কালিগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ


প্রকাশিত : June 27, 2019 ||

বিশেষ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জের পল্লীতে যৌতুকের দাবিতে তাছলিমা খাতুন (২০) নামে এক গৃহবধূকে ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সে উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের বাজার গ্রাম রহিমপুর গ্রামের আবু বক্কার সিদ্দিকের মেয়ে ও দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের আব্দুল মাজেদের ছেলে মোহাম্মদ এবাদুল ইসলাম (২৬) এর স্ত্রী। গৃহবধূর ভাই আমিনুর রহমান (৩২) জানান, অনুমান ৩ বছর পূর্বে তার বোন তাছলিমা খাতুন (২০) এর সাথে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের আব্দুল মাজেদের ছেলে মোহাম্মদ এবাদুল ইসলাম (২৬) এর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের দাবিতে তার বোনের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে তার বোনের স্বামী এবাদুল ইসলাম (২৬) ও তার মা পপি পারভীন (৪০)।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মিমাংসা হয়। কিন্তু যৌতুক লোভী এবাদুল ইসলাম এবং তার মা পপি পারভীন মিমাংসার বিষয় তোয়াক্কা না করে তার বোনের উপর নির্যাতন চালাতে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ জুন (রবিবার) বেলা ১ টার দিকে তার বোন তাছলিমার কাছে ১ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে। এসময় তার বোন টাকা দিতে অস্বীকার করলে তার স্বামী এবাদুল ইসলাম ও তার মা পপি পারভীন আদলা ইট দিয়ে তাছলিমার মুখে আঘাত করে। আঘাতে তাছলিমার ঠোট ও দাঁতে লেগে সামনের দুইটি দাঁত ভেঙ্গে গুরুতর জখম হয়।
এরপর তাছলিমাকে হত্যার উদ্দেশ্য এবাদুল ও তার মা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে মৃত ভেবে ফেলে রেখে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা আশংকাজনক অবস্থায় তার বোনকে উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাছলিমাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
কালিগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম আজিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন বলেন, এঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ তাছলিমার স্বামী এবাদুলকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরণ করেছে। অপর আসামি পপি পারভীনকে আটকের চেষ্টা চলছে।