আশাশুনি কাঁকড়া ধরা নিয়ে বিরোধে এক অন্ত:স্বত্ত্বা গৃহবধুসহ জখম ছয়: গ্রেপ্তার দুই


প্রকাশিত : জুন ২৫, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: একটি কাঁকড়া ধরাকে কেন্দ্র করে হামলায় ছয় মাসের এক অন্ত:স্বত্ত্বা গৃহবধুসহ ছয়জন জখম হয়েছেন। তাদেরকে আশাশুনি স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্স ও সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এদিকে হামলার তিনদিন পর ছয় মাসের অন্ত:স্বত্ত্বা গৃহবধু সদর হাসপাতালে সন্তান প্রসব করেছে। সন্তানটি মুমূর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহতরা হলেন, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের রাধারহাট গ্রামের আব্দুল¬াহ মল্লিকের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন (৩২), তাদের ছেলে রাহাতুল¬াহ, রাসেল, ইয়ামিন, আব্দুল¬াহ মলি¬কের ভাই গোলাম রসুল, তার স্ত্রী ফিরোজা খাতুন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মোক্তার হোসেন ও সবুজ হোসেন।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগের ৫নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ফাতেমা খাতুন জানান, তাদের গ্রামের খোকন মল্লি¬কের চিংড়ি ঘেরের বেড়িবাঁধের পাশে একটি কাঁকড়া ধরতে যেয়ে ব্যর্থ হয় তাদের প্রতিবেশি সবুজ হোসেন। গত শুক্রবার সকালে একইভাবে কাঁকড়াটি আবারো পূর্বের স্থানে দেখতে পেয়ে তার ছেলে রাহাতুল¬াহ ঘের মাল্লিককে অবহিত করে। এ সময় বৃহস্পতিবার সবুজ ওই কাঁকড়া ধরার চেষ্টা করে বলে মাল্লিককে অবহিত করে রাহাতুল্ল¬াহ। খোকন মল্লি¬ক তার ঘেরে কাঁকড়া না ধরার জন্য সবুজকে সতর্ক করে। এতে ক্ষুব্ধ সবুজ, মোক্তার, আক্তার, আইয়ুব ও আমিরুল শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের বাড়ির পাশে একা পেয়ে রাহাতুল¬াহকে শাবল দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিয়ে ব্যাপক নির্যাতন চালায়। মা ছয় মাসের অন্ত:স্বত্ত্বা ফতেমা খবর পেয়ে রাহাতুল্লাহকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে তাকে এলোপাতাড়ি লাথি, কিল, চড় ও ঘুষি মারার পর শাবল দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে ভাইপোদের মারপিটের কথা জানতে গেলে বাজার থেকে ফেরার পথে গোলাম মোস্তফা ও তার স্ত্রী ফিরোজা খাতুনকে পিটিয়ে জখম করা হয়। স্থানীয়রা ফিরোজাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ও অন্য পাঁচজনকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ভর্তি করে।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, হামলার ঘটনায় গোলাম মোস্তফা বাদি হয়ে শনিবার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মোক্তার ও সবজুকে গ্রেপ্তার করে রোববার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।