কবিতা


প্রকাশিত : June 22, 2019 ||

ঈর্ষারোদ
ইউসুফ তাপস

শার্ট-প্যান্টের কাপড় কিনতে যাই
টি-শার্ট, গেঞ্জি, আন্ডারওয়ার কিনতে যাই
শাড়ির দোকানে থমকে দাঁড়াই
লিস্টটা কি তিন-চতুর্থাংশ বড়ো হবার কথা ছিলো?
একেকদিন বাজারে যাই
হাতে থাকে ছোট্ট লিস্ট
একেকদিন বাজারে গেলে হাতে কোনো লিস্ট থাকে না
বহুদিন বাজারে যাওয়াই হয়ে ওঠে না

দোকানে সজ্জিত শাড়ি
চড়াদামে বেচে দিচ্ছে বিক্রেতা
পার্শ্বছাদে উড়াল শাড়িতে এঁকে যাচ্ছি মুগ্ধতা
পোড়াচ্ছে ভীষণ একফালি ঈর্ষারোদ!

সৈয়দ কওসর জামাল
তুমিই ভেরলেন

পানশালার গেট দিয়ে বেরোতে বেরোতে তোমার কি মনে হল
আজ তুমি নিজেই ভেরলেন?
তোমারও কবিজীবন বেশ্যাসক্তি, সমকাম, ড্রাগ, অ্যালকোহলের
অগ্নিস্পর্শে গড়া?
তোমারও কি গার্হস্থ্যজীবন ঝুলে আছে সরু তারের ওপর, আর
দমকা হাওয়া এসে ভেঙে দেবে?
কেউ কি তির্যক চোখে তাকায় তোমার দিকে, যেন জেলপালানো
কয়েদি এসেছে এক তাদের পাড়ায়?
তারা কি তোমার সেই বন্ধুদের কথা জানে, যারা শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ
ইতিমধ্যে লিখে ফেলে অনুগামী হয়েছে তোমার?
কখনও তোমার বন্ধু কোনো র্যাঁেবো হয়ে এসেছিল কাছে, যার
তুমিই মেন্টর ছিলে, আবিষ্কার করেছিলে তাকে যত, তারো বেশি
ধ্বংস করেছিলে?
কখনও কি অভিশপ্ত ভেবেছ নিজেকে, যেন ঈশ্বরের শাপগ্রস্ত
তুমি, ঠিক যেভাবে ভেরলেন?
উত্তর দেবে না তুমি, আসলে উত্তর নেই এসব প্রশ্নের
ভেরলেন নিজেও কি জানতেন এতদিন পর দুর্বুদ্ধি পাঠক
তাঁর সঙ্গে জুড়ে দেবে প্রতিভাবিহীন কোনো বাঙালি কবিকে?

শব্দহীন কবিতা
মুস্তফা হাবীব

আশামণি,
তুমি এখন চম্পানদীর মোহনায় এসে কি শরীর ভেজাও!
ফিনফিনে নীল শাড়ির ভাঁজে ফুটে ওঠা সোনালি শস্যযুগল
আজও কি মূর্ত হয়ে ওঠে জলরঙে!
আজও কি তোমার বুকে আছাড় খেয়ে পড়ে দুপুরের রৌদ্র!
তোমার চোখের না বলা কথাগুলো কি আমার জন্য জমে আছে কালের খেয়ায়!

আজো আমি তন্ময় হয়ে পাঠ করি মাঝরাতে তোমার তনুশ্রী,
আজো তোমার কোমরের দোলা
আমাকে উপহার দেয় নৃত্যসম সুখ।

আসলে তুমি, তুমিই আমার গোপন মনিকা,
পৃথিবীর একটি শব্দহীন অসামান্য শ্রেষ্ঠ কবিতাও বটে
যাকে পাঠ করা আর কারোর সাধ্য হবে না ;
শুধু আমিই তোমাকে পাঠ করি,
পাঠ করেছিলাম এবং আমৃত্যু পাঠ করবো তোমাকেই।

মেধাবী মায়ারা জেগে ওঠে বারবার
পুষ্পিতা চট্টোপাধ্যায়

চারিপাশে দেখি মৃত্যুর পায়চারি
এঁকেবেঁকে চলে নাগিনীর হিসহিস
মরণের টীকা এঁকে দিয়ে যাবে বলে
জীবনের বুকে ঢেলে দেয় কড়া বিষ।

মৃত্যুরা বুঝি ঈর্ষাপ্রবণ হয়
চিতার আগুন অনন্তকাল জ্বলে
মৃত্যুর শেষে বিপণ্ণ ধারাপাত
কানে কানে যায় জীবনের কথা বলে।

