সংসদে দেশে অর্থনীতিতে সাতক্ষীরার অবদান তুলে ধরলেন এমপি রুহুল হক


প্রকাশিত : জুন ২৮, ২০১৯ ||

 

পত্রদূত ডেস্ক: জাতীয় সংসদে দেশের অর্থনীতিতে সাতক্ষীরার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা বিস্তারিত তুলে ধরে সাতক্ষীরায় অর্থনেতিক জোন গড়ে তোলা, বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন, সুপেয় পানি ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আরো ১৩২.৩৩ কেবিএ গ্রিড বিদ্যুতের দাবি জানিয়েছেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের সাংসদ সাবেক সফল স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ. ফ. ম রুহুল এমপি।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসব দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমাদের আর্ত্মসামাজিক অবস্থা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ১০ বছর শাসন করে ১১ বছরে নিয়ে গেছে। গড় আয়ু ৭২ বছরে চলে এসেছে। জন্মহার ১.৩৭ এর মধ্যে রাখতে পেরেছি অনেক দিন ধরে। অপ্রতিরোধ্য যে অগ্রযাত্রা চলছে তা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া সম্ভব নয়।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যেভাবে দেশ চালাচ্ছেন আমরা যদি আরো ১৫টি বছর পাই তাহলে ডিজিটাল বাংলাদেশ কেন, ন্যানো বাংলাদেশ, ইন্টারনেট কিংস অব বাংলাদেশ,বায়োটেকনোলজীর বাংলাদেশ, অন-কাম কম্পিউটারের বাংলাদেশ,এআইএটু ভিশনের বাংলাদেশ মানুষ দেখতে পাবে। যে গ্লোবাল এ্যায়ার্ড গুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে তা আপনারা সকলেই জানেন। আমার সৌভাগ্য তাঁর সাথে কাজ করার সুবাদে এমডিজি প্রাইজগুলো তাঁর হাতে তুলে দিতে পেরেছিলাম।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন আমি দেশের দক্ষিণাঞ্চল সাতক্ষীরা-৩ থেকে নির্বাচিত। সাতক্ষীরা বলতে সকলেই বোঝে জঙ্গির দেশ, সন্ত্রাসের দেশ। সেই জঙ্গি আর সন্ত্রাসকে আমরা বিদায় করেছি। এখানে উন্নত বাংলাদেশকে তৈরি করেছি।
সাতক্ষীরার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সাতক্ষীরা ভোমরাস্থল বন্দর প্রায় ১২ শ কোটি টাকা আয় করি। চিংড়ী মাছ, সাদা মাছ বিক্রি করে আড়াই হাজার কোটি টাকা আয় করি। দুধ উৎপাদনে বাংলাদেশে তৃতীয় স্থানে আমরা। প্রতিদিন গড়ে সাতক্ষীরায় ১০০মেট্টিকটন দুধ উৎপাদন হয়।
চাল ও ধানে আমরা প্রায় ৬ লক্ষ্য মেট্রিকটন উৎপাদন করি, আমাদের লক্ষ্য মাত্রা ১শ লক্ষ্য মেট্রিকটন। এ হিসাবে সাতক্ষীরা একটি উদ্বৃত্ত এলাকা। উদ্বৃত্ত এলাকা হিসেবে আমরা নেতৃত্ব প্রায়ই পাইনা। সন্ত্রাসমুক্ত করতে হইলে সুন্দর সংগঠন তৈরি করতে হবে।
বাজেটে অর্থ বছরে সাতক্ষীরার জন্য ব্রিজ কালভার্ট ৩০৬, সাইক্লোন সেল্টার ৪১টি, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ, ভোমরা স্থল বন্দর, সুন্দরবন পর্যটন কেন্দ্র, প্রস্তাবিত রেল লাইন, সাতক্ষীরা বাইপাস সড়ক, আশাশুনি বাইপাস, মানিকখালী ব্রিজ, বড়দল ব্রিজ, ঘোলা- কোলা সহ উন্নয়নের ধারা অব্যহত রয়েছে।
এলাকার মানুষের কিছু দাবি দাওয়া রয়েছে, আমাদের এলাকায় জলাবদ্ধতা রয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরাসন করা প্রয়োজন। আমরা বিদ্যুৎ পাচ্ছি, বিদ্যুতের উন্নয়ন অনেক হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুতের সকল সময় সঠিকভাবে পাইনা। সেজন্য কালিগঞ্জে একটি ১৩২.৩৩ কেবিএ গ্রিড উপকেন্দ্র প্রয়োজন।
আরো অনেকগুলো জিনিসের প্রয়োজন তার মধ্যে সাতক্ষীরা বিশ^বিদ্যালয়, অর্থনৈতিক জোন গড়ার প্রয়োজন ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা খুবই প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্যখাতে কিছু অব্যবস্থাপনা রয়েছে। আমাদের ১২-১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য খাতে অব্যবস্থাপনার মধ্যে মেডিকেল যন্ত্রপাতি ক্রয়ে অনিয়ম, ডাক্তারদের অনুপস্থিতি, উপজেলা থেকে রোগীদের ট্রান্সপার এর নিয়মটাও আমরা এখনও পরিবর্তন করতে পারিনি। হাসপাতাল ও সরঞ্জাম রক্ষনাবেক্ষনের একটি ভীষণ সমস্যা হয়েছে। এটা অনেক দেশে সমস্যার সমাধান হয়েছে আমিও মনে করি আমাদেরও করা সম্ভব হবে।
এ বছর স্বাস্থ্যখাতে বাজেট ৪.৯২%, হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা বেড়েছে ১০ হাজার, কমিউনিটি ক্লিনিক বেড়েছে ১৬ হাজার কিন্তু সেই অনুযায়ী আমাদের বাজেটের হার যদি কমতেই থাকে তাহলে স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয়ের ব্যবস্থাপনা করে দেয়া সম্ভব না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় দিয়েছে ৪টি, ¯œাতকত্তোর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশেষায়িত হাসপাতাল রয়েছে ২৮টি, মেডিকেল কলেজ আছে ৩৬টি, বেসরকারি আছে ৬৯টি, সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে সহকারি ও সহযোগী অধ্যাপক পদে ৫ হাজারের বেশি পদ খালি। সারা বাংলাদেশ সরকারি ও বেসরকারি মিলে ১১১টি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। প্রতি বছর দেশে ১০ হাজার ডাক্তার তৈরি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ৫ বছর পরে ৮৫ হাজার ডাক্তার বেকার হবে। তাদের কর্মসংস্থান নিয়ে ভাবতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা প্রত্যেকেই মেডিকেল কলেজ চাই। কলেজ না চেয়ে আমাদের জেলা হাসপাতালকে যদি স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে পারি, ডাক্তারদের উপস্থিতি যদি নিশ্চিত করতে পারি তাহলেই এলাকার মানুষ সকল সুযোগ সুবিধা পাবে।