শাহীনের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩: ভ্যান উদ্ধার


প্রকাশিত : জুলাই ২, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটায় দরিদ্র কিশোর শাহীনের উপর হামলার পর ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছিনতাই চক্রের প্রধান নাইমুলসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইলতুৎ মিশ এর নেতৃত্বে ৪৮ ঘন্টার অভিযানে জেলা ও জেলার বাইরের বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান তার কার্যালয়ে প্রেস বিফ্রিংয়ের আযোজন করে এ খবর নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সুপার জানান, ২৭ জুন নাইমুলসহ অজ্ঞাত ৩জন গোপন মিটিং করে কিশোর ভ্যান চালক শাহীনকে ফোন করে পরদিন কলারোয়ায় ভাড়া ঠিক করে। সকালে শাহিন কেশবপুর বাজারে আসলে ৩৫০টাকা ভাড়া চুক্তি করে কেশবপুর থেকে নাইমুলসহ ৩ জনকে নিয়ে রওনা হয়।
এরপর কেশবপুর থেকে ভ্যানে উঠে সরসকাটি চৌগাছা হয়ে ধানদিয়া জামতলা মোড়ে ফাঁকা জায়গায় পৌছে শাহীনকে ভ্যান থামিয়ে বাড়ি চলে যেতে বলে এবং বাড়ি গিয়ে কোন কিছুই জানাতে নিষেধ করে।
শাহীন ভ্যান দিতে রাজি না হওয়ায় তারা ভ্যানের লোহার সাথে শাহীনের মাথায় আঘাত করে অচেতন অবস্থায় পাট ক্ষেতে ফেলে রেখে যায়। পরে তারা ঝাউডাঙ্গা বাজারে গিয়ে বাকের আলীর কাছে ভ্যানের চারটি ব্যাটারি সাড়ে ৬ হাজার টাকায় ও কলারোয়ার মির্জাপুর মোড়ের আরশাদ পাড়ের কাছে ভ্যানটি সাড়ে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি করে সমান ভাগে ভাগ করে নেয়।
পুলিশ সুপার আরো জানান, যশোরের কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের বাবর আলীর ছেলে মূল পরিকল্পনাকারি নাইমুলকে তার নিজ বাড়ি থেকে এবং ঝাউডাঙ্গা বাজারের বাকের আলী ও কলারোয়ার মির্জাপুরের আরশাদ পাড়কে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনার সাথে জড়িত এখনও ৩জনকে পুলিশ গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান।
গত ২৮ জুন শুক্রবার জীবিকা নির্বাহের তাগিদে যশোরের কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের হায়দার আলী মোড়লের ছেলে কিশোর শাহীন ভ্যান চালাতে বের হয়। এ সময় তার ভ্যানে কয়েকজন যাত্রীবেশী ছিনতাইকারী ওঠে। তাদের নিয়ে কলারোয়ায় যাওয়ার পথে ধানদিয়া গ্রামে পৌঁছালে যাত্রীবেশী দুর্বৃত্তরা তার মাথা ফাটিয়ে রক্তাক্ত জখম ও অচেতন করে ফেলে রেখে ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায়। বর্তমানে মুমূর্ষু অবস্থায় সে ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার চিকিৎসার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।