তাই বারবার স্মৃতিময় বেঁচে থাকা
বেঁচে থাকা মানে নিবিড় শ্যামলছায়া
বেঁচে থাকা মানে ডায়েরির পাতা খুলে
শূন্য বাগানে জাগায় মেধাবী মায়া।

মেধাবী মায়ারা জেগে ওঠে বারবার
তুলি ক্যানভাসে আঁকে আনন্দ সুর
পটভূমি জুড়ে দুঃখভোলার গানে
মৃত্যুকে ছুঁড়ি দূর থেকে বহুদূর।

গুনব না কেউ নোনা সাগরের ঢেউ
তল্লাট জুড়ে বেহিসেবি পায়চারি
রামধনু থেকে সাতখানা রঙ নিয়ে
স্বপ্নের খোঁজে চলো দিই আজ পাড়ি।

অসম্মান
কোহিনূর রহমান কেয়া

অপমান, অপমান, অপমান,
অপমান তুমি করেছ যারে,
একদিন হতে হবে তাঁদের সমান!
ধৈর্য্য ধরে তুমি সংযত কর,
নিজেকে,নামিওনা ওদের কাতারে,
ওরা তোমায় কোনদিন, দিবে নাক দাম।

পৃথিবীর আলো বাতাস বইছে নিরবে,
বায়ু সক্রিয় থাকে তাঁর ইশারায়,
তিনিই জানেন সব, কে,কি হবে!
ক্রন্দন নাহি কর, বিভাজনে আর,
অশেষ যন্ত্রণা হবে যখন,
নিজেকে সংযত কর,নিজের ভিতর।

আহ্! কত মানব মানবি, আছে একাকী,
তাঁদের কষ্টের থেকে, আছ তুমি ভাল,
তাঁদের থেকে বেশ আছ, বাধিয়ে রাখি।
মনের গহীন কেনো, রাখ অন্ধকার —
তোমার কিসের ভয়, সেতো হবে আরো
তোমার থেকেও, আরো বেশি ভয়ংকর!

কতদিন, কতরাত, নির্ঘুম
কাটালে যাদের তরে,
তারা আজ, ভাবে কেমন করে,
অহেতুক বোঝা-
কষ্টের দাবানল জ্বলে আর নিভে,
নিজেকে সংযত রাখ,ওহে পথিকবর!

যে তোমাকে ছুড়ে দেয়,অথৈজলে,
হাবুডুবু খেতে খেতে, উঠে এস তীরে –
ওদের জন্য অপেক্ষাতে, আছে সেইদিন,
যেদিন তোমাকে ওরা, রেখেছিল নীরে।
ধৈর্য্য ধরে তুমি সংযত, কর নিজেকে,
নিজেকে নামিওনা আর,ওদের কাতারে।

বৃষ্টি মেয়ে
বঙ্গ রাখাল

বৃষ্টি মেয়ে -তুমি
যদি বুঝতে
হারানো সকাল কি করে লুকিয়ে যায় বুকের মধ্যে
মাকালের মৌণ ফেনায় হাফিয়ে ওঠে চৈতালী মন।

প্রেমমূলত না পাওয়া জীবন ।

গান্ধারীর আয়না ভেঙে গেলে
তুমি তুলে নিও বিষণ্ন বিকেল ।

এখানে মেয়ে আর মায়ের আজন্ম বিভেদের বেড়া ।

হাত বাড়ালেই
মেধাবী পাইথনের বর্ষাকদম
পুলকিত হয় -হাজার ইতিহাসের পারঙ্গমতা ।

প্রেম
হাসিদা মুন

আমি প্রেম !

দাঁতে মুখে নখে মিলে আমিও অনন্য এক ব্যক্তিসত্বা
কিছু বঞ্চনার ধারণা উৎপত্তি হয়
যাতে ঘৃণাও মিশানো থাকে
একইভাবে স্বীকার চায় একান্তে উপহার
বিনিময়ে দাবী- ‘ তুমি আমার হও ‘
সব বেঁটে নিংড়ানো ফোঁটায় গড়ানো অ্যান্টিডোট’
যদিও যিশু নই – তবুও সময়ের পেরেকে আমায় গেঁথে রাখে
সুদুর দ্বীপ, মরুদ্যান থেকে বয়ে আনি মায়াবী মদিরতা
বসন্তকে পূর্ণ করি- স্নিগ্ধ পত্র পল্লব শাখে

