২১ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলার আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল


প্রকাশিত : জুন ২৬, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: অবশেষে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায় পুলিশ সকল আসামীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সদর থানার উপ-পরিদর্শক রকিব হোসেন মোলা এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।
অভিযোগ, আদালতে দাখিলকৃত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ৩০ মে উভয়পক্ষের হাতাহাতির কথা উল্লেখ করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১০জন সাংবাদিককে প্রেসক্লাবের মধ্যে ঢুকে একতরফাভাবে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করার ঘটনাকে পুলিশ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে। ঘটনার ২৭ দিনেও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো হামলাকারিদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্যাতিত সাংবাদিকরা বলেন, গত ৩০ মে প্রেসক্লাবের বহিস্কৃত চার সদস্যের নেতৃত্বে শতাধিক বহিরাগত সন্ত্রাসী রড, হকিস্টিকসহ দেশি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। এতে সভাপতি আবু আহম্মদ, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহম্মদ বাপ্পি, আব্দুল জলিল, কল্যাণ ব্যাণার্জী, আব্দুল বারীসহ ১০জন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় রাতেই ২৪ জনকে আসামী করে সদর থানায় একটি মামলা করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহম্মেদ বাপ্পি।
এদিকে চারজন হামলাকারি নিজেদের বাঁচাতে কৌশলে হাসপাতাালে ভর্তি হন। একইভাবে হামলাকারিদের পক্ষ থেকে মনিরজ্জামান তুহিন বাদি হয়ে প্রেসক্লাব সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২১ জনের নামে একই রাতে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন জেনেও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান ২ জুন রাতে ওই মামলা রেকর্ড করেন। বিষয়টি জানতে পেরে ৩ জুন দুপুর সোয়া দু’টোর দিকে মনিরুজ্জামান তুহিনের দায়েরকৃত মামলার আসামীরা স্বেচ্ছায় গ্রেপ্তারের জন্য থানা চত্বরে অবস্থান নেন। এক ঘন্টা পর হামলাকারিরাও স্বেচ্ছায় কারাবরনের জন্য থানায় অবস্থান নিলে অস্বস্তিতে থাকা সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মবকর্তা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়েন। একপর্যায়ে ৯ জুনের মধ্যে তুহিনের দায়েরকৃত মামলার চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল ও মমতাজ আহম্মেদ বাপ্পির দায়েরকৃত মামলা স্বাভাবিকভাবে চলবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইলতুৎ মিশের এমন আশ্বাসের ভিত্তিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২১জন অবস্থান প্রত্যাহার করেন।
এদিকে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উলেখ করা কয়েকজন সাক্ষী নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা রকিব হোসেন মোলা তাদের বক্তব্য বিকৃত করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজনের উপর বর্বোরচিত হামলার ঘটনা উভয়পক্ষের হাতাহাতির ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। এটা দুর্ভাগ্যজনক।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বলেন, একতরফা নির্যাতনের ঘটনাটি উভয়পক্ষের হাতাহাতির ঘটনা উল্লেখ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের মধ্য দিয়ে পুলিশ হামলাকারিদের বাঁচাতে চেয়েছে। তাছাড়া গরীবের চাল চুরি করে বিক্রির সময় তাড়া খেয়ে অন্যের ধানের গোলার মধ্য থেকে আটককৃত ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম, বহিরাগত সন্ত্রাসী আাকাশ, তুহিনসহ তাদের সহযোগীদের বাঁচাতে চাইছে। এছাড়া তাদের উপর হামলাকারিরা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পুলিশ লাইনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও ঘটনার ২৭ দিনেও তাদের একজনকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
দু’টি মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক রকিব হোসেন মোল্লা বলেন, ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে নয়, উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করেই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেই আসামীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।