
আরে না না নষ্ট হবেনা।

যখন বেলাশেষে খাবার নিয়ে বাড়ি পৌছায় তখন ছেলে মেয়ে দুয়ারে দাঁড়িয়ে ছিলো। টকটক মাংস আর পোলাও। মাংসটা খাওয়া যাবেনা। আর যা গরম পেট খারাপ করবে। মিষ্টি আর পোলাও খাইয়ে সরলা মাংসটা ফেলে দিতে যায় কিন্তু বুড়ি ফেলতে দেয়না। সবটা বুড়ি দিদা খেয়ে নেয়।
সরলার খুব কষ্ট হয় মনে। আজ কতদিন ছেলে মেয়ে গুলো মাংস খেতে চাইছে। চোখের জল মুছে আবার কাজে বের হবার আগে ভাবে কাল দুটো পয়সা আগাম নিয়ে মাংস অবশ্যই আনবে। নিজে আজ মাংস খেলো ছেলে মেয়ে গুলো খেতে পারলোনা।
মাসিমার বাড়ি সকালে আসেনি বলে বুড়ি ক্যাটক্যাট করেই যাচ্ছে। সরলা ভাবছিলো এবেলা না আসলেও হতো। পুরো ফ্ল্যাট রোজ না মুছলে কি হয়? থাকে তো একা।
বকবক করেই যাচ্ছে সমানে। ছেলের বৌয়ের সাথে বনেনা সেজন্য একা থাকে বুড়ি। সারাক্ষণ কিটকিট। শাড়ি গয়নায় আলমারি ভরতি। বৌটা ভালো ছিলো। এখানে থাকতো সরলা দেখেছে। বাচ্ছা হয়না বলে সারাদিন কিটকিট করতো। চারবছর আগে ছেলে নিয়ে চলে গেছে। ওখানে গিয়ে নাকি ফুটফুটে মেয়ে হয়েছে । বেঁচেছে বৌটা।
কি রে কাজে মন নেই ?
না মাসিমা শরীরটা ভালো না।
ছুঁতোর অভাব নেই। আর কাল যে টাকা দিলি সেখানে তিনশো টাকা থাকার কথা।
কি বলছো কি মাসিমা? আমি আজ থেকে কাজ করি? সব বাড়ি সাত আট বছর করে হয়ে গেলো। কেউ কোনদিন বলতে পারলোনা এই কথা।
আমার মনে আছে তিনশো ছিলো।
কি আশ্চর্য ! ধুর আমি কাজ করবো না। আমায় ছেড়ে দাও ।
হ্যাঁ সেই ভালো। আমারও মনটা খুঁতখুঁত করবে। যা তোর কাজ করতে হবেনা।
আমার টাকা দাও। আজ উনিশ তারিখ।
সামনের মাসে নিয়ে যাস। আর শোন ঐ একশো টাকা কিন্ত বাদ যাবে।
কেন? না না আমায় পুরো টাকা দিতে হবে।
বাহ্ আমি যে একশো টাকা হারালাম।
তা আমি কি করবো? আমার বেতন পুরো দেবা। আমি গেলাম।
নিজের জলের বোতল আর ছোট্ট নোংরা ব্যাগটা রান্নাঘর থেকে নিয়ে বাসন গুলো গুছিয়ে রাখে সরলা। মনটা খিঁচে রইলো। বাসনের তাকের পাশে দলা পাঁকানো কাগজটা ফেলতে গিয়ে দ্যাখে পাঁচশ টাকার দুটো আর একটা একশো নোট গোঁজা। মনে হয় চঞ্চলের মা সুযোগ বুঝে ঝেপে রেখেছে পরে নিয়ে যাবে।
সরলা বুকে গুঁজে নেয় কাগজটা। মাসিমার কাছে গিয়ে ব্যাগটা রেখে বলে দেখে নাও আবার বলবে কি চুরি করে নিয়ে গেলাম।

রাস্তায় নেমে। সরলা শ্বাস নেয়। বুকের কাছে থেকে নোট দুটো বের করে। পাঁচশো টাকা দিয়ে মাংস কেনে অনেকটা। আর একশো টাকাটা গলির শনির মন্দিরে দিয়ে দেয়। বাকি পাঁচশো টাকায় কিছু খাবার কেনে আর বাজার করে। হাতে বাজার নিয়ে সরলা হাপাতে হাপাতে বাড়ির দিকে যেন ছুটতে থাকে। কেউ যেন তাড়া করছে, মায়ের কথা? নিজের ভয়? যদি পেট ভগবান দিয়েছেন তো পেট ভরানোটা অপরাধ কেন হবে? আমি তো ফূর্তি করতে না বাচ্ছাগুলোর পেট ভরাতে টাকা নিয়েছি, না না না আমি অপরাধী না।