আমি এক অভিব্যক্তি !
মোটেই রাষ্ট্রদ্রোহী নই
তবুও দেশ-কাল-জাতি আমাকে তায়ায় পশ্চিম থেকে প্রাচ্য
প্রায়শ দুর্ভিক্ষে খা খা করে পুড়ে যাই
রমণীর কাঁখের বাঁকে
ত্রিকাল মিশানো পানপাত্র নিয়ে দাঁড়ানো থেকে
প্রেমের সৌরভে ভরি সমগ্র প্রান্তর- জল- বনভূমি …

আমি বাতাসের আদ্রতা !
মোমবাতিতে ভরা আলোর জাজ্বল্য আবাস
তবে শিখা নই
বিবর্ণ তাঁরায় ঢাকা বিমূর্ত অসীম আকাশ
সেখানেই বুনে যাই
অগ্নির ভাষায় ফিসফিস করা পুড়ে যাওয়া দীর্ঘশ্বাস
ঝর্ণা সাঁতরে পাখা মেলে উঠে যাওয়া একপাল রাজহাঁস

কল্পনার বুনো তীব্রতায় হিসাব না কষা বিমূর্ত ইতিহাস
নিয়মের হেরফেরে ঘোর অনিয়মের ভিতরেই আমার আজন্ম বসবাস …

আচ্ছা ঠিকাছে
ফিরোজ আহমেদ

আচ্ছা –
আমার নামেই নাহয় চিহ্নিত হলো এই কবিতা-সময় …

আচ্ছা ঠিকাছে
প্রকৌশলগত ভ্রান্তিহীনতায় আমার কবিতা …
না হয় হয়ে উঠেছে তুমুল
তবু এই আটান্নটি বর্ষা, এইসব দু’কুলপ্লাবী শ্রাবণ –
ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে- একটা বাসন্তী মলাটের খাতা
শরৎকালীন প্রচুর অক্ষর
আর –

দিগন্ত ফুঁড়ে বেরিয়ে যাওয়া একটা নিঃসীম প্রান্তরে –
আমি একা একা দাঁড়িয়ে থেকে এসব দেখছি।
দূরের হেমন্ত হারিয়ে যাচ্ছে শীতের ভেতর …।

এতদিন ধরে যতœ করে গুছিয়ে রাখা কবিতার পৃষ্ঠাগুলো
লেপ্টে গিয়েছে। গুলিয়ে ফেলেছে
দামী মনে করে গোপন রাখা বোধের বয়ান …
আসন্ন অন্ধকারের ভেতর মিলিয়ে যেতে চাইছে
একটা দীর্ঘ ছায়া।

দূরে ..
মৃত্যুরঙের সন্ধ্যা দেখে গেলে
অতঃপর আমি পায়ের পাতার দিকে মনোযোগী হলাম
দেখি একটা কালো পিঁপড়ে
জীবনের সব দায়িত্ব কাঁধে করে
ধীরে ধীরে …
আমার হৃদয়ের দিকে উঠে আসছে।

আর ওমনি ঠিক তক্ষুনি
হারানো কবিতাগুলোর জন্যে আমার
দুঃখ বোধ হলো খুব। শেষমেশ
খুব বড় একটা রাত্রি আর আমি পরষ্পরকে
কবিতা মনে করে নিয়ে পড়তে লেগে গিয়েছিলাম …

ফেলে আসা পথে
অনিমেষ চন্দন

একবুক চাওয়া পড়ে থাকে ফেলে আসা পথে
তোমার দৃষ্টির কাছে ঋণী হতে হতে
অপরাধী মুখ ঢাকি নিজের দু’হাতে

প্রথম স্পর্শ থেকে আমার বেড়ে উঠা চাওয়া পাওয়া
মান-অভিমান সবি তোমার সাথে সব দাবী দাওয়া
এখন নির্বাসিত আমিও আমার থেকে বহু বহু দুরে
কিভাবে সময় কাটে রাতদিন গুনটানি এপারের খেওয়া
ওপারে মন পড়ে স্বপ্ন ও আশা
কোথায় তোমাকে রাখি
কাকে বলি কোন মুখে কিসের হতাশা।

এখন সময় শূন্য হাতে আমি
হাজার রকম ব্যস্ততা ও শেষ
নতুন কোন স্বপ্ন ও নেই কোনো
যাচ্ছি যাবো সে সব দিনের মিলিয়ে গেছে রেস
এখন সকাল রাতদুপুর ও দিন
মুছেই চলি স্বপ্ন অমলীন
তুমি তখন ভাবছো অনেক কিছু
খোঁজ করো কি সে সব দিনের ঋণ?

আমি এখন বিদেশ বিভুঁই থাকি
তোমার চোখে আমার স্বদেশ দেখি
স্বপ্ন পোড়া দু’চোখ আমার দিনের জোনাকি
আশৈশব খুঁজে ফেরা স্বপ্নগুলো লুকাই একাকী।

বর্ণমালার ডালভাত এবং ভাঙা জাহাজ
ময়ূখ হালদার

তারপর ক্রমশ পিছলে যায় রাত্রির অহংকার
আমি সূর্যের বুকে কান পেতে শুনি
মোমবাতির নি:স্তব্ধ হাহাকার
এবং রক্তক্ষরণ

জোয়ারের জলে ভেসে গেছে মাছ
শেষ চিঠিতে লেখা ছিল কর্পূরের গান
বর্ণমালার ডালভাত
এবং ভাঙা জাহাজ
আমি তার হতভাগ্য ক্যাপটেন
মৃত ঈশ্বর

অমাবস্যার উঠোন
আজও ভেসে ওঠে চাঁদ
তারপর ক্রমশ পিছলে যায় রাত্রির অহংকার

যে-কবিতার সকল চরিত্র কাল্পনিক
আমিনুল ইসলাম

এবং সেই তুমি আমাকে এই আমাকে
অবহেলা করারও সাহস পাও। সুযোগও।
ফলে–মাঝে মাঝে কমা, ড্যাশ, সেমিকোলন, ব্রাকেট ইত্যাদি ।
আমি তো উত্তর-ঔপনিবেশিক প্রেমিক,
আমার ব্যাকরণে কোনো ফুলস্টপ নেই;
কিন্তু হে প্রাচীন পাঠশালা,
দাদির কলম নিয়ে হাতে– তুমিও তো বসাতে পারো না দাঁড়ি!

তুমিও বোঝো—এই উদারপ্রেমের অকালমৃত্যু শুধু আমাকেই
রাজ্যহীন করবে না,
সদ্যস্বাধীন তোমাকেও করে তুলবে–
চলার শুরুতেই বঙ্গবন্ধুহীন বাংলাদেশ।
নদী চাও অথচ উজান থেকে নেমে আসা বানকে ভাবো নাজায়েজ জল!
তো তুমিই বলো,–
হাজীদাদার জার থেকে জমজমের পানি নিয়ে কি
কোনো যমুনা বানানো যায় ?
নদীর জলে ঝর্ণা মেশে, বৃষ্টি মেশে;
মেশে ময়লা, মাটি; আরো কত কি!
সব নিয়েই শুদ্ধ গ্রোতস্বিনী।
জীবনটা খাঁটি সোনা নয়, শুধু খাদও নয়, খাদে ও সোনায় সোনার অলংকার।

চিঠির উত্তর দাও বা না দাও,– ভালো তো বাসোই;
মুখে ‘না’ ‘না’ শব্দ নিয়ে গাল পেতে দাও-
আমার তৃষ্ণার্ত ঠোঁটের সামনে;
এবং অর্থমন্ত্রীর মন নিয়ে-
আমার গালেও বরাদ্দ দাও চুম্বনের বিশেষ বাজেট;
প্রথম কিস্তি ব্যয়ও তাৎক্ষণিক।
তবুও কেন যে আমার চুম্বনকে অনুরাগের চাঁদাবাজি বলো!

হে মেয়ে, তুমি তো কবিতা ভালোবাসো; বাসি আমিও।
কিন্তু আজও বোঝোনি-
কবির চুম্বন গোপনে তাজমহল গড়ার যৌথ ফান্ড।
আর এই ফান্ডে বাইরের কন্ট্রিবিউশন গ্রহণীয় নয়—
হোক সে বন্ধুবেশী বিশ্বব্যাংক,
অথবা লুটেরা স্থানীয় কোটিপতি ।
প্রণয়ের ফান্ডে আমাদেরই দিয়ে যেতে হবে–
ভালোবাসার সিকি আধুলি নোট।

মাননীয় অর্থমন্ত্রী,– রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মহোদয়,
দেখুন-
গরীরের ঘামে রোদ লেগে চিকচিক করছে ভ্যাট,
মুক্তবাজার অর্থনীতির দাগটানা পথ ধরে
দিনদিন বেড়ে চলেছে করের পরিসীমা;
বাড়ুক্! শুধু এটুকু মিনতি–
দয়া করে আমাদের চুমুর ওপর ট্যাক্স বসাবেন না!
রাতরঙা ব্যাগহাতে এক্সটার্নাল অডিট যাক্ মেগা প্রজেক্টের বাড়ি!

আমার পিতার কথা বলছি শোনো
প্রভা পলি

বৃক্ষ এত বড় হতে পারে? দেয় পৃথিবীর মত ছায়া ?
বিমুগ্ধতায় ছড়াতে পারে
সব স্নেহ সব মায়া ?
কৃতজ্ঞতায় বোবা যে আমি
প্রাপ্তিতে ভাগ্যবতী
বুকের জমিনে পাই আমি তাঁর
আরাফাত প্রিয় জ্যোতি
আমি তাঁর কথা বলি শোনো
বলছি আমার পিতার কথা-
আমার আমাকে গড়ার পেছনে
তাঁর যে বদান্যতা
তার জন্ম ধরায় নয়
সে প্রেম বেহেশত থেকে আসা-
তাঁর আদরের ধারা বিধি ও বিধান আর তাঁর ভালোবাসা।
মা’র কোল ছেড়ে দোল খেয়ে খেয়ে যখনি গেছি সে বুকে
ঘুমিয়ে পড়েছি মহাশান্তিতে
কী যে পরম সুখে
শিশুকাল থেকে গেল এত বেলা
এত যে হলাম বড়
পিতার কাছে যে সেই প্রভা আমি
হয়নি তা নড়চড়
মা’র পাশাপাশি তাঁর কোনো ঋণ
শোধ হোক চাইনে
তাঁর তুলনায় শুরু শেষ তিনি
বিকল্প তো পাইনে
আর কিছু নয় আজ শুধু তাঁর
দোয়াটুকু আমি চাই
অপরাধ যদি কিছু হয় পিতা
ক্ষমা যেন আমি পাই।

জলপাই রঙের ভালোবাসা
মাহফুজ জোহা

কখনো তন্ময় হয়ে বসে থাকি
কালের সম্মুখে
যাচাই করি ধ্যানের মগ্নতা
তোমার জলপাই রঙের ভালোবাসা
হৃদপিন্ডে ভিড় জমায় আবারো
যা বিলিয়েছিলে হৃদয়ের সব কোণোয়
কোনো একদিন
তখন আকাশে প্রত্যাশার সাদাবৃষ্টি
আজ তার ঘাটতি পড়ার হেতু কী?
নক্ষত্রদের বলে দিয়েছি
ভাঙা সম্পর্কের কথা
জেনে গেছে জোছনার প্লাবনও
আর অন্ধকার?
সে তো এমন বিরহ ধারণ করেই
হারিয়েছে লাবণ্য
ফিরে পেতে চাই তাকে
সোহাগি এই সময়ে
সংশয়কে পরাজিত করে
সে আসবে কি?
পৃথিবী বিষাদে নীলাভ হয়েছে
বোবাকান্না বলেই হয়তো
অনেকে শুনে না-দেখে না
আমি প্রেমহীন ষোলোআনা বাঁচি না
ধরণীও তা-ই?
আমার ভালোবাসার নিজস্ব রং আছে
ধরিত্রীর ক্ষেত্রে কি একই কথা প্রযোজ্য হবে?

বেদনা
হাসান রাউফুন

নদীর পানির নেই কোনো বেদনা
হাওড় কিবা বিষ্টি
সবই লাগে মিষ্টি
কিন্তু আমার চোখের পানি
বলতে পারি কতখানি
কেউ বলে না বসে পাশে আর কেঁদো না
নদীর পানির নেই কোনো বেদনা।

যায় কি বলা ওরে
বুকের ভেতর স্বপ্নগুলো
শকুন হয়ে ঘোরে।
এই জীবনে দেয় না কেহ সাথ
আমার সকল দিন গিয়ে খায় রাত
কেউ বলে না বসে পাশে আর কেঁদো না
নদীর পানির নেই কোনো বেদনা।

মেঘ নেব আঁচল পেতে
পঞ্চানন মল্লিক
মেঘ যুক্ত মাঠে চল ছু-কিত-কিত খেলি,
যদি নেমে আসে বাদল কন্যারা,লনে আঁচল দেব পেতে
গরম দিনে শুধু মানুষ নয়,ব্যাঙেরাও হাপিত্তেস কাটে
আহা গাছেদের গরম ঘাম ধুঁয়ে যাক ঝাঁক ঝাঁক জলে
মানুষও ফিরে পাক কাক ভেজা শরীর
চল নেমে যাই হাহাহা-হুহুহু-হুহু।